সিদ্ধিরগঞ্জে সাদিয়া হত্যা: মূলহোতা গ্রেপ্তার, আদালতে স্বীকারোক্তি
সিদ্ধিরগঞ্জে সাদিয়া হত্যা: মূলহোতা গ্রেপ্তার, আদালতে স্বীকারোক্তি

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে আলোচিত পোশাককর্মী সাদিয়া আক্তার (২৩) হত্যাকাণ্ডের মাত্র ১০ দিনের মধ্যে মূল রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), নারায়ণগঞ্জ।
এ ঘটনায় জড়িত মূল আসামি ও ভুক্তভোগীর পরকীয়া প্রেমিক মোঃ আব্দুর রাজ্জাক ওরফে আরিয়ান (২৫) কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রাজ্জাক আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
পিবিআই সূত্রে জানা যায়, নিহত সাদিয়া আক্তার সিদ্ধিরগঞ্জের একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। গত ১৩ জুলাই সিদ্ধিরগঞ্জের বাতানপাড়া এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মৃতদেহের নাক-মুখ দিয়ে রক্ত নির্গত হচ্ছিল এবং গলায় আঘাতের চিহ্ন ছিল। এ ঘটনায় নিহতের ভাই মোঃ রিয়াজ মোল্লা বাদী হয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার প্রাথমিক এজাহারে নিহতের ২য় স্বামী মোঃ ইব্রাহিম (২৭) কে ১ নং আসামি করা হয়। পিবিআই ১৬ জুলাই তাকে গ্রেপ্তার করে ২ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং তথ্যাদি যাচাই-বাছাই শুরু করে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে জেলা পিবিআই কার্যালয়ে পিবিআই নারায়ণগঞ্জ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানান।
ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় দেখা যায়, ক্যাপ পরিহিত এক ব্যক্তি নিয়মিত ওই বাসায় আসা-যাওয়া করতেন। নিহতের ৬ বছরের কন্যা তাহিয়া (০৬) তাকে “আরিয়ান চাচ্চু” হিসেবে শনাক্ত করে। তথ্য-প্রযুক্তির বিশ্লেষণে জানা যায়, “আরিয়ান” ছদ্মনামধারী ওই ব্যক্তির প্রকৃত নাম মোঃ আব্দুর রাজ্জাক (২৫)।
গত ২১ জুলাই বিকালে ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধীন জিনজিরা এলাকা থেকে মূল আসামি রাজ্জাককে গ্রেপ্তার করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, আসামি রাজ্জাক ওরফে আরিয়ান নিজেকে অবিবাহিত পরিচয় দিয়ে বিবাহিত ও সন্তানের জননী সাদিয়ার সঙ্গে পরকীয়া প্রেম গড়ে তোলেন। রাজ্জাকের প্ররোচনায় সাদিয়া তার ২য় স্বামীকে ডিভোর্স দেন এবং গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে সিদ্ধিরগঞ্জে ভাড়া বাসায় রাজ্জাকের সাথে বসবাস করতে থাকেন। রাজ্জাক নিয়মিত ক্যাপ পরে সেখানে যেতেন।
গত ১২ জুলাই রাত ৮ টার দিকে রাজ্জাক বাসায় এলে সাদিয়া তাকে অবিলম্বে বিয়ের জন্য চাপ দেন। বিয়ে করা নিয়ে উভয়ের মধ্যে কথাকাটাকাটি ও ঝগড়া শুরু হয়। ঝগড়ার একপর্যায়ে রাজ্জাক ক্ষিপ্ত হয়ে সাদিয়ার গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করেন। এরপর ঘরের ব্যবহৃত মোবাইল ও স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যান।
গ্রেপ্তারের সময় আসামির কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডের সময় ব্যবহৃত ক্যাপ ও নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে রাজ্জাকের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিক্রি করা স্বর্ণালংকারও উদ্ধার করা হয়।
গত ২২ জুলাই আসামিকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হলে, আসামি রাজ্জাক জবানবন্দিতে স্বপ্রণোদিত হয়ে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।
মামলার পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে জানায় পিবিআই।

