নারায়ণগঞ্জ শহরকে জঞ্জালমুক্ত ও শান্তিপূর্ণ করতে হার্ডলাইনে প্রশাসন
নারায়ণগঞ্জ শহরকে জঞ্জালমুক্ত ও শান্তিপূর্ণ করতে হার্ডলাইনে প্রশাসন

দীর্ঘদিনের জঞ্জাল, অব্যবস্থাপনা, ফুটপাত দখল, অবৈধ যানবাহন, যানজট ও অপরাধমুক্ত করে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফেরাতে এবার হার্ডলাইনে নারায়ণগঞ্জ প্রশাসন। নগরীর শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে একযোগে মাঠে নেমেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম,নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোঃ রায়হান কবির, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এনডিএ) চেয়ারম্যান মাসুকুল ইসলাম রাজীব এবং পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান।
ইতোমধ্যে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় শুরু হয়েছে একের পর এক অভিযান। সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য ও সাম্প্রতিক কার্যক্রমে স্পষ্ট হয়েছে, এবার বিচ্ছিন্ন অভিযান নয়— সমন্বিতভাবে নারায়ণগঞ্জ শহরের চেহারা বদলে দেওয়ার লক্ষ্যেই এগোচ্ছে প্রশাসন।
দীর্ঘদিন ধরে নারায়ণগঞ্জ শহরের অন্যতম প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে ফুটপাত দখল। বিশেষ করে বঙ্গবন্ধু সড়ক, চাষাঢ়া ও আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ সড়কে ফুটপাত দখল করে ব্যবসা পরিচালনার কারণে পথচারীদের মূল সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে যানজটের পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে।
এ অবস্থায় ফুটপাত দখলমুক্ত করতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সিটি কর্পোরেশন। নাসিক প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান ইতোমধ্যে স্পষ্ট করেছেন, হকারদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত স্থানে না গিয়ে সড়ক ও ফুটপাত দখল করে ব্যবসা চালিয়ে গেলে এবার কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একই সঙ্গে নগরীর যানজটের অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত অবৈধ ও অননুমোদিত অটোরিকশা-মিশুকের বিরুদ্ধেও অভিযান শুরু করেছে সিটি কর্পোরেশন। নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পরিচালিত অভিযানে এসব যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
শান্তিপূর্ণ নারায়ণগঞ্জ গড়তে জেলা পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত।
শুধু সিটি কর্পোরেশন নয়, নগরীর সামগ্রিক শৃঙ্খলা ফেরাতে পুলিশ প্রশাসনও মাঠে রয়েছে। পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান অত্যন্ত দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার আলোকে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব দিয়ে নারায়ণগঞ্জকে শান্তিপূর্ণ জেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে কাজ করে যাচ্ছেন।
যোগদানের প্রথম দিন থেকেই তিনি অপরাধীদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করছেন। তার নেতৃত্বে মাদক, কিশোর গ্যাং ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। এরই মধ্যে জেলার বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক অভিযানে হাজার হাজার অপরাধী গ্রেপ্তার হয়েছে।
পাশাপাশি যানজট নিরসনেও তিনি সর্বোচ্চ ভূমিকা পালন করছেন। যানজট নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে সহযোগিতা করতে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের উদ্যোগে স্বেচ্ছাসেবকদের মাঠে নামানো হয়েছে। চাষাঢ়াসহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে নারায়ণগঞ্জের উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ নগর পরিকল্পনা নিয়েও কাজ করছে নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। এনডিএ চেয়ারম্যান মাসুকুল ইসলাম রাজীবের নেতৃত্বে নগরীর পরিকল্পিত উন্নয়ন, সড়ক ব্যবস্থাপনা, দখলমুক্তকরণ এবং ভবিষ্যৎ নগর কাঠামো নিয়ে কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। জেলা প্রশাসক রায়হান কবিরও নগরীর সার্বিক শৃঙ্খলা ও নাগরিক সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।
স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম বলেন, নারায়ণগঞ্জ শহরকে পরিকল্পিত ও বসবাসযোগ্য নগরীতে পরিণত করতে হলে দীর্ঘদিনের জঞ্জাল একদিনে দূর করা সম্ভব নয়। এজন্য ধারাবাহিকভাবে কাজ করতে হবে এবং প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও নাগরিকদের একসঙ্গে এগিয়ে আসতে হবে।
তবে নগরবাসীর প্রশ্ন— এবারের অভিযান কতটা স্থায়ী হবে? অতীতে বহুবার ফুটপাত দখলমুক্ত ও অবৈধ যান উচ্ছেদ অভিযান হলেও কিছুদিন পর আবারও আগের চিত্র ফিরে এসেছে। ফলে এবার শুধু অভিযান নয়, অভিযানের পর নিয়মিত নজরদারি ও কঠোর আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, চলমান অভিযান আরও বিস্তৃত করার প্রস্তুতি চলছে। নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি অবৈধ যান, ফুটপাত দখল, সড়ক দখল ও নগর অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

