সনমান্দীতে প্রথম নারী চেয়ারম্যান প্রার্থী, উৎসবে মেতেছে এলাকাবাসী
সনমান্দীতে প্রথম নারী চেয়ারম্যান প্রার্থী, উৎসবে মেতেছে এলাকাবাসী

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার সনমান্দী ইউনিয়নে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে নতুন ইতিহাসের সূচনা হতে যাচ্ছে। প্রথমবারের মতো চেয়ারম্যান পদে নারী প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় এসেছেন বিউটি আক্তার। তার প্রার্থীতার খবরে এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।
বিউটি আক্তার সনমান্দী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান বিল্লাহ হোসেনের একমাত্র মেয়ে। বর্তমানে তিনি সোনারগাঁও উপজেলা বিএনপির সহ মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং উপজেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেছেন। পারিবারিকভাবে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকায় ছোটবেলা থেকেই তিনি সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাবেক চেয়ারম্যান বিল্লাহ হোসেন সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হওয়ার পর বিউটি আক্তার পরিবারের বড় সন্তান হিসেবে দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন। এ সময় তিনি ও তার স্বামী, সনমান্দী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোসলেহউদ্দিন, হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রাখেন।
পাশাপাশি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থেকে তিনি দ্রুতই জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়ায় স্থানীয়দের আস্থা অর্জন করেছেন তিনি।
সনমান্দী ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের শিক্ষিত ও সচেতন ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিগত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তাকে প্রার্থী করার জন্য সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে জোর দাবি থাকলেও সে সময় রাজনৈতিক পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকায় তিনি নির্বাচন করেননি। তবে এবার দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের অনুরোধে তিনি চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
সাজালেরকান্দি গ্রামের সুরুজ মিয়া বলেন, “বিউটি আক্তার নির্বাচন করবেন শুনে খুব ভালো লাগছে। মনে হচ্ছে যেন ঈদের আনন্দ ফিরে এসেছে। আমরা তাকে চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চাই।”
ফতেপুর গ্রামের নাসির উদ্দীন বলেন, “তিনি একজন শিক্ষিত ও সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান। তার বড় ছেলে বিদেশে উচ্চশিক্ষা নিচ্ছে এবং ছোট ছেলে হাফেজ—এটি তার পারিবারিক মূল্যবোধের পরিচয়।”
এ বিষয়ে মোসলেহউদ্দিন বলেন, “বিউটি আক্তার একজন সাবেক জনপ্রিয় চেয়ারম্যানের সন্তান। তিনি তার পিতার আদর্শকে ধারণ করে রাজনীতি করছেন। এলাকাবাসীর অনুরোধেই তিনি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।”
বিউটি আক্তার বলেন, “আমার বাবার অসমাপ্ত কাজগুলো সম্পন্ন করাই আমার লক্ষ্য। সনমান্দী ইউনিয়নের মানুষের সেবা করতে আমি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি। ইনশাআল্লাহ, জনগণের সমর্থন নিয়েই এগিয়ে যাবো।”
এদিকে, তার প্রার্থীতার ঘোষণাকে ঘিরে সনমান্দী ইউনিয়নে দলমত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা মনে করছেন, এ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইউনিয়নের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ হবে।

