জাতীয়সারাদেশ

ঘুষমুক্ত ভূমি সেবা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশংসিত নারায়ণগঞ্জের ডিসি

ঘুষমুক্ত ভূমি সেবা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশংসিত নারায়ণগঞ্জের ডিসি

 

আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, মাদক ও কিশোর গ্যাং নির্মূল সহ সরকারি সকল সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন টানা অভিযান পরিচালনা করে যাচ্ছে। বিশেষ করে দালাল ও ঘুষমুক্ত ভূমি সেবা নিশ্চিত করতে কঠোর নির্দেশনার বাস্তবায়নের ফলে জেলাবাসী এখন ভোগান্তি ছাড়াই দ্রুত ভূমি সেবা পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

সার্বিক সকল ক্ষেত্রে সাফল্যের কারণে জেলার সর্বমহলে প্রশংসিত হচ্ছেন নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোঃ রায়হান কবির।

 

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক মাস ধরে নারায়ণগঞ্জের সকল থানা, উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ ও অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে যৌথ অভিযান চলছে। মাদক বিক্রি ও সেবনের স্পটগুলোতে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে কিশোর গ্যাং, চাঁদাবাজি ও আতঙ্ক সৃষ্টির বিরুদ্ধে স্কুল-কলেজ ও জনবহুল এলাকায় সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

 

জেলা প্রশাসক মোঃ রায়হান কবির বলেন, তরুণ প্রজন্মকে অপরাধের পথ থেকে ফেরাতে আমরা শুধু আইনি ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করছি না। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলাই আমাদের মূল লক্ষ্য।

 

নারায়ণগঞ্জের ভূমি অফিসগুলোতে দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল দালালের দৌরাত্ম্য ও হয়রানির। এ অবস্থার পরিবর্তনে জেলা প্রশাসন কঠোর মনিটরিং শুরু করে। হেল্পডেস্ক স্থাপন, অনলাইন আবেদন ট্র্যাকিং এবং অভিযোগ বাক্সের মাধ্যমে সেবা প্রক্রিয়া সহজ করা হয়েছে।

 

ফলাফল ইতিবাচক। খাজনা, নামজারি ও রেকর্ড সংশোধনের মতো সেবা এখন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এবং অতিরিক্ত অর্থ ছাড়াই পাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। সদর উপজেলার সেবা গ্রহীতা রফিকুল ইসলাম বলেন, “আগে একটা নামজারির জন্য মাসের পর মাস ঘুরতে হতো। এখন কাগজ জমা দেওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যে কাজ হয়ে যাচ্ছে। কাউকে এক টাকাও বাড়তি দিতে হয়নি।

 

জেলা প্রশাসক জানান, সরকারি সেবা নাগরিকের অধিকার। কোনো দালাল বা অসাধু কর্মকর্তা এখানে ছাড় পাবে না। আমরা সপ্তাহে একদিন আকস্মিক পরিদর্শন করছি এবং অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নিচ্ছি।

 

শুধু ভূমি নয়, জন্মনিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্স, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ও ত্রাণ বিতরণেও ডিজিটাল পদ্ধতি ও মাঠ পর্যায়ের তদারকি বাড়ানো হয়েছে। ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারগুলোকে সক্রিয় করে প্রত্যন্ত এলাকার মানুষ যাতে সহজে সেবা পায়, সেজন্য বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সুশীল সমাজের নেতারা বলছেন, সমন্বিত উদ্যোগের কারণে নারায়ণগঞ্জে প্রশাসন ও জনগণের মধ্যে আস্থার জায়গা তৈরি হয়েছে।

 

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, মাদক ও কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান এবং সেবা খাতে স্বচ্ছতা আনার কারণে নারায়ণগঞ্জের ব্যবসায়ী, শিক্ষক, সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষ জেলা প্রশাসকের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করছেন।

 

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নারায়ণগঞ্জের এই মডেল অন্যান্য জেলার জন্যও অনুসরণীয় হতে পারে। স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও মাঠ পর্যায়ের নিবিড় তদারকির সমন্বয়ে প্রশাসনিক সেবার যে পরিবর্তন এখানে দেখা যাচ্ছে, তা জনগণের আস্থা ফেরাতে বড় ভূমিকা রাখছে।

 

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, এই অগ্রযাত্রা ধরে রাখতে অভিযান ও মনিটরিং কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।

Leave a Reply

Back to top button