সাইনবোর্ডে জমি দখল চেষ্টা, কাঠগড়ায় বিএনপি নেতা ইকবাল
সাইনবোর্ডে জমি দখল চেষ্টা, কাঠগড়ায় বিএনপি নেতা ইকবাল

আদালতের নিষেধাজ্ঞা ও স্থিতাবস্থা (Status quo) অমান্য করে নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় মিতালী মার্কেট সংলগ্ন কোটি কোটি টাকা মূল্যের পৈত্রিক সম্পত্তি জবরদখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় প্রভাবশালী ল্যান্ড ব্যবসায়ী ইকবাল হোসেন নিজে পর্দার আড়ালে থেকে পুরো ঘটনার মূল কলকাঠি নাড়ছেন। আর মাঠে থেকে এই দখল মিশন বাস্তবায়ন করছেন তাঁর আপন বোনজামাই মুক্তার হোসেন, যিনি এই ঘটনায় থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগের ১১ নম্বর অভিযুক্ত।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন খোদ্দুঘোষ মৌজার আরএস বিভিন্ন দাগের ৯৩ শতাংশ ৬৬ পয়েন্ট জমির পৈত্রিক ও ওয়ারিশ সূত্রে প্রকৃত মালিক তানভীর ইসলাম ও তাঁর পরিবার। সেখানে তাঁরা বহুতল ইমারত নির্মাণ করে দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। কিন্তু এই জমির ওপর চোখ পড়ে সাইনবোর্ড মিতালী মার্কেট কমিটির পেছনে থাকা একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের।
আইনি লড়াইয়ে টিকতে না পেরে দেওয়ানী আদালতে (মামলা নং-২৪৮/২০২১) এই জমির ওপর ‘স্থিতাবস্থা’ (Status quo) জারি করা হয়। কিন্তু আদালতের সেই নির্দেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে রাজনৈতিক ক্ষমতার দাপটে ভিন্ন কৌশল নেয় চক্রটি। বিএনপি নেতা ইকবাল হোসেনের বোনজামাই মুক্তার হোসেনকে সামনে রেখে গত ২৭ মে সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে ২০-২৫ জনের একটি সশস্ত্র দল রামদা, চাপাতি, লোহার রড ও সাবল নিয়ে উক্ত জমিতে অনধিকার প্রবেশ করে এবং টিনের বেড়া দেওয়ার চেষ্টা চালায়। এ সময় মালিকপক্ষ বাধা দিলে তাদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
কী বলছেন অভিযুক্ত বিএনপি নেতা ইকবাল হোসেন?
জমি দখলের এই অভিযোগের বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন প্রথমে ক্ষোভ প্রকাশ করে পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে বলেন, “জমি দখল কাকে বলে? যার জমি সে বাউন্ডারি দিতে গেলে কি জমি দখল হয়?”
তাঁর বোনজামাই মুক্তার হোসেন এই ঘটনার ১১ নম্বর আসামি—এমন তথ্যের জবাবে তিনি বলেন, “জমি দখলের প্রশ্নই আসে না। একটি পক্ষ তাদের জমির কাগজপত্র নিয়ে আমার কাছে এসেছিল, দেখলাম তারা জমির মালিক।”
তবে এই জমির ওপর আদালতের ‘স্থিতাবস্থা’ বা নিষেধাজ্ঞা জারির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি তা জানেন না বলে দাবি করেন। আদালতের নিষেধাজ্ঞা না জেনেই এই প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত হয়েছেন কি না—প্রতিবেদকের এমন প্রশ্নের জবাবে কিছুটা উত্তেজিত হয়ে তিনি বলেন, “আমি সম্পৃক্ত হয়েছি আপনি জানলেন কিভাবে? ২০০২ সাল থেকে ল্যান্ডের ব্যবসা করি, ৪ হাজারেরও অধিক প্লট বিক্রি করেছি। কিছু তো বুঝি। ভেতরে যদি অন্য কিছু থাকে সেটা আমার বিষয় না। অন্য কেউ মালিক হলে তারা আইনের দ্বারস্থ হোক।”
এই ঘটনায় জমির মালিক কাজী তানভীর ইসলাম বাদী হয়ে ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২০-২৫ জনকে আসামি করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং ভুক্তভোগী পরিবারটি প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

