অবশেষে পুলিশের খাঁচায় হরিহরপাড়া শীষমহল এলাকার আজমতপুর মাদ্রাসার পেছনের কুখ্যাত মাদক ডিলার জাকারিয়া।
অবশেষে পুলিশের খাঁচায় হরিহরপাড়া শীষমহল এলাকার আজমতপুর মাদ্রাসার পেছনের কুখ্যাত মাদক ডিলার জাকারিয়া।

অবশেষে পুলিশের খাঁচায় বন্দী হয়েছে ফতুল্লার হরিহরপাড়া শীষমহল এলাকার আজমতপুর মাদ্রাসার পেছনের কুখ্যাত মাদক ডিলার জাকারিয়া। দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদকের সম্রাজ্য গড়ে তোলা এবং সাধারণ মানুষের ওপর বেপরোয়া অত্যাচার চালানোর পর অবশেষে তাকে আইনের আওতায় এনেছে পুলিশ। জাকারিয়ার গ্রেপ্তারের খবরে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানাধীন হরিহরপাড়া শীষমহল এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চলা মাদক সম্রাজ্য ও ত্রাসের রাজত্বের অবসান ঘটেছে। আজমতপুর মাদ্রাসার পেছনের এলাকার কুখ্যাত মাদক ডিলার ও সন্ত্রাসী জাকারিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এলাকায় ‘মাদক সম্রাট’ হিসেবে পরিচিত এই জাকারিয়ার গ্রেপ্তারে সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
ওপেন সিক্রেট ইয়াবা ব্যবসা ও পারিবারিক সিন্ডিকেট স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পঞ্চবটি শীষমহল ও হরিহরপাড়া এলাকায় জাকারিয়া এবং তার ভাই রিয়াদের ইয়াবা ব্যবসা ছিল এক প্রকার ‘ওপেন সিক্রেট’। পারিবারিকভাবেই তারা দীর্ঘদিন ধরে এই নিষিদ্ধ মাদকের ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিল। আজমতপুর মাদ্রাসার পেছনের এলাকাটিকে তারা নিরাপদ আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করে পুরো এলাকায় মাদকের জাল বিছিয়ে দিয়েছিল।
প্রতিবাদ করলেই চলতো বেপরোয়া অত্যাচার অনুসন্ধানে জানা যায়, জাকারিয়া ও তার বাহিনী এলাকায় এতটাই বেপরোয়া ছিল যে, তাদের মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে কেউ কথা বলার সাহস পেত না। কেউ প্রতিবাদ করতে গেলেই তাকে ধরে এনে চলত অমানুষিক মারধর ও নির্যাতন। তাদের অন্যায়-অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছিল পুরো এলাকাবাসী। লোকলজ্জা ও প্রাণভয়ে অনেকেই মুখ খুলতে সাহস পেতেন না।
ঈদের রাতে যুবককে বেধড়ক মারধর সর্বশেষ গত ঈদের দিন রাতে জাকারিয়া বাহিনীর নির্মমতার শিকার হন সেলিম নামের এক স্থানীয় যুবক। জানা গেছে, সেলিম এলাকায় মাদক ব্যবসা করতে জাকারিয়া ও রিয়াদকে নিষেধাজ্ঞা (বারণ) করেছিলেন। এই অপরাধে ঈদের দিন রাত আনুমানিক ১১টার দিকে জাকারিয়া, তার ভাই রিয়াদ এবং তাদের আরও অন্তত ৭/৮ জন সহযোগী মিলে সেলিমকে ধরে এনে বেধড়ক মারধর ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে জখম করে।
এলাকাবাসীর বক্তব্য: “ওদের অত্যাচারে আমরা দেয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়েছিলাম। সেলিম শুধু ওদের ভালো পথে আসতে বলেছিল, মাদক বেচতে মানা করেছিল। আর এই কারণেই ওকে মরোমরো করে পিটিয়েছে। আমরা এই মাদক ব্যবসায়ী পরিবারের কঠোর শাস্তি চাই।”

