রাজনীতি

বারী ভূঁইয়াকে নিজেদের আয়নায় দেখার পরামর্শ দিলেন এমপি আবদুল্লাহ আল আমিন

বারী ভূঁইয়াকে নিজেদের আয়নায় দেখার পরামর্শ দিলেন এমপি আবদুল্লাহ আল আমিন

ফতুল্লা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আব্দুল বারী ভূঁইয়ার আনা ঝুট ব্যবসায় তদবির, বিএনপির বিরুদ্ধে মামলা এবং দ্বিচারিতার অভিযোগের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিন। বারী ভূঁইয়ার এসব অভিযোগকে মিথ্যাচার ও কাল্পনিক দাবি করে তাকে আগে ‘নিজেদের আয়নায় দেখার’ পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

​সম্প্রতি এক মুঠোফোন আলাপে এমপি আবদুল্লাহ আল আমিন বলেন, “আমাদের কথা স্পষ্ট। বিএনপির লোকজনের বিভিন্ন অপকর্মের বিরুদ্ধে আমরা অবস্থান নেওয়ায় তাদের স্বার্থে আঘাত লেগেছে। ফুটপাতের হকার ও পরিবহন থেকে চাঁদাবাজি, বিসিকে ঝুট সন্ত্রাস, বারী ভূঁইয়ার নিজ এলাকায় তার ছত্রছায়ায় চাঁদাবাজি এবং ঝুট নিয়ে নিজেদের মধ্যে গোলাগুলির মতো ঘটনার বিরুদ্ধে আমাদের নেতাকর্মীরা প্রতিবাদ জানিয়েছে। এমনকি বিএনপির লোকজনের দ্বারা আওয়ামী লীগ পুনর্বাসন করার চেষ্টাও রুখে দিয়েছে আমাদের কর্মীরা। আর এর জবাবে তারা আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে।”

​বিএনপি নেতাকর্মীদের নামে মামলার বিষয়ে সংসদ সদস্য বলেন, “কিছুদিন আগে বারী ভূঁইয়ার ছত্রছায়ায় ৭ নম্বর ওয়ার্ডে কয়েকজন চাঁদাবাজি করছিল। ছাত্রশক্তির ছেলেরা এতে বাধা দিলে তাদের মারধর করা হয়। সেই ঘটনায় মামলা দায়ের করায় বারী ভূঁইয়ার আঁতে ঘা লেগেছে এবং সে কারণেই তিনি এখন মিথ্যাচার করছেন।”

​তিনি আরও যোগ করেন, “আমরা প্রকাশ্যেই বলে আসছি আমাদের কোনো নেতাকর্মীর সঙ্গে সন্ত্রাস বা চাঁদাবাজির সম্পৃক্ততা নেই। কোনো ধরনের ঝুট সন্ত্রাস বা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে জোর-জবরদস্তিমূলক আচরণের নজির আমাদের নেতাকর্মীদের নেই। যদি কারও বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এবং প্রমাণ থাকে, আমরা অবশ্যই ব্যবস্থা নেব। যদিও আজ পর্যন্ত কেউ সেই প্রমাণ দিতে পারেনি।”

​তদবিরের অভিযোগ পুরোপুরি নাকচ করে দিয়ে আব্দুল্লাহ আল আমিন বলেন, “আমার দ্বারা কারও কাছে তদবিরের তো প্রশ্নই আসে না। তারা নিজেরা ঝুট সন্ত্রাস ও গোলাগুলি করে, ব্যবসায়ীদের হুমকি দিয়ে চাঁদাবাজি করে। এনসিপির (জাতীয়তাবাদী নাগরিক পরিষদ) নেতাকর্মীরা এর প্রতিবাদ জানানোর কারণে এখন তাদের গায়ে লাগছে। তারা ঠিকভাবে অপকর্ম করতে পারছে না দেখে পাগলের মতো আবোল-তাবোল বলা শুরু করেছে।”

​এনসিপির দিকে অভিযোগ তোলার আগে নিজেদের কর্মকাণ্ডের দিকে তাকানোর আহ্বান জানিয়ে এমপি বলেন, “আমাদের অবস্থান পরিষ্কার, কোনো ধরনের অন্যায়ের সঙ্গে আমার ও আমার নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততা নেই। উনি পারলে সুনির্দিষ্ট করে বলুন কোথায় এনসিপির পরিচয়ে তদবির হয়েছে? উনাদের কর্মকাণ্ডের বিষয়ে নতুন করে প্রমাণের প্রয়োজন পড়ে না। তাদের লোকজন বিসিকে প্রভাব বিস্তার করছে, নিজেদের মধ্যে গোলাগুলি করছে—এসব ঘটনা প্রতিনিয়ত পত্র-পত্রিকায় আসছে। এসব কাল্পনিক অভিযোগ করার আগে তাদের উচিত আয়নায় নিজেদের মুখ দেখা।”

​উল্লেখ্য, এর আগে ফতুল্লা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আব্দুল বারী ভূঁইয়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে অভিযোগ করেন, মুখে ঝুট সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কথা বললেও এমপি নিজেই গার্মেন্টস মালিকদের কাছে ঝুট ব্যবসার জন্য তদবির করেন। একই সঙ্গে ফতুল্লা থানার ওসিকে ব্যবহার করে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা করাচ্ছেন বলেও তিনি অভিযোগ তোলেন। ওয়ান-ইলেভেনের প্রসঙ্গ টেনে এমপি আল আমিনের বিরুদ্ধে দ্বিচারিতারও অভিযোগ এনেছিলেন এই বিএনপি নেতা।

Leave a Reply

Back to top button