সারাদেশ

পুনর্বাসনের দাবিতে চতুর্থ দিনেও হকারদের বিক্ষোভ

পুনর্বাসনের দাবিতে চতুর্থ দিনেও হকারদের বিক্ষোভ

আন্দোলনের চতুর্থ দিনে আবারও নারায়ণগঞ্জ শহরের হকাররা পুনর্বাসনের আগে উচ্ছেদের বিরোধীতা করে বিক্ষোভ মিছিল করেছে। তাদের দাবি, পুনর্বাসনের আগ পর্যন্ত বিকেল চারটা থেকে তাদের ফুটপাতে বসতে দেওয়া হোক।

 

কিন্তু একইদিন টানা উচ্ছেদ অভিযানের অংশ হিসেবে সড়কে ছিল ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের উচ্ছেদ কর্মীরা।

 

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বিকেলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জড়ো হন কয়েকশ’ হকার। পৌনে চারটার দিকে মিছিল বের করেন তারা।

 

এ সময় তারা সড়কের ফুটপাত দখল করে বসার দাবিতে নানা স্লোগান দেন।

 

হকারদের নেতৃত্ব দেন জাতীয়তাবাদী হকার ইউনিয়ন দলের নারায়ণগঞ্জ মহানগরের সভাপতি কেএম মিজানুর রহমান রনি।

 

তিনি বক্তব্যে তাদের দাবিগুলো প্রশাসনের কর্তাদের বিবেচনা করে দেখার আহ্বান জানান।

 

হকাররা বলেন, “আমরা রাজনীতি করি না, রাজনীতি বুঝি না।আমাদের ছেলে-মেয়েদের স্কুল থেকে বেতন চাচ্ছে। বাড়ি ভাড়া যাচ্ছে, কিন্তু আমরা দিতে পারছি না। আমাদের জন্য আপনারা ক্ষমতায় এসেছেন। আমরা না থাকলে আপনারা কোটিপতি হতে পারতেন না। আমরা এদেশের মানুষ আমাদেরকে একটু সম্মান দেন। আমরাও আপনাদেরকে দিবো।”

 

তারা বলেন, “আমরা কারও বিরুদ্ধে যাচ্ছি না। আমরা একটি সমাধান চাচ্ছি। আমাদের রুটি-রুজির জন্য মাঠে নেমেছি। আমরা খেটে খাওয়া মানুষ। আপনাদের কাছে অনুরোধ আমাদের জন্য কিছু করেন। আমরা আপনাদের সহযোগিতা চাই। সরকার আসবে সরকার যাবে তবে রাজপথে হকার থাকবে।”

 

মিছিলে জাতীয়তাবাদী হকার ইউনিয়ন দলের সিনিয়র সহসভাপতি সাইফুল ইসলাম পাটোয়ারী, সহসভাপতি মো. আলাউদ্দিন, সবেক সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, হকার মনিরুজ্জামান, আজাদ, শাহজাহান প্রমুখ।

 

গত ১৩ এপ্রিল নগরবাসীর নির্বিঘ্নে চলাচলের সুবিধার্থে ফুটপাত থেকে হকারদের উচ্ছেদ করে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন। গত কয়েকদিন ধরে হকারমুক্ত ফুটপাতে স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল করতে পারছেন নগরবাসী।

 

কিন্তু হকাররাও পুনর্বাসনের আগ পর্যন্ত তাদের ফুটপাতেই ব্যবসা করার দাবি জানিয়ে আসছেন।

 

অন্যদিকে, নগর কর্তৃপক্ষ বলছে, ফুটপাত নগরবাসীর হাটাচলার জন্য ফাঁকাই থাকবে। সেখানে কোনোভাবেই হকারদের বসতে দেওয়া হবে না। এজন্য নিয়মিত অভিযানেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে।

Leave a Reply

Back to top button