
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ৯ নম্বর ওয়ার্ড মৎস্যজীবী লীগের প্রচার সম্পাদক জামানকে আটকের পরেও থানা থেকে রহস্যজনকভাবে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ২৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটার পর স্থানীয় এলাকাজুড়ে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়েছে। অভিযুক্ত জামানের পিতার নাম ছামেদ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২৫ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার) সন্ধ্যা ৬টার দিকে জালকুড়ি আমতলা এলাকা থেকে মৎস্যজীবী লীগ নেতা জামানকে আটক করেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানার এএসআই মাসুম বিল্লাহ। আটকের পর তাকে একটি সিএনজিতে করে দ্রুত সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর থানায় মাত্র দুই ঘণ্টা আটক রেখে তার পরিবারের সাথে গোপন দেনদরবার ও ‘রফাদফা’ করা হয়। পরবর্তীতে মীমাংসার নাটক সাজিয়ে রাত ৯টার দিকে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ওই সময় থানায় ডিউটিরত ছিলেন ওসি এমদাদুল হক।
গোপন সুত্রে জানা যায়,
মুক্তির পর এএসআই মাসুম বিল্লাহ ওই নেতাকে আগামী ৭ থেকে ৮ দিন এলাকায় না থাকার নির্দেশ দেন। পুলিশের এমন আচরণ ও আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামীলীগ নেতাকে এভাবে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
উক্ত বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার এসআই মাসুম বিল্লাহ এর সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, জমি নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধের ঘটনায় জামানকে মামলা দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে আমরা তা করিনি আর তিনি (জামান)আওয়ামী লীগ নেতা নয়। আমরা বিষয়টি যাচাই-বাছাই করেছি। তিনি বিএনপি করেন, তাই তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে কোনো বৈষম্যবিরোধী হত্যা মামলা নেই।
কিন্তু সময় সকাল নিউজের কাছে জামানের একাধিক ছবি সংগ্রহে রয়েছে যেগুলোতে দেখা যায় তিনি আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন। অন্যদিকে পাঁচ আগস্টের পর তিনি বিএনপির প্রাথমিক সদস্য ফরম সংগ্রহ করে বিএনপি নেতা বনে গেছেন সেই ছবিও রয়েছে।

