সারাদেশ

কারবালা প্রান্তরে শহিদের আত্মত্যাগ মানবজাতির জন্য সত্য ও ন্যায়ের অনন্য দৃষ্টান্ত: এসপি মিজানুর রহমান

কারবালা প্রান্তরে শহিদের আত্মত্যাগ মানবজাতির জন্য সত্য ও ন্যায়ের অনন্য দৃষ্টান্ত: এসপি মিজানুর রহমান

 

কারবালা আমাদের শেখায়—ক্ষমতার লোভে সত্যের সঙ্গে আপস করা যাবে না। অন্যায় দেখলে প্রতিবাদ করতে হবে, মজলুমের পাশে দাঁড়াতে হবে। পবিত্র আশুরা নিয়ে একান্ত সাক্ষাৎকারে এমন অভিমত ব্যক্ত করেছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান মুন্সী।

 

তিনি বলেন, ইতিহাসের এই দিনে কারবালার প্রান্তরে মহানবী হযরত মুহাম্মদ সা.-এর প্রিয় দৌহিত্র হযরত ইমাম হোসাইন রা. সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে অবিচল থেকে শাহাদাত বরণ করেন। ‘আমি হযরত ইমাম হোসাইন রা.-সহ তাঁর পরিবারের সদস্য এবং কারবালা প্রান্তরে শাহাদতবরণকারী সকল শহিদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছি। তাঁদের আত্মত্যাগ মানবজাতির জন্য সত্য, ন্যায়, ত্যাগ ও আদর্শের এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে আছে।

 

এসপি মিজানুর রহমান বলেন, ‘আজকের পৃথিবীতে হিংসা, বিভেদ ও অবিচার যখন মাথাচাড়া দিচ্ছে, তখন ইমাম হোসাইন রা.-এর ত্যাগই আমাদের পথ দেখাবে। প্রশাসনের দায়িত্বেও আমরা এই শিক্ষা ধারণ করি—কারও প্রতি বৈষম্য নয়, সবার জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা। মজলুমের পাশে দাঁড়ানোই আমাদের মূল দায়িত্ব।’

 

নারায়ণগঞ্জবাসীর উদ্দেশে তিনি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আসুন, পবিত্র আশুরার মহান আদর্শ হৃদয়ে ধারণ করে পারস্পরিক সম্প্রীতি, সহমর্মিতা ও সৌহার্দ্যের মাধ্যমে আমরা ন্যায়ভিত্তিক, শান্তিপূর্ণ ও মানবিক সমাজ গঠনে একযোগে কাজ করি। মহান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র আশুরার অসীম তাৎপর্য উপলব্ধি করে আমাদের সবাইকে সত্য ও ন্যায়ের পথে চলার তাওফিক দান করুন। আমিন।’

 

আজ শুক্রবার ২৬ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, হিজরি ১৪৮ সনের ১০ মহরম পবিত্র আশুরা। মুসলিম উম্মাহর জন্য দিনটি ধর্মীয়, ঐতিহাসিক ও আধ্যাত্মিক গুরুত্বের পাশাপাশি গভীর শোকের দিন। ৬১ হিজরির ১০ মহরম, ৬৮০ খ্রিস্টাব্দে ইরাকের ফোরাত নদীর তীরে কারবালা প্রান্তরে ইয়াজিদের বাহিনীর বিরুদ্ধে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নিয়ে হযরত ইমাম হোসাইন রা., তাঁর পরিবার ও ঘনিষ্ঠ সঙ্গীরা শাহাদাত বরণ করেন।

 

এ উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জ জেলায় ধর্মীয় আলোচনা, মিলাদ মাহফিল, কোরআনখানি, দোয়া ও বিশেষ মোনাজাতের আয়োজন করা হয়েছে। শিয়া সম্প্রদায় যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদা ও শোকাবহ পরিবেশে দিনটি পালন করবে। জেলার বিভিন্ন এলাকায় তাজিয়া মিছিল, শোকসভা ও ধর্মীয় কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে।

 

জেলা পুলিশ সুপার জানান, আশুরার দিনে যেন কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড না ঘটে সেজন্য জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে থাকবে। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, মাজার ও তাজিয়া মিছিলের রুটে ৩ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি, সিসিটিভি মনিটরিং ও র‌্যাব-পুলিশের যৌথ টহল থাকবে।

 

তিনি আরও বলেন, ‘পবিত্র আশুরার মহান শিক্ষা ধারণ করে একটি শান্তিপূর্ণ, মাদক ও কিশোর গ্যাংমুক্ত, মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক ও সমৃদ্ধ নারায়ণগঞ্জ গঠনে সকলের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ সর্বদা জনগণের পাশে আছে।’

Leave a Reply

Back to top button