
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জের ২১৯টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-১১। এর মধ্যে ৯৩টি পূজামণ্ডপকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব মণ্ডপসহ জেলার সব পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টহল, সাদা পোশাকে নজরদারি, সিসিটিভি পর্যবেক্ষণ, ড্রোন ও সাইবার মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) নারায়ণগঞ্জ শহরের রামকৃষ্ণ মিশন পরিদর্শনকালে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান এসআরবি-১১-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মাসুদ পারভেজ।
তিনি বলেন, এসআরবি-১১-এর দায়িত্বপূর্ণ সাতটি জেলায় মোট ১ হাজার ৯৫০টি পূজামণ্ডপ রয়েছে। এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জ জেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে ২৪০টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা উদযাপিত হচ্ছে। উৎসব নির্বিঘ্ন ও শান্তিপূর্ণ করতে প্রতিটি মণ্ডপের নিরাপত্তায় বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।
এসআরবি-১১ অধিনায়ক জানান, নারায়ণগঞ্জে পূজার নিরাপত্তায় সাতটি টহল দল এবং সাদা পোশাকে ৩০ জন সদস্য মোতায়েন রয়েছেন। এ ছাড়া ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ সাত জেলায় সার্বক্ষণিক ১৮টি টহল দল কাজ করছে। পাশাপাশি মোবাইল স্ট্রাইকিং ফোর্স, কুইক রেসপন্স টিম, সমন্বয় সেল ও চেকপোস্টের মাধ্যমে নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, পূজামণ্ডপে যাতায়াতের সড়ক ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ‘শারদীয় সুরক্ষা অ্যাপস’-এর মাধ্যমে নিরাপত্তা কার্যক্রমের সমন্বয় করা হচ্ছে। পাশাপাশি সিসিটিভি ও ড্রোনের মাধ্যমে মণ্ডপ এবং আশপাশের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, অপপ্রচার ও উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে এসআরবি-১১-এর সাইবার টিম সার্বক্ষণিক নজরদারি করছে বলেও জানান তিনি।
প্রেস ব্রিফিংয়ে এসআরবি-১১ অধিনায়ক বলেন, মাদক, সন্ত্রাস, কিশোর গ্যাং, চাঁদাবাজি ও উচ্ছৃঙ্খল কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। দুর্গাপূজা ঘিরে যেকোনো ধরনের অরাজকতা, নাশকতা কিংবা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি সাধারণ মানুষকে গুজব ও অপপ্রচারে কান না দেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে পূজামণ্ডপ কিংবা আশপাশে সন্দেহজনক ব্যক্তি বা কার্যকলাপ দেখা গেলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর অনুরোধ করেন।
পূজা উদযাপন কমিটির সদস্যদের স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’—এই চেতনা ধারণ করে সবাইকে পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে দুর্গাপূজা উদযাপন করতে হবে।
এসআরবি-১১-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে ব্যাটালিয়নের সদস্যরা সার্বক্ষণিক তৎপর থাকবেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন সাধু নাগ মহাশয় আশ্রম এর সাধারণ সম্পাদক তারাপদ আচার্য, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শিখন সরকার শিপন, মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সুশীল দাস সহ অসংখ্য নেতৃবৃন্দ।

