ফতুল্লায় জমি নিয়ে বিরোধ: হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ
ফতুল্লায় জমি নিয়ে বিরোধ: হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ

ফতুল্লায় জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ও বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। এই বিরোধের ঘটনায় হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
শনিবার (১৫ই আগস্ট) সকালে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার এনায়েতনগর ইউনিয়নের হাবিবুল্লাহ্ ব্রিজ এলাকায় এঘটনা ঘটে।
পরে ঘটনাস্থলে ফতুল্লা থানার পরিদর্শক শামসুল রহমান উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তিনি উভয় পক্ষকে রাতে প্রয়োজনীয় সমস্ত কাগজপত্র নিয়ে থানায় উপস্থিত হতে বলেন। পুলিশ প্রশাসন ও আইনি আলোচনার মাধ্যমে উভয় পক্ষের কাগজ যাচাই-বাছাই শেষে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শামীম তালুকদার ওই জমির ষষ্ঠ প্রজন্মের জোতসূত্রের ওয়ারিশ এবং দীর্ঘদিন ধরে সেখানে বসবাস ও ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। তাদের দাবি, অন্য একটি পক্ষ হঠাৎ করে জালিয়াতির মাধ্যমে প্রস্তুতকৃত একটি ভুয়া রায় দেখিয়ে তাদের উৎখাত করার চেষ্টা করছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, কোনো প্রশাসনিক নোটিশ বা ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতি ছাড়াই সকালে দলবল নিয়ে এসে তাদের বসতবাড়ি ও দোকানে অতর্কিত ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। এতে তাদের প্রায় ১৮টি অটো-রিকশা, হোসিয়ারীর মেশিন ও দোকানের মালামালসহ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে। ঘটনাটি ফতুল্লা থানার পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ এসে কাজ সাময়িক বন্ধ করে দেয়, তবে পুলিশ যাওয়ার পরপরই পুনরায় ভাঙচুর চালায় আব্দুল জব্বার গং।
এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চেয়ে প্রথম পক্ষ শিউলী রহমান বাদি হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। অভিযোগের বিবাদীরা হলেন, জব্বার, জুম্মন ও মান্নানসহ অজ্ঞাত ১০ জন।
অন্যদিকে দ্বিতীয় পক্ষের প্রতিনিধি আব্দুল জব্বার জানান, তারা সিএস ও এসএ রেকর্ড অনুযায়ী সাপেক্ষ ও ক্রয়সূত্রে এই জমির বৈধ মালিক। দীর্ঘদিন ধরে প্রথম পক্ষ ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে তাদের জমি জবরদখল করে রেখেছিল। পরবর্তীতে তারা আদালতের দ্বারস্থ হয়ে আদালতের রায় ও ডিগ্রি লাভ করেন। এরপর এসি ল্যান্ড অফিস থেকে রেকর্ড সংশোধন (মিউটেশন), খাজনা খারিজ ও হোল্ডিং ট্যাক্স সম্পন্ন করেন।
তবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকরা প্রশ্ন তোলেন যে, আদালত রায় দিলেও আইনগতভাবে কোনো সরকারি কর্মকর্তা, ম্যাজিস্ট্রেট বা পুলিশের উপস্থিতি ছাড়া নিজেরা উচ্ছেদ ও ভাঙচুর চালানো বেআইনি কি না? এর জবাবে আব্দুল জব্বার স্বীকার করে বলেন, না, এটা অবশ্যই বেআইনি। তবে তিনি যুক্তি দেন যে, তাদের জমি দীর্ঘদিন ধরে দখলে না থাকায় তারা নিজেদের বসতবাড়ি পূর্ণদখল ও গোছানোর জন্যই এই ব্যবস্থা নিচ্ছেন।

