সারাদেশ

যোগদানের পরই অপরাধ দমনে সাফল্য, মডেল নারায়ণগঞ্জ নির্মাণে এসপি হাবিবুর রহমানকে নিয়ে আশাবাদী জেলাবাসী

যোগদানের পরই অপরাধ দমনে সাফল্য, মডেল নারায়ণগঞ্জ নির্মাণে এসপি হাবিবুর রহমানকে নিয়ে আশাবাদী জেলাবাসী

 

 

নারায়ণগঞ্জ জেলায় নবাগত পুলিশ সুপার হিসেবে যোগদানের পরই অপরাধ দমনে চমক দেখিয়েছেন মো. হাবিবুর রহমান, পিপিএম-সেবা। দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিন থেকেই মাদক, কিশোর গ্যাং, চাঁদাবাজি, ডাকাতি, প্রতারক চক্র ও নিষিদ্ধ সংগঠনের বিরুদ্ধে একের পর এক সফল অভিযান পরিচালনা করে জেলা বাসীর কাছে তিনি প্রমাণ করেছেন— পুলিশ চাইলে সকল প্রকার অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

 

যোগদানের এক মাসের মধ্যেই দ্রুত সাফল্য অর্জন করায় মডেল নারায়ণগঞ্জ নির্মাণে তাকে নিয়ে আশাবাদী হয়ে উঠেছে জেলাবাসী।

 

জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, তার নির্দেশনায় গত এক মাসে জেলার ৭টি থানা ও ডিবি পুলিশের বিশেষ অভিযানে মাদক ব্যবসায়ী ও সেবী, নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্য, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি, চোর, ডাকাত, চাঁদাবাজ ও নিয়মিত মামলার আসামিসহ প্রায় দুই হাজারেরও বেশি অপরাধীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণে রাখতে দিনরাত মাঠে কাজ করছে জেলা পুলিশ।

 

সম্প্রতি ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের অভিযানে সাইনবোর্ড এলাকা থেকে ৬১টি পাসপোর্ট, ৫টি জাতীয় পরিচয়পত্র ও ৬টি সরকারি গুরুত্বপূর্ণ সিলসহ প্রতারক চক্রের ৩ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। এছাড়া সদর, সিদ্ধিরগঞ্জ, সোনারগাঁও, আড়াইহাজার ও বন্দরসহ বিভিন্ন থানায় ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার এবং অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

 

জেলার ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বলেন, এর আগে এত দ্রুত সময়ে এত সফল অভিযান দেখা যায়নি। নবাগত এসপির কঠোর অবস্থানের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। রাতে মানুষ শান্তিতে ঘুমাতে পারছে, ব্যবসায়ীরা নিরাপদে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারছে। অনেক চিহ্নিত অপরাধীরা গা-ঢাকা দিতে শুরু করেছে।

 

এ বিষয়ে পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান বলেন, আমি কোনো বাহবা নিতে আসিনি, আমি আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও দক্ষতা দিয়ে পালন করতে এসেছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে- পুলিশ বাহিনীর প্রতিটি সদস্য রাষ্ট্রের পেশাদার কর্মকর্তা এবং জনগণের কাছে দায়বদ্ধ।

 

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার পুলিশকে সম্পূর্ণ পেশাদারত্ব ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে স্বাধীনভাবে কাজ করার পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছে। আমার লক্ষ্য একটাই— মানুষ নিশ্চিন্তে রাস্তা দিয়ে চলাচল করবে, ব্যবসায়ীরা নিরাপদে ব্যবসা করবে এবং রাতে শান্তিতে ঘুমাবে।

 

এসপি হাবিবুর রহমান বলেন, নারায়ণগঞ্জ একটি বৃহৎ শিল্পাঞ্চল ও ঘনবসতিপূর্ণ জেলা। এক কোটি মানুষের এই জেলায় সীমিত ফোর্স দিয়ে নিরাপত্তা দেওয়া অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। তারপরও আমরা মাদক, কিশোর গ্যাং ও সাইবার অপরাধ দমনে জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছি। কোনো অপরাধীকেই ছাড় দেওয়া হবে না। নারায়ণগঞ্জকে একটি অপরাধমুক্ত, শান্তিপূর্ণ মডেল জেলা হিসেবে গড়ে তোলাই আমাদের অঙ্গীকার।নারায়ণগঞ্জকে অপরাধ মুক্ত করতে অপরাধীদের বিরুদ্ধে এই চলমান অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

 

স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা জানান, একজন সৎ, সাহসী ও কর্মঠ পুলিশ সুপার পেয়ে নারায়ণগঞ্জবাসী আশাবাদী। তার এই ধারাবাহিক অভিযান অব্যাহত থাকলে নারায়ণগঞ্জ জেলা মডেল জেলায় পরিণত হবে।

Leave a Reply

Back to top button