
জুলাই অভ্যুত্থানে গণহত্যার দায় স্বীকার না করা এবং বিদেশে বসে ষড়যন্ত্রের কারণে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পতন ঘটেছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি দৃঢ় কণ্ঠে বলেছেন, আওয়ামী লীগের দাফন হয়ে গেছে দিল্লিতে। বাংলাদেশে এই দলটি আর কোনোদিন রাজনীতি করতে পারবে না।
শনিবার (৪ জুলাই) রাজধানীর চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘জুলাই জাতীয় সম্মেলনে’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড ও গণহত্যার পরও আজ পর্যন্ত গণহত্যাকারী শেখ হাসিনার মধ্যে কোনো ধরনের অনুশোচনা নেই। তারা জুলাইয়ের বিপ্লবীদের অপরাধী তকমা দিচ্ছে এবং এই গণঅভ্যুত্থানকে জঙ্গিবাদের ষড়যন্ত্র বলে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এটি অত্যন্ত লজ্জাজনক।”
তিনি আরও বলেন, “আওয়ামী লীগের রাজনৈতিকভাবে নিপাত হয়েছে, নির্মূল হয়েছে। তারা বিদেশে বসে এখন গণতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র করছে।”
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদদের প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, “জাতিসংঘের রিপোর্টে ১৪ শ শহিদের কথা বলা হলেও বিভিন্ন জরিপে ৭ থেকে ৮শ’র খতিয়ান পাওয়া যায়। কিন্তু প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি। হাসপাতালগুলো থেকে শহিদদের নথিপত্র গায়েব করে দেয়া হয়েছে। অনেককে বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে দাফন করা হয়েছে, যার ফলে আজ স্বজনরা কবরের সন্ধান পেলেও আমরা তা নিশ্চিত করতে পারছি না।”
সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচারের প্রক্রিয়া চলমান। তিনি বলেন, “আমরা দলটির বিচার দাবি করেছি। সংবিধানের ৪৭ অনুচ্ছেদ, সন্ত্রাসবিরোধী আইন এবং আইসিটি অ্যাক্টের আওতায় রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে দলটির বিচার করা সম্ভব। ইনশাআল্লাহ, খুব শিগগির তাদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে।”
সবশেষে তিনি দেশবাসীকে নতুন বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

