নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সীমানা বর্ধিতকরণ সংক্রান্ত গণশুনানি অনুষ্ঠিত
নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সীমানা বর্ধিতকরণ সংক্রান্ত গণশুনানি অনুষ্ঠিত

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সীমানা বর্ধিতকরণের বিষয়ে জনমত যাচাইয়ের লক্ষ্যে সোমবার সকাল সাড়ে ১১ টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোঃ রায়হান কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই গণশুনানিতে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব নিলুফা ইয়াসমিন, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব এডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু, সাবেক সদর উপজেলা চেয়ারম্যান এড. আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাস, নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জীবন, নারায়ণগঞ্জ জার্নালিস্ট ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক এস এম জহিরুল ইসলাম বিদ্যুৎ, ইঞ্জিনিয়ার শহিদুল ইসলাম খান এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
গণশুনানিতে বক্তারা প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত কয়েকটি এলাকা সিটি কর্পোরেশনের আওতায় আনার প্রস্তাব করেন। এর মধ্যে রয়েছে ফতুল্লা ইউনিয়নের ১, ২, ৩ ও ৪ নম্বর ওয়ার্ড, খানপুরের কিছু অংশ, এনায়েতনগর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড ব্যতীত অন্যান্য অংশ এবং কাশিপুর ইউনিয়নের কিছু অংশ।
তবে বক্তারা বলেন, আংশিকভাবে অন্তর্ভুক্তি করলে প্রশাসনিক জটিলতা বাড়বে। তাই এনায়েতনগর ইউনিয়নকে অন্তর্ভুক্ত করতে হলে পুরো ইউনিয়নকেই নিতে হবে। একইসাথে গোগনগর ইউনিয়নকে সিটি কর্পোরেশনের অন্তর্ভুক্ত করার জোর দাবি জানানো হয়।
গণশুনানিতে ফতুল্লা থানার ৪টি ইউনিয়ন এবং গোগনগর ইউনিয়নসহ মোট ৫টি ইউনিয়নকে সিটি কর্পোরেশনে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব ওঠে। পরবর্তীতে বক্তারা পুরো ফতুল্লা থানাকেই নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের আওতায় নেওয়ার আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোঃ রায়হান কবির বলেন, নারায়ণগঞ্জের নগরায়ণ দ্রুত বাড়ছে। নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে সিটি করপোরেশনে সীমানা বর্ধিতকরণ এখন সময়ের দাবি।জনগণের মতামতের গুরুত্ব আমাদের কাছে অপরিসীম এবং অনেক মূল্যবান তাই আপনাদের মতামত জানতে গণশুনানির ব্যবস্থা করেছে জেলা প্রশাসন। আজকের গণশুনানিতে উঠে আসা সকল মতামত ও প্রস্তাব সরকারের কাছে সুপারিশ আকারে পাঠানো হবে। জনগণের চাওয়া এবং পরিকল্পিত নগর উন্নয়নকে সমন্বয় করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সভায় অংশগ্রহণকারীরা আশা প্রকাশ করেন, সীমানা বর্ধিত হলে জলাবদ্ধতা নিরসন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, রাস্তা ও ড্রেনেজসহ নাগরিক সেবার মান বাড়বে।
গণশুনানির কার্যবিবরণী স্থানীয় সরকার বিভাগে পাঠানোর পর সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সীমানা বর্ধিতকরণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে বলে জানা গেছে।

