নারায়ণগঞ্জে ৩০০ শয্যা হাসপাতালে ফায়ার সার্ভিসের দুর্যোগ মোকাবিলা মহড়া
নারায়ণগঞ্জে ৩০০ শয্যা হাসপাতালে ফায়ার সার্ভিসের দুর্যোগ মোকাবিলা মহড়া

নারায়ণগঞ্জের খানপুরে ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট সরকারি হাসপাতালে ভূমিকম্প ও অগ্নিকাণ্ডের মতো বড় দুর্যোগে রোগী উদ্ধার এবং অগ্নি নির্বাপণ বিষয়ক একটি বিশেষ মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বুধবার (১০ জুন) সকাল ১১টায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উদ্যোগে এই সচেতনতামূলক ও ব্যবহারিক মহড়াটি পরিচালিত হয়।
মহড়ার মূল উদ্দেশ্য ছিল যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে হাসপাতালের চিকিৎসাধীন রোগীদের দ্রুত ও নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া এবং জানমালের ক্ষয়ক্ষতি সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনা।
দুর্যোগকালীন উদ্ধার কৌশল প্রদর্শন
মহড়াকালে দুর্যোগের সময় কীভাবে বহুতল ভবন থেকে রোগীদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হয়, তার বিভিন্ন আধুনিক কৌশল প্রদর্শন করেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। একই সাথে হাসপাতালের বাইরে একটি অস্থায়ী চিকিৎসা ক্যাম্প স্থাপন করে উদ্ধারকৃত আহত রোগীদের জরুরি প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদানের প্রক্রিয়াটি হাতে-কলমে দেখানো হয়। ফায়ার সার্ভিসের পেশাদার কর্মীদের পাশাপাশি প্রশিক্ষিত ‘ফায়ার ভলান্টিয়াররা’ এই উদ্ধার অভিযানে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।
হাসপাতাল কর্মীদের বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণ
জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দক্ষতা বাড়াতে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র (ফায়ার এক্সটিঙ্গুইশার) ব্যবহারের বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। কীভাবে সঠিক উপায়ে এবং দ্রুততার সাথে আগুন নিয়ন্ত্রণ করা যায়, তা হাসপাতালের স্টাফদের নিজ হাতে অনুশীলন করানো হয়।
কর্মকর্তাদের বক্তব্য ও সচেতনতার আহ্বান
মহড়া শেষে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত আলোচনায় নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন বলেন:
”নারায়ণগঞ্জে বর্তমানে ৫০০ জন প্রশিক্ষিত ভলান্টিয়ার রয়েছে, যারা আগুন ও ভূমিকম্পসহ যেকোনো দুর্যোগে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করতে প্রস্তুত। দুর্যোগের সময় আতঙ্কিত না হয়ে ধৈর্য ধরে দ্রুত প্রাথমিক ব্যবস্থা নিলে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব।”
হাসপাতালের সুপারিনটেনডেন্ট ডা. আবুল বাশার হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার ওপর জোর দিয়ে বলেন:
”হাসপাতালে অক্সিজেন সিলিন্ডারসহ বিভিন্ন ধরনের অতি দাহ্য ও গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাসামগ্রী থাকে। তাই এখানে অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম আমাদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাস বাড়াতে দারুণ সহায়ক ভূমিকা রাখবে।”
মহড়া অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন মণ্ডলপাড়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ইনচার্জ শাহজাহান মিয়া এবং হাজীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ইনচার্জ নুরুল আলমসহ হাসপাতালের অন্যান্য চিকিৎসক ও নার্সবৃন্দ।
বক্তারা এই ধরনের মহড়া নিয়মিত আয়োজনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মাঝেও সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

