নারায়ণগঞ্জে বিশেষ অভিযানে সর্বমোট ৮৪ জন গ্রেপ্তার, উদ্ধার বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ও গাঁজা
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি : মোঃ রিদয় মল্লিক

নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ ও গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)-র যৌথ বিশেষ অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় মাদক ব্যবসায়ী, সেবনকারী, পরোয়ানাভুক্ত আসামিসহ সর্বমোট ৮৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় গ্রেপ্তারকৃতদের নিকট থেকে ২৬ হাজার ১৯১ পিস ইয়াবা এবং ২ কেজি ৫০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়। জেলার সাতটি থানা ও ডিবি পুলিশের পৃথক টিমের সমন্বয়ে গত এক দিনে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযানে গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে মাদক ব্যবসায়ী ১৬ জন, মাদকসেবী ৫৪ জন, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ৬ জন, নিয়মিত মামলার আসামি ৩ জন, অন্যান্য ধারায় ১ জন এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের ৪ জন সদস্য রয়েছেন।
সোনারগাঁও থানা: সর্বোচ্চ পরিমাণ মাদক উদ্ধার ও গ্রেপ্তার করে এই থানা। এখান থেকে ২৩,০৭৫ পিস ইয়াবাসহ ৬ জন মাদক ব্যবসায়ী, ১৬ জন মাদকসেবী, ১ জন পরোয়ানাভুক্ত আসামি এবং নিষিদ্ধ সংগঠনের ১ জনসহ মোট ২৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানা: ৩,০০০ পিস ইয়াবাসহ ২ জন মাদক ব্যবসায়ী, ৯ জন মাদকসেবী, ১ জন পরোয়ানাভুক্ত, ১ জন নিয়মিত মামলার আসামি এবং নিষিদ্ধ সংগঠনের ১ জনসহ মোট ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ফতুল্লা মডেল থানা: সর্বাধিক ৩০ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করে ফতুল্লা পুলিশ। এর মধ্যে ৭৩ পিস ইয়াবাসহ ৫ জন মাদক ব্যবসায়ী, ১৮ জন মাদকসেবী, পরোয়ানাভুক্ত ৩ জন, নিয়মিত মামলার ২ জন, অন্যান্য ধারায় ১ জন এবং নিষিদ্ধ সংগঠনের ১ জন রয়েছে।
রূপগঞ্জ থানা: ২৫ পিস ইয়াবা ও ১ কেজি গাঁজাসহ ১ জন মাদক ব্যবসায়ী, ৩ জন মাদকসেবী এবং নিষিদ্ধ সংগঠনের ১ জনসহ মোট ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বন্দর থানা: ১ কেজি ৫০০ গ্রাম গাঁজাসহ ১ জন মাদক ব্যবসায়ী, ২ জন মাদকসেবী ও পরোয়ানাভুক্ত ১ জনসহ মোট ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ সদর থানা: ১৮ পিস ইয়াবাসহ ১ জন মাদক ব্যবসায়ী এবং ৩ জন মাদকসেবীসহ মোট ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আড়াইহাজার থানা: অভিযান চালিয়ে ৩ জন মাদকসেবীকে গ্রেপ্তার করে আড়াইহাজার থানা পুলিশ।
পুলিশ প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে, মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে জেলার সর্বত্র এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়ের শেষে আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে।

