
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ‘মালঞ্চ পরিবহনে’ হামলা চালিয়ে ভাঙচুর, মারধর ও চাঁদাবাজির অভিযোগে সংঘবদ্ধ চক্রের ৪ জন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। এ সময় তাদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া মালামাল ও অপরাধে জড়িত থাকার তথ্য উদ্ধার করা হয়।
ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ মে ২০২৬ তারিখ সকালে জামালপুর থেকে ছেড়ে আসা ‘মালঞ্চ পরিবহনের’ একটি বাস (ঢাকা মেট্রো-ব-১১-৩৫৮১) নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সানারপাড় ইউটার্নে পৌঁছালে ৭-৮ জন দুর্বৃত্ত মোটরসাইকেল দিয়ে রাস্তা অবরুদ্ধ করে বাসটি থামায়। এ সময় বাসচালক আমিনুল ইসলাম ও হেলপার নজরুল ইসলামকে এলোপাতাড়ি মারধর করে জখম করা হয় এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক ৯,৫০০ নগদ টাকা, একটি স্পেয়ার চাকা (মূল্য প্রায় ২৮,০০০ টাকা), গাড়ির কাগজপত্র ও একটি টেকনো স্মার্টফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
পরবর্তীতে গত ২৯ মে চাঁদাবাজরা কাগজপত্র ফেরত দেওয়ার কথা বলে বিকাশ নম্বরের মাধ্যমে আরও ৬,০০০ টাকা হাতিয়ে নেয়। এ ঘটনায় মালঞ্চ পরিবহনের পরিচালক গোলাম মোস্তফা রানা বাদী হয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি নিয়মিত চাঁদাবাজি মামলা দায়ের করেন।
মামলার পর নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার জনাব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সীর নির্দেশনায় এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (জেলা গোয়েন্দা শাখা) জনাব মোঃ হাসিনুজ্জামান-এর তত্ত্বাবধানে ডিবি পুলিশের ক-জোন ইনচার্জ জনাব নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে এসআই (নিঃ) মিজানুর রহমান, পিপিএম সঙ্গীয় ফোর্সসহ গত ২২ জুলাই ২০২৬ খ্রিটাব্দে সিদ্ধিরগঞ্জের চিটাগাং রোড ও মিজমিজি এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেফতার করেন।
১. মো. সাখাওয়াত হোসেন সৈকত (৪০)—স্থায়ী ঠিকানা: চালনা, পলাশ, নরসিংদী; বর্তমান ঠিকানা: মুক্তিনগর, সিদ্ধিরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ। (তার বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, চাঁদাবাজি ও দস্যুতাসহ বিভিন্ন অপরাধে ৬টি মামলা রয়েছে)।
২. মো. সেন্টু (৪০)—স্থায়ী ঠিকানা: কিল্লারপুল, নারায়ণগঞ্জ। (তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ১টি মামলা রয়েছে)।
৩. মো. রবিন (৩৫)—স্থায়ী ঠিকানা: কাজীপাড়া, বরাবো, সোনারগাঁও, নারায়ণগঞ্জ। (তার বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজি ও ডাকাতিসহ ৬টি মামলা রয়েছে)।
৪. মো. ইউসুফ (২৬)—স্থায়ী ঠিকানা: ১নং ওয়ার্ড কালীবাড়ি, আমতলী পৌরসভা, বরগুনা; বর্তমান ঠিকানা: সিআই খোলা, সিদ্ধিরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ। (তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও দ্রুত বিচার আইনে ২টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে)।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, গ্রেফতারকৃতরা একটি সংঘবদ্ধ পরিবহন চাঁদাবাজ চক্রের সদস্য। তারা দীর্ঘদিন ধরে সিদ্ধিরগঞ্জ থানাসহ আশপাশের মহাসড়কে বিভিন্ন পরিবহনে জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করে আসছে।

