
নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের জালকুড়ি পশ্চিমপাড়া মাজার রোড এলাকার বাসিন্দা ও ওয়ার্ড সচিব রনি হোসেনের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, সাবেক কাউন্সিলর ইসরাফিলের ঘনিষ্ঠ ও তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতা শামীম ওসমানের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার পরও তিনি বহাল তবিয়তে নিজ পদে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাবেক কাউন্সিলর ইসরাফিলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সুবাদেই রনি হোসেন ওয়ার্ড সচিবের দায়িত্ব পান। স্থানীয়দের অভিযোগ, সাবেক কাউন্সিলর ও ওয়ার্ড সচিব রনি হোসেন—দুজনই ওই সময়ের প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব শামীম ওসমানের অনুসারী ছিলেন। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সভা, মিছিল ও দলীয় কর্মসূচিতে তাদের নিয়মিত অংশগ্রহণ ছিল বলে দাবি এলাকাবাসীর। এমনকি তাদের একসঙ্গে কিছু ছবি ও রাজনৈতিক দৃশ্যও রয়েছে বলে স্থানীয়দের ভাষ্য। তবে এসব ছবি ও দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই সাপেক্ষ।
এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, ওয়ার্ড সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে সাধারণ নাগরিকরা বিভিন্ন সেবা নিতে গেলে তাদের সঙ্গে প্রায়ই দুর্ব্যবহার করা হতো। সাবেক কাউন্সিলরের প্রভাব ও ছত্রছায়া থাকার কারণে সে সময় কেউ তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পাননি।
অভিযোগ রয়েছে, সচিবের দায়িত্ব পালনকালে রনি হোসেনের অর্থনৈতিক অবস্থার লক্ষণীয় পরিবর্তন ঘটেছে। স্থানীয়দের দাবি, বর্তমানে তার মালিকানায় ২০ থেকে ৩০টি অটোরিকশা এবং বেশ কিছু জমিও রয়েছে। তবে এসব সম্পদের প্রকৃত উৎস ও মালিকানার বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত ও যাচাই করা প্রয়োজন।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটলেও রনি হোসেন কীভাবে এখনও বহাল তবিয়তে ওয়ার্ড সচিবের দায়িত্বে বহাল রয়েছেন—তা নিয়ে স্থানীয় মহলে তীব্র প্রশ্ন উঠেছে। বিতর্কিত রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও একই পদে তার টিকে থাকা নিয়ে জনমনে অসন্তোষ বিরাজ করছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ওয়ার্ড সচিব রনি হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যাচাই সাপেক্ষে প্রতিবেদনের পরবর্তী অংশে তুলে ধরা হবে।

