বিবিধ

মরদেহের শেষ যাত্রায় মর্যাদাপূর্ণ সেবা: নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের অনন্য উদ্যোগ

মরদেহের শেষ যাত্রায় মর্যাদাপূর্ণ সেবা: নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের অনন্য উদ্যোগ

নাগরিক সেবাকে আরও মানবিক, গতিশীল ও মর্যাদাপূর্ণ করতে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে জেলা পরিষদ। সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে শহরের প্রাণকেন্দ্রে আধুনিক ‘লাশ গোসলের ঘর’ ও ‘অ্যাম্বুলেন্স রাখার স্থান’ (স্ট্যান্ড) নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।

​আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে জেলা এলজিইডি (LGED) ভবনের বিপরীতে প্রকল্পের নির্ধারিত স্থানটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ। পরিদর্শনকালে তিনি কাজের গুণগত মান বজায় রেখে দ্রুততম সময়ের মধ্যে নির্মাণকাজ সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।

​সব ধর্মের মানুষের জন্য উন্মুক্ত ও বিনামূল্যে সেবা

​জেলা পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, এই আধুনিক স্থাপনাটিতে সব ধর্মের মানুষের মরদেহ রাখার সুব্যবস্থা থাকবে। এছাড়া সংকটাপন্ন মুহূর্তে বা মৃত্যুর পর যেন স্বজনদের ভোগান্তিতে পড়তে না হয়, সেজন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে মরদেহ নিজ নিজ গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার বিশেষ ব্যবস্থাও রাখা হবে এই প্রকল্পে।

​”মানুষের জীবনের শেষ যাত্রাটুকুও যেন যথাযথ সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে সম্পন্ন হয়, সেই চিন্তা থেকেই আমরা এই আধুনিক লাশ গোসলের ঘর ও অ্যাম্বুলেন্স স্ট্যান্ড নির্মাণ করছি। পাশাপাশি এখানে অ্যাম্বুলেন্স স্ট্যান্ড থাকলে জরুরি রোগী পরিবহন আরও সহজ হবে। জনকল্যাণই জেলা পরিষদের মূল লক্ষ্য এবং এই মানবিক অগ্রযাত্রা সর্বদা অব্যাহত থাকবে।”

— অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, প্রশাসক, জেলা পরিষদ।

​কমবে জনদুর্ভোগ

​জরুরি মুহূর্তে সাধারণ মানুষ যেন দ্রুত অ্যাম্বুলেন্স সেবা পায় এবং মরদেহের শেষকৃত্যের প্রক্রিয়া যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও সম্মানের সঙ্গে সম্পন্ন করা যায়, সেই লক্ষ্যেই এই প্রকল্প। শহরের কেন্দ্রস্থলে এই আধুনিক স্থাপনাটি নির্মিত হলে স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ অনেকাংশে কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা।

​পরিদর্শনকালে উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ

​প্রকল্প স্থান পরিদর্শনকালে প্রশাসকের সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন:

​আহসান উল্লাহ মজুমদার (উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, নারায়ণগঞ্জ সড়ক বিভাগ)

​আনোয়ার হোসেন (উপ-সহকারী প্রকৌশলী, সওজ)

​আব্দুল্লাহ আল নোমান (উপ-সহকারী প্রকৌশলী, সওজ)

​মোহাম্মদ নাহিদুল ইসলাম (সহকারী প্রকৌশলী, জেলা পরিষদ)

​স্থানীয় সচেতন মহল জেলা পরিষদের এই মানবিক ও জনবান্ধব উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তাদের মতে, এটি বাস্তবায়িত হলে অঞ্চলের চিকিৎসা ও অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সেবায় এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপিত হবে।

Leave a Reply

Back to top button