রাজনীতি

​আইনজীবীদের ঐক্য ও অধিকার রক্ষায় কাজ করব: এড. সাখাওয়াত হোসেন খান

​আইনজীবীদের ঐক্য ও অধিকার রক্ষায় কাজ করব: এড. সাখাওয়াত হোসেন খান

‎‎নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ও নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এড. সাখাওয়াত হোসেন খান বলেছেন, “আমি সক্রিয় মানুষ। অসুস্থ হলেও যতদিন বেঁচে আছি, ততদিন আইনজীবীদের পাশে আছি। আমাদের মধ্যে ঐক্য থাকতে হবে। ঐক্য না থাকলে আইনজীবীদের উন্নয়ন ও অধিকার রক্ষার কার্যক্রম ব্যাহত হবে।

 

‎‎বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির ভবনের নিচতলায় আইনজীবীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

 

‎‎সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকলেও সবাইকে ধৈর্য ধরতে হবে। পিপি-এপিপি নিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “পিপি-এপিপি পদে প্রায় ১০০ থেকে ১২০ জন নিয়োগ দেওয়া হবে। অথচ আমার কাছে ৪০০ থেকে ৪৫০ জনের মতো আবেদন এসেছে। এটি অত্যন্ত কঠিন একটি প্রক্রিয়া। তবে যারা মাঠে ছিলেন, তাদেরই অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। পিপি-এপিপি পদ স্থায়ী নয়। সময়ের সঙ্গে এসব পদে পরিবর্তন আসবে। যারা পিপি-এপিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন, তারা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না এবং একই সঙ্গে আইনজীবী ফোরামের নেতৃত্বেও থাকতে পারবেন না বলে জানান তিনি।

‎‎

‎‎‎নারায়ণগঞ্জের আদালত স্থানান্তর প্রসঙ্গে সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, বর্তমানে নারায়ণগঞ্জে থাকা সব আদালত একসঙ্গে অন্যত্র স্থানান্তর করা হবে না। আপাতততত সাইবার কোর্ট, বিদ্যুৎ কোর্ট, নারী ও শিশু আদালতসহ কয়েকটি আদালত স্থানান্তরের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে বলে জানান তিনি। জেলখানার পেছনে প্রায় ৩ থেকে ৪ একর জমি রয়েছে। সেখানে বিচারকদের আবাসন, আইনজীবী সমিতির ভবনসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ বিষয়ে আইনমন্ত্রীর সঙ্গে তার কথা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

‎‎তিনি আরো বলেন, আদালত স্থানান্তর হলে বর্তমান আইনজীবী সমিতি ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের যে ক্ষতিপূরণ প্রাপ্য, সেটিও সরকারিভাবে দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ নিয়ে আইনজীবীদের বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আপনারা জজ সাহেবদের সঙ্গে কথা বলে দেখবেন। এখনই এ ধরনের কোনো কাজ হচ্ছে না। তাই বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করবেন না৷ ‎‎সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আদালত স্থানান্তর নিয়ে যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো তথ্য প্রচার না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সঠিক তথ্য জেনে তারপর পোস্ট করা উচিত। ‎‎আইনজীবীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে ‎সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, “আমি এখানে কিছু নিতে আসিনি। আমার পরিবারের কেউও এ ধরনের কোনো সুবিধা পায়নি। আপনারাই যোগ্যতার ভিত্তিতে যাদের সুযোগ দিয়েছেন, তাদেরই দিয়েছেন। আমরা সবাই মিলেমিশে থাকতে চাই। আমাদের ঐক্য অটুট রাখতে হবে।”

‎‎তিনি আরও বলেন, নারায়ণগঞ্জ শহরের উন্নয়ন ও যোগাযোগব্যবস্থা নিয়ে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। ভবিষ্যতে শহর ধীরে ধীরে নতুন এলাকাগুলোর দিকে সম্প্রসারিত হবে। এ কারণে বর্তমানে আদালতের আশপাশে বসবাসকারী অনেকের স্থাপনা ভবিষ্যতে উচ্ছেদ বা অধিগ্রহণের আওতায় আসতে পারে এবং তারা ক্ষতিপূরণও পেতে পারেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

 

‎‎নিজের অতীত উদ্যোগের কথা তুলে ধরে সাখাওয়াত বলেন, তিনি আইনজীবী সমিতির সভাপতি থাকাকালে পুরোনো আদালত, ডিসি অফিস ও বাসভবনসহ বিভিন্ন সরকারি স্থাপনা অন্যত্র স্থানান্তরের একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছিলেন। তবে পরবর্তীতে রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের কারণে সেই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। আমরা জনগণের পাশে থাকতে চাই। আমি যদি না থাকি, আমার পদও থাকবে না। তাই যতদিন দায়িত্বে আছি, আইনজীবীসহ সাধারণ মানুষের স্বার্থে কাজ করে যেতে চাই।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি এড. খোরশেদ আলম মোল্লা ও এড. আজিজুর রহমান মোল্লার সার্বিক তত্বাবধানে এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এড. সরকার হুমায়ূন কবির, সিনিয়র সভাপতি এড. আব্দুল গাফ্ফার, সিনিয়র আইনজীবী এড. নবী হোসেন, এড. মোঃ সবুজ এড. মোহাম্মদ বোরহান সহ নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

 

Leave a Reply

Back to top button