লাইফস্টাইল

বিচারব্যবস্থা ও আইনজীবী মহলের প্রতি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ

দলের দুর্দিনে জীবন বাজি রেখে লড়েছি, আজ নিজেকেই তুচ্ছ মনে হয়’: আবেগঘন পোস্টে এডভোকেট বারী ভূইয়া

নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়ায় বিএনপিপন্থী আইনজীবী হিসেবে নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক ও আইনজীবী জীবনের নানা ত্যাগের কথা তুলে ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি আবেগঘন পোস্ট দিয়েছেন ফতুল্লা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট বারী ভূইয়া। পোস্টে তিনি দলের দুর্দিনে আন্দোলন-সংগ্রাম, মামলা পরিচালনা, গ্রেপ্তার এড়াতে পলাতক জীবন, হামলার শিকার হওয়া এবং পরিবারের ওপর এর প্রভাবের কথা তুলে ধরে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন।

 

নিজের ফেসবুক পোস্টের শুরুতেই বারী ভূইয়া লিখেছেন, ‘আজ নিজের কাছে নিজেকে একেবারে তুচ্ছ মনে হয়।’ এরপর দলের দুর্দিনে নিজের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন—কেন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন, কেন সন্তানদের অধিকার নষ্ট করে বিপুল অর্থ ব্যয় করে আইনজীবী সমিতির নির্বাচন করেছেন এবং কেন রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে এত ত্যাগ স্বীকার করেছেন।

 

পোস্টে তিনি দাবি করেন, দলের কঠিন সময়ে তিনি রাজপথে সক্রিয় ছিলেন এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা পরিচালনা করেছেন। সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক, সাবেক নির্বাচন কমিশন এবং সাবেক ডিএমপি কমিশনার শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা করার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

 

এ ছাড়া বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মামলাগুলো নিয়েও নিজের অবস্থানের কথা তুলে ধরেছেন বারী ভূইয়া। তার দাবি, বিভিন্ন ধরনের ‘লোভনীয় অফার’ থাকা সত্ত্বেও তিনি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে আন্দোলনের আসামিদের পক্ষে মামলা পরিচালনা করেননি। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও মামলার কারণে তার বিরুদ্ধে মোট ২৬টি মামলা হয়েছে।

 

নিজের ত্যাগের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি আরও লিখেছেন, মামলা-মোকদ্দমার কারণে তাকে আদালতের স্বাভাবিক কার্যক্রম থেকে দূরে থেকে পলাতক জীবন কাটাতে হয়েছে। এমনকি বৃদ্ধ বয়সে হামলার শিকার হয়ে মারও খেয়েছেন বলে পোস্টে উল্লেখ করেন তিনি।

 

তবে তার পোস্টের সবচেয়ে আবেগঘন অংশটি এসেছে নিজের মেয়েকে নিয়ে। বারী ভূইয়ার দাবি, তিনি বিএনপি করার কারণে তার মেয়েকেও এর ‘মূল্য’ দিতে হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বার কাউন্সিলের ভাইভা পরীক্ষার সময় বিচারপতি আবু আহমেদ জমাদার ও রুহুল কুদ্দুস বাবু তার মেয়ের কাছে বাবার নাম জানতে চান এবং এরপর তাকে ভাইভা বোর্ড থেকে বের করে দেওয়া হয়।

 

এ ঘটনাকে নিজের জীবনের সবচেয়ে কষ্টদায়ক স্মৃতিগুলোর একটি হিসেবে তুলে ধরে বারী ভূইয়া লিখেছেন, মেয়ের কান্না তিনি এখনো ভুলতে পারেননি। পোস্টটি লেখার সময়ও তার চোখে পানি এসেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

 

পোস্টের শেষদিকে তিনি বিচারব্যবস্থা ও আইনজীবী মহলের প্রতি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একটি ব্যক্তিকে ইঙ্গিত করে তার আইনজীবী হিসেবে যোগ্যতা নিয়েও কটাক্ষ করেন এবং একই সঙ্গে নারায়ণগঞ্জ আদালতে নারী ও শিশু বিষয়ক পাবলিক প্রসিকিউটরের দায়িত্ব নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

 

বারী ভূইয়ার এই পোস্ট মূলত একজন রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় আইনজীবীর দীর্ঘদিনের ত্যাগ, ক্ষোভ, প্রত্যাশা ও ব্যক্তিগত বেদনার বহিঃপ্রকাশ। দলের দুর্দিনে নিজের ভূমিকার স্বীকৃতি না পাওয়া এবং রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে পরিবারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে—এমন একটি অভিমানই পোস্টটির মূল সুর।

 

তবে তার পোস্টে উত্থাপিত বিচারক, বার কাউন্সিলের ভাইভা এবং বিভিন্ন মামলার বিষয়ে যেসব অভিযোগ করা হয়েছে, সেগুলোর স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া গেলে এসব অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।

 

রাজনীতির মাঠে দীর্ঘদিন সক্রিয় থাকা একজন আইনজীবীর এমন প্রকাশ্য আত্মক্ষোভ এখন নারায়ণগঞ্জের বিএনপিপন্থী আইনজীবী মহলেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে দলের দুর্দিনে যারা মামলা-হামলা ও আন্দোলনের মধ্যে সক্রিয় ছিলেন, তাদের রাজনৈতিক ও পেশাগত অবদান ভবিষ্যতে কীভাবে মূল্যায়িত হবে—বারী ভূইয়ার পোস্ট সেই প্রশ্নটিই নতুন করে সামনে এনেছে।

Leave a Reply

Back to top button