অপরাধ

ফতুল্লায় ঘুমন্ত স্বামীকে গলা ও দু’হাতের কবজি কেটে হত্যার অভিযোগ স্ত্রীর বিরুদ্ধে

ফতুল্লায় ঘুমন্ত স্বামীকে গলা ও দু’হাতের কবজি কেটে হত্যার অভিযোগ স্ত্রীর বিরুদ্ধে

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় পারিবারিক দ্বন্দ্ব ও পরকীয়া সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ঘুমন্ত স্বামীকে অত্যন্ত নৃশংসভাবে গলা কেটে ও দুই হাতের কবজি কেটে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে। নিহত ব্যক্তির নাম জাহাঙ্গীর (৪১)। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ঘাতক স্ত্রী ফারজানা আক্তার মুন্নি (৪৫)-কে আটক করেছে পুলিশ।

সোমবার (২৯ জুন, ২০২৬) সকাল আনুমানিক ১০:৩০ ঘটিকায় ফতুল্লা থানাধীন পূর্ব দেলপাড়া এলাকার একটি চানাচুর ফ্যাক্টরি সংলগ্ন ওই দম্পতির নিজস্ব পাকা বাড়িতে এই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

​পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে জাহাঙ্গীর ও তার স্ত্রী ফারজানা আক্তার মুন্নির মধ্যে পারিবারিক কলহ ও পরকীয়া সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে তীব্র বিরোধ চলছিল। আজ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্বামী জাহাঙ্গীর যখন ঘরে ঘুমন্ত অবস্থায় ছিলেন, তখন পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে ঘরে থাকা ধারালো চাপাতি ও ছোরা দিয়ে তার ওপর হামলা চালান মুন্নি। তিনি ঘুমন্ত জাহাঙ্গীরের গলা কেটে এবং দুই হাতের কবজি কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করেন।

​হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জনাব মাহাবুব আলম-এর নেতৃত্বে পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জনাব মো: আনোয়ার হোসেন ও সঙ্গীয় ফোর্স দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পুলিশ ঘরের ভেতর থেকেই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে নিহতের স্ত্রী ফারজানা আক্তার মুন্নিকে হেফাজতে নেয়। একই সাথে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা একটি চাপাতি ও একটি ছুরি উদ্ধার করে পুলিশ।

​ঘটনাস্থলে উপস্থিত ফতুল্লা মডেল থানার এসআই মনোয়ার হোসেন নিহত জাহাঙ্গীরের মরদেহের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করেন। পরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি সদর জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।

​স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে পুলিশ প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছে, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পরকীয়া ও নানাবিধ দাম্পত্য কলহের জেরে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডটি ঘটিয়েছেন স্ত্রী।

​এলাকাবাসী সূত্রে আরও জানা গেছে, আটককৃত ফারজানা আক্তার মুন্নির এর আগেও একটি সংসার ছিল এবং সেই সংসারে তার দুটি সন্তান রয়েছে। পরবর্তীতে জাহাঙ্গীরের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পর এই বর্তমান সংসারেও তাদের দেড় বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান/ছেলে সন্তান রয়েছে।

​ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে এবং আটককৃত আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত আছে।

Leave a Reply

Back to top button