অবাঞ্ছিত ঘোষণার পরও নারায়ণগঞ্জে পাটোয়ারী, কোথায় রেজা রিপন?
অবাঞ্ছিত ঘোষণার এক মাস পর নারায়ণগঞ্জে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী: কোথায় ফতেহ মোহাম্মদ রেজা রিপন?

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে নারায়ণগঞ্জে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণার ঠিক এক মাস পর প্রকাশ্য রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। গত ১ আগস্ট যে বিএনপি নেতারা তাঁকে প্রতিহত করার হুংকার দিয়েছিলেন, আজ শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) তাঁর নারায়ণগঞ্জ সফর ও পথসভায় সরব উপস্থিতির পর সেই ঘোষণার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সচেতন মহল।
গত ১ আগস্ট নারায়ণগঞ্জ শহরের মিশনপাড়া এলাকায় মহানগর বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে নারায়ণগঞ্জে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছিল। এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের বিভিন্ন বক্তব্যে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের অভিযোগে ওই কর্মসূচি পালন করে বিএনপি। সেই সমাবেশে অন্যতম প্রধান বক্তা হিসেবে হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছিলেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ফতেহ মোহাম্মদ রেজা রিপন। তিনি জোরালো কণ্ঠে পাটওয়ারীকে নারায়ণগঞ্জে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে প্রতিহত করার আলটিমেটাম দিয়েছিলেন।
কিন্তু সব ঘোষণা আর হুঁশিয়ারিকে পেছনে ফেলে আজ শনিবার ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের অংশ হিসেবে নারায়ণগঞ্জের মদনপুরে আয়োজিত পথসভায় যোগ দেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। এর আগে তাঁর নারায়ণাগঞ্জ সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন জেলা এনসিপির আহ্বায়ক যুবাইর সরদার। বিদ্যুৎ, গ্যাস ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে পাটওয়ারীর সাবলীল উপস্থিতি এবং রাজনৈতিক বক্তব্য স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের জন্ম দিয়েছে।
এদিকে এই ঘটনার পর থেকেই সবচেয়ে বেশি আলোচনা শুরু হয়েছে ফতেহ মোহাম্মদ রেজা রিপনকে নিয়ে। যিনি এক মাস আগে পাটওয়ারীকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন, আজ পাটওয়ারীর নারায়ণগঞ্জ সফরের দিনে তাঁর কোনো প্রকাশ্য উপস্থিতি বা নতুন প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। ফলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের প্রশ্ন—যে নেতা এক মাস আগে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, সেই রেজা রিপন আজ কোথায়? দলীয় ঘোষণা কি তবে কেবল কথার কথাই ছিল? নাকি স্থানীয় রাজনীতিতে এর পেছনে অন্য কোনো কৌশল কাজ করছে?
অন্যদিকে এনসিপির পক্ষ থেকে শুরু থেকেই এই সফর নিয়ে কোনো ধরনের শঙ্কা বা ভয়ের অবকাশ ছিল না বলে জানানো হয়েছে। জেলা এনসিপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই লংমার্চ কোনো দলীয় সংকীর্ণতার জন্য নয়, বরং সাধারণ মানুষের অধিকার আদায় ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে আয়োজিত।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এক মাসের ব্যবধানে বিএনপির ঘোষিত ‘প্রতিরোধ’ ও বর্তমান বাস্তবতার এই বৈপরীত্য নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে দলের অভ্যন্তরীণ নীতিনির্ধারণী দুর্বলতাকেই ফুটিয়ে তুলেছে। এখন দেখার বিষয়, এই সফরের পর স্থানীয় বিএনপি নেতৃত্ব বা স্বয়ং রেজা রিপন এই বিষয়ে কী ধরনের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানান।

