সারাদেশ

কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কে গোমতী টাওয়ারের সামনে মাটি ফেলে ধুলাবালির দুর্ভোগ, কাজের তদারকি নিয়ে প্রশ্ন?

কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি: মোঃ মেহেদী হাসান সোহেল

 

কুমিল্লার ময়নামতি ক্যান্টনমেন্ট এলাকার গোমতী টাওয়ার মার্কেটের সামনে কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের মাঝখানে মাটি ফেলে রাখায় চরম ধুলাবালির দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। গত তিন-চার দিন ধরে মাটি ফেলে রাখার কারণে যানবাহন চলাচলের সময় ধুলা উড়ছে চারদিকে। এতে পথচারী, শিক্ষার্থী, শিশু, ব্যবসায়ী ও যাত্রীদের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

 

ময়নামতি ক্যান্টনমেন্ট এলাকার গুরুত্বপূর্ণ এই স্থানে রয়েছে গোমতী টাওয়ার মার্কেট এবং কাছেই ময়নামতি জেনারেল হাসপাতাল। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ কেনাকাটা, চিকিৎসা ও নানা প্রয়োজনে এ পথে চলাচল করেন। অথচ সড়কের মাঝখানে ফেলে রাখা মাটি থেকে উড়ে আসা ধুলাবালির কারণে তাঁদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি ও অসুস্থ রোগীদের জন্য এমন পরিবেশ উদ্বেগজনক।

 

স্থানীয়দের ধারণা, সড়কের মাঝের ডিভাইডারের পাকা অংশের পাশে মাটি ভরাটের কাজের জন্য মাটি ফেলা হয়েছে। তবে কাজটি কবে শেষ হবে, সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা তাঁদের জানা নেই। তাঁদের প্রশ্ন, সড়কের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে কাজ করতে হলে পরিকল্পনা ও সময় ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা হচ্ছে কি না।

 

কাজ শুরু করলেই দায়িত্ব শেষ নয়, জনদুর্ভোগ কমানোও সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব। তিন-চার দিন ধরে মাটি ফেলে রাখার পরও ধুলাবালি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা না থাকলে কাজের পরিকল্পনা, অগ্রগতি ও তদারকি নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। রাতে পরিকল্পিতভাবে কাজ সম্পন্ন করার সুযোগ ছিল কি না, কিংবা কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিয়মিত পানি ছিটিয়ে ধুলা নিয়ন্ত্রণ করা যেত কি না—সেসব বিষয় বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

 

ধুলাবালিযুক্ত বাতাসে দীর্ঘ সময় অবস্থান করলে শ্বাসকষ্ট, অ্যালার্জি ও চোখের জ্বালাপোড়ার মতো সমস্যা বাড়তে পারে। হাসপাতাল ও জনবহুল মার্কেটের সামনে এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় বিষয়টি অবহেলা করার সুযোগ নেই। সড়কে চলাচলকারী মানুষের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত পদক্ষেপ প্রয়োজন।

 

এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, কাজের তদারকির দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি এবং কর্তৃপক্ষের কাছে প্রশ্ন—কাজটি দ্রুত শেষ করার উদ্যোগ কোথায়? ধুলাবালি নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব কার? আর সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে কি না?

 

ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় কোনো কাজের কারণে দুর্ভোগ তৈরি হলে যাচাই না করেই সেনাবাহিনী বা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষকে দায়ী করা ঠিক নয়। কাজটির দায়িত্বে থাকা প্রকৃত প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার ভূমিকা চিহ্নিত করা এবং তদারকির ঘাটতি থাকলে তা সংশোধন করাই জরুরি।

 

সচেতন নাগরিকদের দাবি, গোমতী টাওয়ার মার্কেটের সামনে সড়কের কাজ দ্রুত শেষ করতে হবে। কাজ চলমান থাকলে নিয়মিত পানি ছিটিয়ে ধুলাবালি নিয়ন্ত্রণ, মাটি নিরাপদভাবে রাখা এবং যানবাহন ও পথচারীদের চলাচল নির্বিঘ্ন করার ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে কাজ শেষ করার নির্দিষ্ট সময়সীমা জানিয়ে অযথা দীর্ঘসূত্রতা বন্ধে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল ভূমিকা নিশ্চিত করতে হবে।

 

উন্নয়নকাজ মানুষের সুবিধার জন্য—দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের কারণ হওয়ার জন্য নয়। তাই গোমতী টাওয়ারের সামনে সৃষ্ট ধুলাবালির সমস্যা দ্রুত সমাধান করে জনস্বাস্থ্য ও নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন স্থানীয়রা।

Leave a Reply

Back to top button