সারাদেশ

নারায়ণগঞ্জ সদরে ১৫৮ স্কুলের শিক্ষার্থীদের নিয়ে ডেঙ্গুবিরোধী পরিচ্ছন্নতা অভিযান

নারায়ণগঞ্জ সদরে ১৫৮ স্কুলের শিক্ষার্থীদের নিয়ে ডেঙ্গুবিরোধী পরিচ্ছন্নতা অভিযান

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সদরে ১৫৮ স্কুলের শিক্ষার্থীদের পরিচ্ছন্নতা অভিযান,“ছোটবেলা থেকেই স্বাস্থ্য সচেতনতা গড়ে তুলতে চাই” : ইউএনও ফয়েজ উদ্দিন

 

ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধ ও জলাবদ্ধতা নিরসনে অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা প্রশাসন। উপজেলার ১৫৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের নিয়ে সাপ্তাহিক পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু করেছে প্রশাসন।

 

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম ফয়েজ উদ্দিনের উদ্যোগে উপজেলার ১১৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ৪৪টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে স্বেচ্ছাসেবী দল গঠন করা হয়েছে। এসব দলের শিক্ষার্থীরা নিজ প্রতিষ্ঠানের আঙিনা ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও পানি জমে থাকা স্থান চিহ্নিত করার কাজ করছে।

 

আজ সোমবার উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ে একযোগে এ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। শিক্ষার্থীরা ঝাড়ু, ব্লিচিং পাউডার ও স্প্রে নিয়ে বিদ্যালয়ের ছাদ, টয়লেট, ড্রেন ও পরিত্যক্ত স্থান পরিষ্কার করে। পাশাপাশি সহপাঠীদের মাঝে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ ও প্রচারণা চালানো হয়।

 

ইউএনও এস এম ফয়েজ উদ্দিন বলেন,শিক্ষার্থীদের ছোটবেলা থেকেই পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্য সচেতনতায় দায়িত্বশীল করে গড়ে তোলাই আমাদের মূল লক্ষ্য। ডেঙ্গু ও অন্যান্য মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে শুধু স্প্রে বা ওষুধ নয়, জনসচেতনতাই সবচেয়ে বড় অস্ত্র।

 

তিনি আরও বলেন, আমরা নিয়মিতভাবে এ কার্যক্রম পরিচালনা করছি। প্রতি মঙ্গলবার মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং প্রতি বৃহস্পতিবার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে এই সচেতনতামূলক পরিচ্ছন্নতা অভিযান চলবে। আমার বিশ্বাস, শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে এই বার্তা প্রতিটি ঘরে পৌঁছে যাবে।

 

উপজেলা প্রশাসন জানায়, এই উদ্যোগের মাধ্যমে একদিকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও এর আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা হচ্ছে, অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ সুরক্ষা ও জনস্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা তৈরি হচ্ছে। প্রশাসনের প্রত্যাশা, শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে এই কার্যক্রম ধীরে ধীরে পুরো সমাজে পরিচ্ছন্নতার একটি ইতিবাচক আন্দোলনে রূপ নেবে।

 

কার্যক্রমে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও অভিভাবকরাও শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করেন। অভিভাবকরা এ ধরনের উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় বলে অভিহিত করেছেন।

Leave a Reply

Back to top button