সারাদেশ

ফতুল্লায় দুই দিন ছুটির পর কারখানায় ফিরেছেন শ্রমিকেরা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি : মোঃ রিদয় মল্লিক

ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে চলমান আন্দোলনের পর দুই দিনের ছুটি শেষে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় নিজ নিজ কারখানায় ফিরেছেন পোশাকশ্রমিকেরা। রোববার (৮ নভেম্বর) সকাল থেকে শ্রমিকেরা কাজে যোগ দিয়েছেন এবং কারখানাগুলোতে উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে।

​তবে নতুন করে কোনো ধরনের শ্রমিক অসন্তোষ কিংবা অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে পুলিশ, বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

​সকাল থেকে ফতুল্লার শিবু মার্কেট, কাঠেরপুল, রামারবাগ ও নয়ামাটি এলাকা ঘুরে পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), শিল্প পুলিশ ও গ্রাম পুলিশের সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটও দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া পুরো এলাকায় বিজিবির নয় প্লাটুন সদস্য মোতায়েন রয়েছেন।

 

0-3840×2160-0-0-{}-0-12#bokehtype:0#;illum:2 scene:23 humanIn:4;

​কারখানা ও শ্রমিক সূত্রে জানা যায়, রবিবার সকাল থেকেই শ্রমিকেরা প্রতিদিনের মতো কারખાনায় প্রবেশ করে কাজে যোগ দেন। পরিস্থিতি এখন পর্যন্ত সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে।

​নারায়ণগঞ্জ শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, “আমরা শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা আমাদের জানিয়েছেন, আর আন্দোলন করবেন না। শ্রমিকেরা সকলে সরকারের প্রতি আস্থা রেখেছেন।” তিনি আরও জানান, এরপরও যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য গুরুত্বপূর্ণ কারখানা ও সড়কে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে। এখন পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জে কোনো কারখানায় উৎপাদন বন্ধ হয়নি।

​উল্লেখ্য, শ্রম পরিস্থিতি ও সার্বিক নিরাপত্তার বিষয় বিবেচনা করে গত শনিবার (৭ নভেম্বর) নিজ নিজ কারখানায় ছুটি ঘোষণার জন্য সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে অনুরোধ জানিয়েছিল বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিকেএমইএ)। গত ৫ নভেম্বর সংগঠনটির ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. মাহাবুবুর রহমান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই অনুরোধ জানানো হয়েছিল।

​এর আগে, ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে গত ২ থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত ফতুল্লার কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা টানা তিন দিন বিক্ষোভ করেন। বিশেষ করে ৩ ও ৪ নভেম্বর ফতুল্লায় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

​এসব সহিংস ও ভাঙচুরের ঘটনায় পুলিশ পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছে। প্রথম মামলায় ২১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। দ্বিতীয় মামলায় ৪২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ২০০ থেকে ৩০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার এজাহারে শ্রমিক আন্দোলনে রাজনৈতিক ইন্ধন রয়েছে বলে অভিযোগ করেছে পুলিশ, যেখানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দল ও এর অঙ্গসংগঠনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

Leave a Reply

Back to top button