হাদি হ’ত্যা মা’মলায় নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রে’প্তার ফয়সাল করিমের স্ত্রী, জামিন নামঞ্জুর
হাদি হ'ত্যা মা'মলায় নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রে'প্তার ফয়সাল করিমের স্ত্রী, জামিন নামঞ্জুর

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার অন্যতম সন্দেহভাজন সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী ফয়সাল করিম মাসুদের স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়ার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মোহাম্মদ মঈন উদ্দীন চৌধুরীর আদালতে সামিয়ার পক্ষে আইনজীবী রুবেল মিয়া জামিন আবেদন শুনানি করেন।
শুনানিতে তিনি দাবি করেন, সামিয়া দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে রয়েছেন এবং সম্প্রতি তার মা মারা গেছেন। তিনি বলেন, মূল ঘটনার সঙ্গে ফয়সাল করিম জড়িত থাকতে পারেন, তবে তার স্ত্রী সামিয়ার সংশ্লিষ্টতার কোনো প্রমাণ নেই। এসব দিক বিবেচনায় জামিন দেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি।
অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করে। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে দেন।
গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জ থেকে সামিয়াকে গ্রেপ্তার করে পল্টন থানায় হস্তান্তর করা হয়। পরে তাকে দুই দফায় মোট ৯ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। গত ২৪ ডিসেম্বর আদালতে জবানবন্দি দেওয়ার পর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
জুলাই অভ্যুত্থান ও আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে পরিচিতি পাওয়া শরীফ ওসমান হাদি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন।
গত বছরের ১২ ডিসেম্বর গণসংযোগের জন্য বিজয়নগর এলাকায় গেলে আততায়ীর গুলিতে গুরুতর আহত হন তিনি। মাথায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করা হয়। পরে রাতেই এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দুদিন পর উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যুর খবর আসে।
হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। পরে হাদির মৃত্যুর পর মামলায় হত্যা ধারাসহ ৩০২ ধারা যুক্ত করা হয়।
তদন্ত শেষে সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি, সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী ফয়সাল করিম মাসুদসহ ১৭ জনকে আসামি করে গত ৬ জানুয়ারি অভিযোগপত্র জমা দেয় গোয়েন্দা পুলিশ।
তবে অভিযোগপত্রে অসন্তোষ প্রকাশ করে ১৫ জানুয়ারি আদালতে নারাজি আবেদন করেন মামলার বাদী। আদালত আবেদন গ্রহণ করে অধিকতর তদন্তের জন্য মামলাটি সিআইডির কাছে হস্তান্তরের নির্দেশ দেন।

