
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার পাগলায় ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ফেক্সিলোড ব্যবসায়ীকে অপহরণের চেষ্টা করেন দুর্বৃত্তরা। এসময় স্থানীয় লোকজন ডিবি পরিচয়দানকারীদের পরিচয়পত্র দেখতে চাইলে তারা এলোপাথারী গুলি করে পালানোর চেষ্টা করেন। এতে ৪জন গুলিবিদ্ধ হয়েছে। আহতদের নাম পরিচয় তাৎক্ষনিক পাওয়া যায়নি। তাদের ঢাকা মেডিকেলে নেয়া হয়েছে। তখন স্থানীয় লোকজন ধাওয়া করে শামীম ওরফে জুয়েল নামে একজনকে মোটরসাইকেলসহ আটক করে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোর্পদ করেছে।
রোববার (১৯ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১১টায় ফতুল্লার কুতুবপুর পশ্চিম রসুলপুর ভাঙ্গারপুল এলাকায় সুমন মিয়ার ফেক্সিলোডের দোকানে এঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুদিন পূর্বে সুমন মিয়ার দোকান থেকে শামীম ওরফে জুয়েল নামের আটক ওই ব্যক্তি ২ হাজার টাকা ফেক্সিলোড করে টাকা দিতে ব্যর্থ হয়। এতে সুমন তাকে আটক রেখে টাকা আদায় করে ছেড়ে দেয়। এঘটনার প্রতিশোধ নিতে রোববার রাত সাড়ে ১১টায় দুটি মোটর সাইকেল যোগে শামীম সহ তারা ৪/৫ জন যুবক সুমনের ফেক্সিলোড দোকানে আসেন।এরপর তারা নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে সুমনকে মোটরসাইকেলে উঠানোর চেষ্টা করেন। তখন স্থানীয় আনোয়ার হোসেন নামে এক ব্যক্তি তাদের পরিচয়পত্র দেখতে চায়। এসময় তার বুকে পিস্তল ঠেকিয়ে তারা পালানোর চেষ্টা করলে স্থানীয় জনতা তাদের চার দিক ঘিরে ধরে। তখন তারা পালানোর জন্য এলোপাথারী গুলি করতে থাকে। এসময় শরীরের বিভিন্ন স্থানে ৪জন গুলিবিদ্ধ হয়। তখন স্থানীয় লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের ধাওয়া করে। এতে অন্যরা পিস্তলসহ পালিয়ে গেলেও মোটরসাইকেলসহ শামীম ওরফে জুয়েলকে আটক করে গণধোলাই দেন স্থানীয় জনতা। এরপর পুলিশ এসে তাকে ৪টি গুলির খোসাসহ থানায় নিয়ে যায়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফতুল্লা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহবুব আলম জানান, ৪জন পথচারী গুলিবিদ্ধ হয়েছে। তাদের মধ্যে আমির হোসেন নামে ১জনের অবস্থা গুরুতর। অন্যরা গুলিবিদ্ধ হয়নি তবে শরীরের বিভিন্ন স্থান ঘেষে গেছে গুলি। এতে তারা সামান্য আহত হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে ৪টি গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, মারধরে আটক ব্যক্তি নিজের নাম একবার বলেছে শামীম আরেকবার বলেছে জুয়েল। সে কিছুটা অসুস্থ তাকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। তার কাছ থেকে অস্ত্রধারীদের নাম পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে। এবিষয়ে আরো বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে।

