রাজনীতি

সাত খুন ও ত্বকী হত্যায় ওসমান পরিবার জড়িত: এমপি আল আমিন

সাত খুন ও ত্বকী হত্যায় ওসমান পরিবার জড়িত: এমপি আল আমিন

নারায়ণগঞ্জে আলোচিত সাত খুন ও ত্বকী হত্যার মতো চাঞ্চল্যকর ঘটনার সঙ্গে নানাভাবে ওসমান পরিবার জড়িত বলে দাবি করেছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিন।

 

সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকাল ১০টায় আদালত প্রাঙ্গণে জেলা আইনজীবী সমিতি ভবনের সামনে সাত খুন মামলার রায় দ্রুত কার্যকরের দাবিতে মানববন্ধনে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

 

মানবন্ধনে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও সাত খুন মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান।

 

এমপি বলেন, “২০১৪ সালে এখনকার মতো গণতান্ত্রিক পরিবেশ ছিল না। ২০১৪ সাল ছিল ফ্যাসিস্টদের সময়। ওই ফ্যাসিস্টদের সময়ও রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে নারায়ণগঞ্জের আইনজীবীরা ফ্যাসিস্টদের বিরুদ্ধে এক ধরনের আন্দোলন-সংগ্রাম করেছে। সেই সঙ্গে ফ্যাসিস্টদের কোনো রকম আইনগত সেবা না দেওয়ার রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।”

 

তিনি আরও বলেন, “এই ঘটনায় ভিকটিম পরিবারের জন্য দলমত নির্বিশেষে আইনজীবীরা, বিশেষ করে সাখাওয়াত ভাইয়ের নেতৃত্বে যেভাবে সামনে এগিয়ে এসেছিলেন, সেটি আমাদের আইনজীবী সমাজের জন্য অত্যন্ত সম্মানের ইতিহাস। সুতরাং আমরা মনে করি, এই ঘটনার আশু বিচার হতে হবে। কারণ এখন আর বাংলাদেশে ওই ফ্যাসিজম নেই। বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক ধারায় এসেছে।”

 

আল আমিন বলেন, “নারায়ণগঞ্জে আপনারা জানেন অতীতে এ ধরনের চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে, যেগুলোর সঙ্গে আমরা জানি নানান ফরমেটে ওসমান পরিবারের কানেকশন আছে। ফ্যাসিস্টদের কানেকশন ও নারায়ণগঞ্জের গডফাদারদের কানেকশন আছে।”

 

তিনি বলেন, “এই সাত খুন বলেন, ত্বকী হত্যা বলেন এ ধরনের চাঞ্চল্যকর ঘটনাগুলোতে আমরা দেখেছি কোনো ধরনের ব্যবস্থা সেভাবে গতিশীল ছিল না। উল্টো প্রশাসন বা সরকারের পক্ষ থেকে এক ধরনের প্রটেকশন ছিল গডফাদারদের প্রতি। এখনকার গণতান্ত্রিক পরিবেশে ওরকম হওয়ার সুযোগ নেই। আমরা চাই, অপরাধী যেই হোক, তার বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নিতে হবে।”

 

তিনি আরও বলেন, “আপিল বিভাগে যে বিষয়টি ঝুলে আছে, আমরা চাই বিষয়টির আশু নিষ্পত্তি হবে এবং রায় কার্যকর হবে। যাতে আমরা আইনজীবী সমাজও স্বস্তি লাভ করতে পারি যে আমাদের সংগ্রাম সফল হয়েছে। সেই সঙ্গে যারা ভিকটিম পরিবার, তারাও স্বস্তি লাভ করতে পারে যে তারা তাদের স্বজনকে ফিরে পাননি, কিন্তু বিচার হয়েছে, বাংলাদেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হয়েছে।”

 

তিনি বলেন, “সাত খুনের বিচারের রায় এখনো কার্যকর হয়নি। আমি দেখেছি, ২০১৪ সালে যখন আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইনের ছাত্র ছিলাম, তখন এ ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় উল্লেখ করার মতো বিষয় হচ্ছে, নজরুলকে গুম করা হয়। তখন একজন আইনজীবী নিজের বিবেকের তাগিদে পুরো ব্যাপারটি ধারণ ও অনুসরণ করেন। এজন্য তাকে নিজেও বিপদে পড়তে হয়, কিন্তু তিনি তার বিবেকবোধের সঙ্গে কোনো আপস করেননি।”

 

এ কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সরকার হুমায়ুন কবির।

 

জেলার ভারপ্রাপ্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট এ কে এম ওমর ফারুক নয়নের সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার প্রধান, জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আবুল কালাম আজাদ জাকির, নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালের পিপি খোরশেদ আলম মোল্লা, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন প্রমুখ।

Leave a Reply

Back to top button