
নারায়ণগঞ্জ সদরের আলোচিত শ্রী শুভ চন্দ্র দাস (৩০) হত্যা মামলার মূল রহস্য উদ্ঘাটন করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ ঘটনায় ৩০টির অধিক মাদক মামলার আসামি এবং এলাকার কুখ্যাত মাদক সম্রাজ্ঞী ফাতেমা বেগম ওরফে ফতেসহ মোট চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- ফাতেমা বেগম ওরফে ফতে (৬৫), তার স্বামী ইসলাম (৭০), তাদের ছেলে শাওন (২৭) (সকলে আমলাপাড়া কেবি সাহা বাইলেন, নারায়ণগঞ্জ সদর) এবং মো. বিশু (২৬) (বন্দর, নারায়ণগঞ্জ)।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ রাত ১:৩০ টার দিকে নারায়ণগঞ্জের সদর থানাধীন হকার্স মার্কেটের পেছনে দুর্গমল এলাকার রাস্তা থেকে শ্রী শুভ চন্দ্র দাস (৩০)-এর গুলিবিদ্ধ ও চাকু দ্বারা ক্ষতবিক্ষত রক্তাক্ত মৃতদেহ উদ্ধার করে সদর মডেল থানা পুলিশ। নিহত শুভ গলাচিপা এলাকার শ্রী হরি চন্দ দাসের ছেলে। এ ঘটনায় নিহতের পিতা বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা (নং-০৮, তারিখ: ০৫/০৯/২০২৬ খ্রিঃ, ধারা: ৩০২/৩৪ পেনাল কোড) দায়ের করেন।
ঘটনাটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও চাঞ্চল্যকর হওয়ায় জেলায় যোগদানকৃত নবাগত পুলিশ সুপার জনাব হাবিবুর রহমানের নির্দেশনায় ডিবি পুলিশের একটি চৌকশ টিম তদন্ত নামে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রহস্য উদ্ঘাটন করে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের মধ্যে দুজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন এবং আসামি সুমনকে ৫ দিনের পুলিশ রিমান্ডে নেওয়া হয়। সুমনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে নরসিংদী থেকে এ ঘটনায় জড়িত ধিমন নামের আরও এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সর্বশেষ ২৮ সেপ্টেম্বর ভোর ৪:৩০ টায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বন্দর থানার কলাবাগান জাকিরশাহ অক্সিজেন ফ্যাক্টরি এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি ফাতেমা বেগম ওরফে ফতেসহ আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, মাদক ব্যবসা নিয়ে পূর্ববিরোধের জের ধরেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। ইতিপূর্বে গ্রেপ্তার ফতে বক্তাবলী ঘাটের পাশে ৫ শতক জমি ক্রয় করেছিলেন। পরবর্তীতে একটি মামলায় জামিনের শর্ত সাপেক্ষে নিহত শুভ সেখান থেকে ৩ শতক জমি নেন। সম্প্রতি ফতের বাসায় মাদকবিরোধী পুলিশি অভিযানের জন্য শুভকে সন্দেহ করতেন আসামিরা। এই ক্ষোভ ও পূর্ববিরোধ থেকেই শুভকে হত্যা করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশ এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ১টি বার্মিজ চাকু এবং আসামি বিশুর রিকশা চালনার সনদ ও রেজিস্টার জব্দ করে। চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলায় জড়িত বাকি আসামিদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

