বন্দরে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র ও নগদ টাকাসহ কুখ্যাত ডাকাত মামুনসহ ৩ জন গ্রেফতার
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি : মোঃ রিদয় মল্লিক

নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে কুখ্যাত ডাকাত সর্দার মো. মামুনসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র, ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত মোবাইল ফোন এবং নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়।
৩০ অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ দিবাগত রাতে বন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জামাল উদ্দিনের প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ৩০ অক্টোবর রাত ৩টা ৫০ মিনিটের দিকে বন্দর থানাধীন সোনাচড়াবাগ এলাকার সাবেক কমিশনার শামসুজ্জোহার বাড়ির সামনে মো. রফিকুল ইসলামের বালুর মাঠে একটি বিশেষ অভিযান চালায় পুলিশ দল। অভিযানে বন্দর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মো. মিজানুর রহমান, এসআই আবদুল আলিম, এসআই মামুন ইসলাম ও এসআই ইয়াসিন আরাফাত সঙ্গীয় ফোর্সসহ অংশ নেন।
অভিযানকালে পুলিশ কুখ্যাত ডাকাত মো. মামুনসহ তিনজনকে হাতেনাতে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন: মো. মামুন (৪৬), পিতা- মৃত আকবর ডাকাত, সাং- সোনাচড়া। মো. মুক্তার হোসেন (৫০), পিতা- মৃত ওসমান, মাতা- ফিরোজা বেগম, সাং- সোনাচরাবাগ। রিয়াদ (২২), পিতা- জয়নাল, মাতা- ইয়াসমিন, সাং- সোনাচরাবাগ (সর্বথানা- বন্দর, জেলা- নারায়ণগঞ্জ)।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা স্বীকার করেছেন যে, তারা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ডাকাতি সংগঠনসহ বিভিন্ন গুরুতর অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন এবং এসব কাজে ব্যবহারের জন্যই নিজেদের হেফাজতে দেশীয় অস্ত্রগুলো রেখেছিলেন।
গ্রেফতারকৃতদের হেফাজত ও তল্লাশি করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিচের দেশীয় অস্ত্র ও সরঞ্জাম জব্দ করে— ৩টি ছোরা, ৩টি চাপাতি, ১টি রামদা, ২টি কাঠের বাটযুক্ত ছেনি, ১টি এসএস পাইপের নিউ চাইনিজ কুড়াল।
ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত ১টি ‘Tecno SPARK 40’ মোবাইল ফোন
নগদ ৫,১৫০/- (পাঁচ হাজার একশত পঞ্চাশ) টাকা (যার মধ্যে ২০০ টাকার নোট ১টি, ১০০ টাকার নোট ৪০টি, ৫০ টাকার নোট ১১টি, ২০ টাকার নোট ১৫টি এবং ১০ টাকার নোট ১০টি রয়েছে)।
এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে বন্দর থানায় ডাকাতি প্রস্তুতি মামলা রুজু করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত প্রধান আসামি মো. মামুনের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক ডাকাতি মামলাসহ মোট ২৯টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং অপরাধীদের দমনে বন্দর থানা পুলিশের এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে থানা কর্তৃপক্ষ।

