আংশিক নয়, পুরো ফতুল্লা ইউনিয়নকে সিটিতে দেখতে চায় এলাকাবাসী
আংশিক নয়, পুরো ফতুল্লা ইউনিয়নকে সিটিতে দেখতে চায় এলাকাবাসী

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সাথে ফতুল্লা ইউনিয়নকে আংশিকভাবে নয়, বরং সম্পূর্ণ ইউনিয়ন হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার জোরালো দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। রবিবার (২৬ জুলাই ২০২৬) ফতুল্লার সর্বস্তরের সাধারণ নাগরিক ও ভোটারদের পক্ষে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের নিকট আনুষ্ঠানিকভাবে একটি স্মারকলিপি পেশ করা হয়েছে।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, ইতিপূর্বে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সাথে ফতুল্লা ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডের সম্পূর্ণ অংশ এবং ৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডের আংশিক অংশ সংযুক্ত করা হলেও ১, ২, ৩ ও ৪ নং ওয়ার্ডের সম্পূর্ণ অংশ এবং ৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডের বাকী অংশ বাদ রয়ে গেছে। অথচ বাদ পড়া এই গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতেই রয়েছে সরকারের একাধিক প্রশাসনিক ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র।
বাদ পড়া ওয়ার্ডগুলোর মধ্যে রয়েছে— নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদ কার্যালয়, সদর উপজেলা কার্যালয়, এলজিআরডি কার্যালয়, ফতুল্লা থানা কার্যালয়, মূল পোস্ট অফিস, ভূমি অফিস, একাধিক সরকারি-বেসরকারি ব্যাংক ও বিমা অফিস, পদ্মা ও যমুনা জ্বালানি তেলের স্থাপনা, স্থায়ী পশুর হাট, ঐতিহ্যবাহী ফতুল্লা লঞ্চঘাট ও রেলস্টেশন, ফতুল্লা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, ঢাকা-মুন্সিগঞ্জ পুরাতন মহাসড়ক, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড এবং সহস্রাধিক রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠান ও কলকারখানা।
এলাকাবাসী জানান, উল্লেখিত ওয়ার্ডগুলোতে কোনো গ্রামীণ অবকাঠামো বা কৃষি জমি নেই। এলাকাটি আদিকাল থেকেই মূল শহর হিসেবে পরিচিত। তবে অপরিকল্পিত নগরায়ন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাবে সামান্য বৃষ্টিতেই মারাত্মক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়, যা এই এলাকার বাসিন্দাদের নিত্যদিনের দুর্ভোগে পরিণত হয়েছে। সম্পূর্ণ ইউনিয়নটি সিটি কর্পোরেশনের আওতায় এলে নাগরিকদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে এবং সিটি কর্পোরেশনের উন্নয়ন বাজেটে এই এলাকাটি উপযুক্ত রাজস্ব যোগান দিতে সক্ষম হবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
স্মারকলিপিতে এলাকাবাসীর পক্ষে স্বাক্ষর করেছেন মোহাম্মদ বোরহান উদ্দিন, হুমায়ুন কবির খাঁন, মোহাম্মদ মারুফ চৌধুরী, মো. জাফরসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও ভোটাররা। এলাকাবাসী অবিলম্বে এই দাবির বাস্তবায়ন ও প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসকের সদয় হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

