ফতুল্লায় চুরির অপবাদে রঙ মিস্ত্রিকে পিটিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার ৩
ফতুল্লায় চুরির অপবাদে রঙ মিস্ত্রিকে পিটিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার ৩

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় চুরির অভিযোগে মধ্যবয়সী এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে জখমের ৬ দিন পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ অভিযুক্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
সোমবার (২০ জুলাই) রাতে ফতুল্লার কুতুবআইল এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানান ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুব আলম।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন: কুতুবআইল এলাকার মনির হোসেনের ছেলে নুর আলম (৩৬), বশির মিয়ার ছেলে খোকন (৩০) ও মো. ফারুকের ছেলে সুজন ওরফে শান্ত (২০)।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত নয়ন হাওলাদার (৪৫) পেশায় একজন রঙ মিস্ত্রি। মাস দেড়েক আগে তিনি কুতুবআইলের নুরুল ইসলামের বাড়িতে রঙের কাজ করতে যান। গত ১৪ জুলাই একই বাসায় কাজ করতে গেলে তাকে ৫০ হাজার টাকা চুরির অপবাদে তাকে মারধর করা হয়। পরদিন সকালে মুমূর্ষু অবস্থায় জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’ নম্বরে কল দিয়ে পুলিশের সহযোগিতায় নয়নকে উদ্ধার করে শুরুতে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান তার স্ত্রী আমেনা আক্তার শিমু। গত সোমবার রাতে নয়ন হাওলাদার মারা যান।
ঘটনার পরপরই হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ফতুল্লা থানায় একটি মামলা করেন নিহতের স্ত্রী শিমু। মামলায় তিনি লেখেন, চুরির অভিযোগে তার স্বামীকে পেটানোর পর রাত আটটার দিকে তাকে মুঠোফোনে কল করে জানানো হয়, ৫০ হাজার টাকা ফেরত দিলে নয়নকে ছেড়ে দেওয়া হবে। পরদিন সকালে নুরুল ইসলামের বাড়িতে ডেকে নিয়ে তার সামনেও নয়নকে পেটানো হয় বলে বাদী মামলায় উল্লেখ করেন।
এই সময় বৈদ্যুতিক শক দেওয়ারও অভিযোগ করেন আমেনা আক্তার শিমু। মামলায় এই নারী উল্লেখ করেছেন, এক পর্যায়ে ছোটবোনের মাধ্যমে ৩০ হাজার টাকা সংগ্রহ করে নুরুল ইসলামকে দিলে তার স্বামীকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
মামলায় তিনি নুরুল ইসলাম (৪২) ছাড়াও তার স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা (৩০), মো. সিরাজুস সালেকীন (২৮), জীবন (২৮) সহ অজ্ঞাতনামা ৭ থেকে ৮ জনকে আসামি করেন। মামলার পরপরই পুলিশ নুরুলকে গ্রেপ্তার করে।
ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মাহবুব আলম বলেন, “মামলাটি হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা হলেও ভুক্তভোগীর মৃত্যু হওয়াতে এটি এখন হত্যা মামলা হিসেবে তদন্ত করা হবে।”

