জাতীয়সারাদেশ

চট্টগ্রামে নারীদের জন্য চালু হলো বিশেষ বাসসেবা

চট্টগ্রামে নারীদের জন্য চালু হলো বিশেষ বাসসেবা

 

চট্টগ্রাম নগরে নারীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যাতায়াত নিশ্চিত করতে নারী চালক ও সহকারীসহ সম্পূর্ণ নারীদের পরিচালনায় বিআরটিসির বিশেষ ‘মহিলা বাস সার্ভিস’ চালু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে একটি দোতলা ও একটি একতলা গোলাপি বাস দিয়ে কালুরঘাট থেকে পতেঙ্গা পর্যন্ত এ সেবা দেওয়া হবে।

 

আজ মঙ্গলবার ঢাকার তেজগাঁওয়ে বিআরটিসি ডিপো থেকে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম ভার্চ্যুয়ালি এ সেবার উদ্বোধন করেন। চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র প্রান্ত থেকে অতিথিরা অনুষ্ঠানে যুক্ত হন। পরে সেখানে বেলুন উড়িয়ে চট্টগ্রামে বাস দুটির চলাচলের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

 

বাস দুটি কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে কাপ্তাই রাস্তার মাথা ও নগরের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন এলাকা হয়ে ফ্রি পোর্ট ও পতেঙ্গা পর্যন্ত চলাচল করবে। প্রায় ২২ থেকে ২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এ পথে যাত্রীদের জন্য ১২টি নির্ধারিত স্টপেজ রয়েছে। দূরত্ব অনুযায়ী সর্বনিম্ন ভাড়া ১০ টাকা এবং পুরো পথের সর্বোচ্চ ভাড়া ৬৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

 

প্রতিদিন সকাল সাড়ে সাতটায় কালুরঘাট থেকে প্রথম বাস ছেড়ে যাবে। এর আধঘণ্টা পর দ্বিতীয় বাসটি যাত্রা শুরু করবে। বাসগুলোর চালক ও সহকারী নারী; যাত্রী হিসেবেও কেবল নারীরাই চলাচল করবেন।

 

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, দিনটি চট্টগ্রাম ও নারীসমাজের জন্য স্মরণীয়। শিল্পনগরী চট্টগ্রামের বিভিন্ন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠানে হাজারো নারী কাজ করেন। তাঁদের নিরাপদে কর্মস্থলে যাতায়াত ও বাড়ি ফেরা নিশ্চিত করতে সরকার এ বিশেষ বাসসেবা চালু করেছে।

 

জেলা প্রশাসক বলেন, ‘বাসের চালক ও কন্ডাক্টরও নারী। ফলে নারী যাত্রীরা স্বাচ্ছন্দ্যময় পরিবেশে কোনো ধরনের হয়রানি ছাড়াই যাতায়াত করতে পারবেন বলে আমরা বিশ্বাস করি।’

 

ঢাকা ও বগুড়ার পাশাপাশি চট্টগ্রামেও এ বিশেষ বাসসেবা চালু হলো উল্লেখ করে মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, যাত্রীদের চাহিদা বাড়লে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে বাসের সংখ্যা ও চলাচলের পথ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। সরকার ৪০০টি নতুন বৈদ্যুতিক বাস কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মধ্যে ১০০টি নারীদের যাতায়াতের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সেখান থেকে বাস পাওয়া গেলে চট্টগ্রামে এ সেবা আরও সম্প্রসারণ করা সম্ভব হবে।

 

বাসের জন্য গোলাপি রং বেছে নেওয়ার বিষয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, নারীসমাজের কাছে পছন্দের রং হিসেবে গোলাপির প্রচলন রয়েছে। সেটি বিবেচনায় নিয়েই বাসের রং নির্ধারণ করা হয়েছে।

 

নারীদের এ বাসসেবা ব্যবহারে উৎসাহিত করতে নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানান জেলা প্রশাসক। একই সঙ্গে শিল্পকারখানার মালিকদের তাঁদের নারী কর্মীদের এ নিরাপদ যাতায়াতসুবিধা গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করার অনুরোধ জানান তিনি।

 

অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ বক্তব্য দেন। এ সময় চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দিন, চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক মো. নাজিমুল হক, জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম, বিআরটিএ চট্টগ্রাম বিভাগের পরিচালক মাসুদ আলম এবং বিআরটিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Back to top button