নারায়ণগঞ্জের ট্রাফিক ব্যবস্থার প্রশংসা: টিআই এম এ করিমকে রিপোর্টার্স ক্লাব ট্রাস্টের সম্মাননা
নারায়ণগঞ্জের ট্রাফিক ব্যবস্থার প্রশংসা: টিআই এম এ করিমকে রিপোর্টার্স ক্লাব ট্রাস্টের সম্মাননা

অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের প্রাণকেন্দ্র নারায়ণগঞ্জে জনসংখ্যা ও যানবাহনের চাপের তুলনায় সীমিত সড়ক অবকাঠামো সত্ত্বেও যানজট নিয়ন্ত্রণে ব্যতিক্রমী ভূমিকা রাখায় ট্রাফিক বিভাগের প্রশাসন টিআই এম এ করিমকে সম্মাননা জানিয়েছে গণপ্রজাতন্ত্রী সরকারের নিবন্ধিত বাংলাদেশ রিপোর্টার্স ক্লাব ট্রাস্ট, নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখা।
গতকাল ১২-৮-২৬ ইং বুধবার সন্ধ্যা ৭টায় নারায়ণগঞ্জ ট্রাফিক বিভাগের কার্যালয়ে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানে টিআই করিমের হাতে ফুলেল শুভেচ্ছা তুলে দেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ রিপোর্টার্স ক্লাব ট্রাস্ট নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জনির নেতৃত্বে আরো উপস্থিত ছিলেন মোঃ মেহেদী হাসান, মোঃ মশিউর রহমান, মোঃ মোক্তার হোসেন সহ কমিটির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
উক্ত সময়ে নেতৃবৃন্দরা বলেন, ইন্ডাস্ট্রিয়াল কারখানা, চাকরি ও বাণিজ্যের সুবাদে নারায়ণগঞ্জ এখন দেশের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ জেলা। সিটি কর্পোরেশন হওয়ার পর নারায়ণগঞ্জে জনসংখ্যা এবং পরিবহন এর সংখ্যা দ্রুত বাড়লেও রাস্তার পরিধি সে হারে বাড়েনি। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ফুটপাত ও সড়কের পাশে ভাসমান দোকানপাট।
কমিটির নেতৃবৃন্দ উল্লেখ করেন, যানজট নিয়ন্ত্রণে যে পরিমাণ ট্রাফিক ফোর্স ও অফিসার প্রয়োজন, বর্তমান বরাদ্দ তার তুলনায় অপ্রতুল। আশির দশকের নির্ধারিত জনবল দিয়ে একটি জেলা ও সিটি কর্পোরেশনের আইন-শৃঙ্খলা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা চালানো বাস্তবে কঠিন। এর মধ্যেও নারায়ণগঞ্জের বিচক্ষণ পুলিশ সুপারের নির্দেশে দিন-রাত পরিশ্রম করে টিআই এম এ করিম তার সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, দায়িত্ববোধ ও আন্তরিকতা দিয়ে নারায়ণগঞ্জের যানজট অনেকাংশে সহনীয় পর্যায়ে আনতে সক্ষম হয়েছেন।
জেলা পুলিশ সুপারের সমন্বয়ে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে কাজ করে যানজট নিরসনে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার কারণে টিআই করিম ইতোমধ্যে কয়েকটি সংস্থা থেকে প্রশংসা পেয়েছেন বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়।
এই সময় জাহাঙ্গীর আলম জনি বলেন, স্বল্প জনবল ও প্রতিকূল পরিবেশেও জনগণের ভোগান্তি লাঘবে টিআই এম এ করিম যে আন্তরিকতা দেখিয়েছেন তা প্রশংসার দাবিদার। বাংলাদেশ রিপোর্টার্স ক্লাব ট্রাস্টের পক্ষ থেকে আমরা তার এই প্রচেষ্টাকে সম্মান জানাই।
অনুষ্ঠানে নেতৃবৃন্দ নারায়ণগঞ্জকে মেট্রোপলিটন এলাকা হিসেবে ঘোষণার জন্য জোর দাবি জানান। তাদের মতে, মেট্রোপলিটন হলে অতিরিক্ত পুলিশ বরাদ্দ পাওয়া যাবে, যা যানজট নিয়ন্ত্রণ, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও নাগরিক সেবার মান বাড়াতে সহায়ক হবে।
এই সময় আরো বলেন, নারায়ণগঞ্জের অর্থনৈতিক গুরুত্ব বিবেচনায় এখন মেট্রোপলিটন ঘোষণা সময়ের দাবি। এজন্য পুলিশ সুপার, জেলা প্রশাসক, সিটি কর্পোরেশন প্রশাসক, এনডিএ প্রশাসক, জেলা পরিষদ প্রশাসক, বিকেএমইএ, চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি, সকল রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজ ও সাংবাদিকদের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
নারায়ণগঞ্জবাসীকে যারা ভালোবাসেন, সবাই একযোগে উদ্যোগ নিলে অল্প সময়ের মধ্যেই নারায়ণগঞ্জকে মেট্রোপলিটন হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব,যোগ করেন জেলা শাখার নেতারা।
অনুষ্ঠান শেষে নেতৃবৃন্দ যানজট নিরসনে ট্রাফিক বিভাগের সকল সদস্যের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং নাগরিকদের ট্রাফিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানান।

