অপরাধ

ফতুল্লা দাপা-ইদ্রাকপুরে হাত বাড়ালেই মাদক: নেপথ্যে যারা!

ফতুল্লা দাপা-ইদ্রাকপুরে হাত বাড়ালেই মাদক: নেপথ্যে যারা!

 

পুরো সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে সাকিল-হানিফ-আলামিন-রাজীব রিয়াদ

 

‎নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা মডেল থানাধীন দাপা-ইদ্রাকপুর ও আশপাশের এলাকায় মাদকের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা থাকা সত্ত্বেও এলাকায় প্রকাশ্যেই চলছে মাদক বেচাকেনা। সন্ধ্যার পর থেকে রাত গভীর হওয়া পর্যন্ত বিভিন্ন অলিগলি, রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন এলাকা, ব্যাংক কলোনি, দাপা-ইদ্রাকপুরসহ আশপাশের কয়েকটি স্পটে মাদকসেবী ও কারবারিদের আনাগোনা বেড়ে যায়।

‎স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, এসব মাদক কারবারের নেপথ্যে রয়েছে সাকিল, হানিফ, আলামিন ও রাজীব রিয়াদ নামের কয়েকজন। তাদের নেতৃত্বে এলাকায় হেরোইন, ইয়াবা, গাঁজাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য সরবরাহ ও বিক্রি হচ্ছে এমন অভিযোগও করেছেন স্থানীয়রা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

 

 

‎স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, দাপা-ইদ্রাকপুর ও আশপাশের এলাকায় মাদক ব্যবসার একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয়। অভিযোগ রয়েছে, এই নেটওয়ার্কের অন্যতম নিয়ন্ত্রক সাকিল। তার সঙ্গে সহযোগী হিসেবে হানিফ, আলামিন ও রাজীব রিয়াদ কাজ করছেন।

‎স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বিভিন্ন বয়সী তরুণদের কাছে সহজেই মাদক পৌঁছে যাচ্ছে। বিশেষ করে রেলওয়ে স্টেশন ও আশপাশের জনবহুল এলাকাগুলোকে মাদক সরবরাহের অন্যতম পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

‎তাদের দাবি, মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে স্থানীয়ভাবে কথা বলতে গেলে নানা ধরনের চাপ ও হয়রানির আশঙ্কা থাকে। ফলে অনেকেই প্রকাশ্যে অভিযোগ করতে চান না।

‎স্থানীয়দের অভিযোগ, পূর্বে আওয়ামী লীগের স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাদের ছত্রছায়ায় এলাকায় মাদক ব্যবসা পরিচালিত হলেও রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর মাদক কারবারিরা নতুন করে স্থানীয় বিএনপির কিছু নেতাকর্মীর আশ্রয়-প্রশ্রয় পাওয়ার চেষ্টা করছে।

‎অভিযোগকারীদের দাবি, রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা নিজেদের অবস্থান ধরে রাখার চেষ্টা করছে। তবে কোন কোন রাজনৈতিক নেতা বা কার মাধ্যমে তারা কথিত ‘শেল্টার’ পাচ্ছে এ বিষয়ে নির্দিষ্ট ও যাচাইযোগ্য প্রমাণ প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি।

‎স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, হাত বাড়ালেই মাদক পাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে এলাকার কিশোর ও তরুণরা। মাদকের সহজলভ্যতা বাড়লে চুরি, ছিনতাই, কিশোর অপরাধসহ বিভিন্ন সামাজিক অপরাধও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

‎একাধিক বাসিন্দা বলেন, শুধু মাদকসেবীদের আটক করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। মাদকের মূল সরবরাহকারী, অর্থের যোগানদাতা এবং নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।

‎স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দাপা-ইদ্রাকপুর এলাকায় মাদকের বিস্তার বন্ধে প্রশাসন দ্রুত কার্যকর অভিযান পরিচালনা করবে এবং অভিযোগগুলোর সত্যতা তদন্ত করে মূল কারবারিদের আইনের আওতায় আনবে।

Leave a Reply

Back to top button