মাত্র ২৫ দিনে দেড় হাজার অপরাধী গ্রেফতার: এসপি হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে নারায়ণগঞ্জে পুলিশিংয়ে নতুন গতি
মাত্র ২৫ দিনে দেড় হাজার অপরাধী গ্রেফতার: এসপি হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে নারায়ণগঞ্জে পুলিশিংয়ে নতুন গতি

নারায়ণগঞ্জে পুলিশ সুপার হিসেবে মো. হাবিবুর রহমান, পিপিএম-সেবা দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ২৫ দিনেই পাল্টে গেছে জেলার আইনশৃঙ্খলা চিত্র। মাদক, কিশোর গ্যাং, জুয়া ও অবৈধ অস্ত্রের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযানে নড়েচড়ে বসেছে অপরাধী চক্র।
গত ৩ সেপ্টেম্বর দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই অপরাধপ্রবণ এলাকা ও স্পটগুলোকে নজরদারিতে এনে বিশেষ অভিযান জোরদার করেন তিনি। জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এসপির কঠোর নির্দেশনায় প্রতিদিনই জেলার সাত থানায় চলছে বিশেষ অভিযান। সর্বশেষ ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় দেড় হাজারের বেশি অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। এর মধ্যে মাদক কারবারি, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি, ছিনতাইকারী, জুয়াড়ি ও কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা সহ বিভিন্ন অপরাধে অপরাধীরা রয়েছে।
পুলিশের এই কঠোর অবস্থানের সবচেয়ে আলোচিত দুটি ঘটনা হলো চাষাঢ়ায় জুয়ার আসরে অভিযান ও বন্দরে স্বর্ণের দোকানে ডাকাতির রহস্য উদঘাটন।
গত ২০ সেপ্টেম্বর রাতে নারায়ণগঞ্জ শহরের প্রাণকেন্দ্র চাষাঢ়ার খাজা সুপার মার্কেটে জুয়ার আসরে স্বয়ং পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে ২৮ জনকে গ্রেফতার ও নগদ ৭৭ হাজার ৯৪০ টাকা উদ্ধার করা হয়। জেলা পুলিশের সর্বোচ্চ কর্মকর্তার সরাসরি মাঠে নেমে অভিযান পরিচালনার ঘটনা সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।
অন্যদিকে, গত ২৫ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে বন্দর থানাধীন ঢাকেশ্বরী বাজার, সোনাচরায় একটি স্বর্ণের দোকানে ৭/৮ জনের সশস্ত্র ডাকাত দল দেশীয় অস্ত্রের মুখে দোকানদার ও এক নারীকে জিম্মি করে প্রায় ২৬ লাখ ৪৩ হাজার টাকার স্বর্ণালংকার, রূপা ও নগদ টাকা লুট করে। ঘটনাটি সিসিটিভিতে ধারণ হয় এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
এসপি হাবিবুর রহমানের নির্দেশনায় বন্দর থানা ও ডিবি পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান শুরু করে। মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ২৬ সেপ্টেম্বর রাত ২টা থেকে সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে ৫ ডাকাতকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের মধ্যে ৩ জন সরাসরি ডাকাতিতে অংশ নেয় এবং ২ জন বাইরে পাহারায় ছিল। তাদের কাছ থেকে নগদ টাকা, ১২ ভরি রূপা, স্বর্ণের নাকফুল, ডাকাতিতে ব্যবহৃত ছুরি, চাইনিজ কুড়াল ও পরিহিত পোশাক উদ্ধার করা হয়।
এছাড়া রূপগঞ্জে বিদেশি পিস্তল উদ্ধার, ফতুল্লা, সিদ্ধিরগঞ্জ ও সোনারগাঁয়ে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা, হেরোইন ও মদ উদ্ধার এবং চাষাঢ়ায় শুভ চন্দ্র দাস হত্যাকাণ্ডের দ্রুত রহস্য উদঘাটন করেছে জেলা পুলিশ।
অপরাধ দমনে সকলের সহযোগিতা চেয়ে এসপি হাবিবুর রহমান বলেন, নারায়ণগঞ্জকে একটি শান্তিপূর্ণ জেলা হিসেবে রাখতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। সাধারণ মানুষ যেন নিরাপদে চলাচল করতে পারে এবং ব্যবসায়ীরা যাতে নির্বিঘ্নে ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা করতে পারেন, সে লক্ষ্যে জেলা পুলিশ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। অপরাধীদের বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য দিয়ে আমাদের সহযোগিতা করুন।
জেলা পুলিশ জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে মাদক, অস্ত্র ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান অব্যাহত থাকবে।
জেলা পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমানের চলমান কার্যক্রম নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ সহ সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে। তার এই চলমান কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।

