সারাদেশ

​ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে চাঁদাবাজির রাজত্ব: অভিযুক্ত টিআই সেলিম ও নজরুল

​ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে চাঁদাবাজির রাজত্ব: অভিযুক্ত টিআই সেলিম ও নজরুল

 

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে বিভিন্ন পরিবহন থেকে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে আসছে টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতি নজরুলের নামে। পরিবহন সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে চালক ও মালিকদের কাছ থেকে নিয়মিতভাবে চাঁদাবাজি আদায় করে আসে নজরুল। আর নজরুলকে আইনি সহায়তা দিচ্ছে টাঙ্গাইল জেলা ট্রাফিকের টিআই সেলিম রেজা। এই সড়কে চলাচলরত ট্রাক, কাভারভ্যান, পিকআপ, ড্রাম ট্রাক, মাটি-বালির ট্রাক, মুরগি গাড়ি, মাছের গাড়ি এবং মাইক্রোবাস হতে চিহ্নিত চাদাঁবাজ নজরুল প্রতি গাড়ি হতে ১৫০০ হতে ২০০০ টাকা মাসিক চাদাঁ নিয়ে আসিতেছে।

তার অধিনে ৮০০ গাড়ি ব্যানারের আওতায় এনেছে। বিভিন্ন জেলা এবং মেট্রো এলাকার টিআই সার্জেন্টকে প্রতি মাসে ২০/৩০/৪০ হাজার টাকা মানতি দেওয়ার পরেও তার মাসিক আয় ৪ হতে ৫ লাখ টাকা। সে প্রাইভেট কারে ঘুরে ঘুরে চাদাঁ কালেকশন করে। তার মোবাইল সিম ১৫ হতে ২০ টি। প্রতি মাসে ব্যানারের নাম পরিবর্তন করে থাকে। এক মাসে আনারস, অন্য মাসে যমুনা। পরিবহন জগতের চিহ্নিত চাদাঁবাজ নজরুল এবং সহযোগী টাঙ্গাইলের টিআই সেলিম রেজার কারণে মালবাহী গাড়ির ভাড়া দিনদিন বেড়ে পরায়, দ্রব্যমূল্যের দামও বেড়ে যাচ্ছে। ফলে জিনিসপত্র মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাহিরে চলে যাচ্ছে। এই ভাবে ব্যানারের নাম পরিবর্তন করা হয়। এই সব গাড়িতে কাগজপত্রের মেয়াদ নাই কিম্বা কাগজপত্র ছাড়া চলে আসছে। টাঙ্গাইলের সার্জেন্টরা মামলা দেওয়ার সাহস পায় না। শুধুমাত্র মোটরসাইকেলে মামলা এবং ভূয়া বই তৈরি করে রেকার বিল করে। ব্যানারের গাড়ি ধরলেই চালক নজরুলকে ফোন দেয় এবং নজরুল প্রাকাশ্যে বলে” টিআই সেলিমের সাথে যোগাযোগ আছে”।

তখন সার্জেন্ট সাহেব গণ টিআই সেলিমের ভয়ে ছেড়ে দেয়। গোপনসূত্রে জানা যায়, টিআই সেলিম এই নজরুলের নিকট হতে প্রতি মাসে ৬০০০০ (ষাট হাজার) টাকা মানতি নিয়ে থাকে। নজরুলের চাঁদাবাজি কারনে পরিবহন খাতে বাড়ছে ব্যয়, আর এর প্রভাব পড়ছে যাত্রীদের ওপরও। চালক ও পরিবহন মালিকদের দাবি, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে নানা ধরনের হয়রানি ও চাপের মুখে পড়তে হয়। দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের কর্মকা- চললেও কার্যকরভাবে বন্ধ হচ্ছে না বলে অভিযোগ তাদের।

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে সাম্প্রতিক সময়েও অভিযোগ সামনে এসেছে। এর মধ্যে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়।

পরিবহন সংশ্লিষ্টরা চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি মহাসড়কে নিয়মিত নজরদারি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, চাঁদাবাজি বন্ধ করা গেলে পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফিরবে এবং যাত্রীসেবার মানও উন্নত হবে।

Leave a Reply

Back to top button