ডেঙ্গু প্রতিরোধে ও চাষাড়া-সাইনবোর্ড সড়কের নান্দনিকতা ফেরাতে ডিসির কঠোর নির্দেশনা
ডেঙ্গু প্রতিরোধে ও চাষাড়া-সাইনবোর্ড সড়কের নান্দনিকতা ফেরাতে ডিসির কঠোর নির্দেশনা

বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গুর প্রকোপ রোধ এবং নগরীর সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনতে নারায়ণগঞ্জের ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের চাষাড়া থেকে সাইনবোর্ড পর্যন্ত সড়ক বিভাজকের বাগানে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবিরের নির্দেশনায় রবিবার সকাল থেকে এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
দীর্ঘদিন ধরে অপরিচ্ছন্ন থাকায় সড়কের মাঝের বাগানটি ঝোপঝাড়ে পরিণত হয়েছিল। এতে এডিস মশার প্রজনন এবং ময়লা-আবর্জনায় পরিণত হয়েছিল।
জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা আগাছা, প্লাস্টিক বর্জ্য ও জঙ্গলের মতো বেড়ে ওঠা ঘাস কেটে অপসারণ করেন। একই সঙ্গে আগে রোপণ করা ফুল ও শোভাবর্ধনকারী গাছের গোড়া পরিষ্কার, ছাঁটাই ও বিশেষ পরিচর্যা করা হয়।
অভিযান প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির বলেন, শুধু ঘটা করে গাছ লাগালেই দায়িত্ব শেষ হয় না। একটি চারা গাছকে শিশুর মতো যত্ন করে বড় করতে হয়। তবেই তা নগরীকে অক্সিজেন ও সৌন্দর্য দেবে। বর্তমানে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার। সড়কের আইল্যান্ডগুলো নিয়মিত পরিষ্কার রাখলে মশার বংশবিস্তার যেমন রোধ হবে, তেমনি শহরের সৌন্দর্যও বাড়বে।
তিনি আরও বলেন, উন্নয়ন ও পরিচ্ছন্নতা কোনো সাময়িক বিষয় নয়, এটি চলমান প্রক্রিয়া। নারায়ণগঞ্জকে একটি আদর্শ, বাসযোগ্য ও গ্রিন-ক্লিন সিটি হিসেবে গড়ে তুলতে জেলা প্রশাসন বদ্ধপরিকর। তবে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সকল নাগরিকদেরও সচেতন হতে হবে। যত্রতত্র ময়লা ফেলা বন্ধ না করলে কোনো উদ্যোগই টেকসই হবে না।তিনি আরো বলেন, সম্প্রতি আমি জেলার সকল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযানের জন্য কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেছি।এবং তারই ধারাবাহিকতায় পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চলমান রয়েছে সকল উপজেলায়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, অভিযানের পর লিংক রোডের ব্যস্ততম অংশের চেহারা পাল্টে গেছে। ঝোপঝাড় সরে যাওয়ায় সারি সারি ফুলগাছ এখন দূর থেকেই চোখে পড়ছে। নিয়মিত যাতায়াতকারী বাসযাত্রী ও পথচারীরা জানান, আইল্যান্ড পরিষ্কারের ফলে যাতায়াতে স্বস্তি বেড়েছে। সময়োপযোগী এই উদ্যোগের জন্য তারা জেলা প্রশাসককে ধন্যবাদ জানান।
স্থানীয় পরিবেশবাদী ও সচেতন মহলও এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। ডেঙ্গু মৌসুমে এমন পদক্ষেপকে তারা অত্যন্ত জরুরি বলে মন্তব্য করেন এবং এই কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার আহ্বান জানান।

