
দীর্ঘ ১৯ বছর পর দেশের শাসনভার গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)| ২০০৬ সালের ৩০ অক্টোবর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার ক্ষমতা ছাড়ার পর একাধিক জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে এবং কিছু ক্ষেত্রে বর্জন করে ক্ষমতায় আসতে পারেনি বিএনপি| ফলে প্রায় দুই দশক নারায়ণগঞ্জের মানুষ বিএনপির কোনো ইতিবাচক ভূমিকা প্রত্যক্ষ করতে পারেনি|
তবে এবার নগরবাসীকে বর্তমান পরিস্থিতি থেকে মুক্তি দিতে ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন স্থানীয় এমপি আবুল কালাম ও নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের (নাসিক) প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান| গত ১৭ ও ২৪ ফেব্রুয়ারি যথাক্রমে কালাম ও সাখাওয়াত ক্ষমতার চেয়ারে বসেন| দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই এই দুই নেতা নারায়ণগঞ্জ শহরকে একটি পরিকল্পিত নগরীতে পরিণত করার লক্ষ্যে কাজ শুরু করেন|
তাদের এই ঐক্যবদ্ধ প্রয়াসের বাস্তবায়ন দেখা গেছে ১৩ এপ্রিল| নারায়ণগঞ্জের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছেন আবুল কালাম ও সাখাওয়াত হোসেন খান| উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী সাখাওয়াত হোসেন খানের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন আবুল কালাম| এরপর ২০১৯ সাল থেকে তাদের রাজনীতিতে একত্রে সক্রিয় দেখা যায়| তবে ২০২২ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি গঠনের পর দুইজনকে আর একত্রে খুব একটা দেখা যায়নি|
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে এমপি নির্বাচিত হন আবুল কালাম এবং ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ নেওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যে সাখাওয়াত হোসেন খান সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নিযুক্ত হন| জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই তারা শহরের প্রধান সমস্যা হকার ও যানজট নিরসনে একমত হন| হকার উচ্ছেদ ও যানজট সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি সুপেয় পানি সরবরাহ ও মশাবাহী রোগ নিয়ন্ত্রণেও তাদের একত্রে কাজ করতে দেখা গেছে|
বিএনপি সরকার পরিচালনার এই দেড় মাসে শহরের হকার উচ্ছেদ অভিযানের সফলতার জন্য পুরো জেলায় বিএনপি এমপি ও প্রশাসকের প্রশংসা করা হচ্ছে| হকার উচ্ছেদ অভিযানে বিএনপি ও বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সব দলের নেতাদেরও একত্রে অংশ নিতে দেখা গেছে|
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেছেন, “আমরা নারায়ণগঞ্জের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে নাগরিকদের সম্পৃক্ত করতে চাই| নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধি করতে চাই, যাতে নারায়ণগঞ্জ একটি চকচকে ঝকঝকে পরিষ্কার নগরীতে পরিণত হয়| আমরা সকল নাগরিকের সমান সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে চাই এবং সিটি কর্পোরেশনের নাগরিকদের জন্য সর্বোচ্চ নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে আমরা নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছি|”
তিনি আরও বলেন, “আমরা নষ্ট সড়কগুলো মেরামত করছি| সিটি কর্পোরেশনের ৩২টি খাল খনন করা হচ্ছে| ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে আমরা কাজ করব| ড্রেনগুলো পরিষ্কার করা হচ্ছে এবং সুপেয় পানি নিশ্চিত করার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে|”
এই দুই নেতার ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগে নারায়ণগঞ্জের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল হবে বলে আশা করা যাচ্ছে|

