রাজনীতি

ঝিমিয়ে পড়েছে কুতুবপুর ইউনিয়ন যুবদল, তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে নানান ক্ষোভ

ঝিমিয়ে পড়েছে কুতুবপুর ইউনিয়ন যুবদল, তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে নানান ক্ষোভ

 

নিজস্ব প্রতিবেদক, নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানাধীন কুতুবপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে নানা ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। একসময় সংগঠনের কার্যক্রমে সক্রিয়তা থাকলেও বর্তমানে দলীয় কর্মকাণ্ড অনেকটাই ঝিমিয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ করছেন তৃণমূলের একাধিক নেতাকর্মী।

 

তাদের অভিযোগ, সংগঠনের কার্যক্রমে প্রত্যাশিত গতি না থাকা, তৃণমূলের নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন না করা এবং সাংগঠনিক সমন্বয়ের অভাবসহ বিভিন্ন কারণে কর্মীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হচ্ছে। এতে সাংগঠনিক কার্যক্রমে আগের মতো প্রাণচাঞ্চল্য দেখা যাচ্ছে না বলেও দাবি তাদের।

 

তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতে, একটি শক্তিশালী সংগঠন গড়ে তুলতে হলে মাঠপর্যায়ের কর্মীদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া, নিয়মিত সাংগঠনিক কর্মসূচি পালন এবং নেতৃত্বের সঙ্গে কর্মীদের দূরত্ব কমানো জরুরি। অন্যথায় সংগঠনের কার্যক্রম আরও স্থবির হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

 

এই বিষয়ে জানতে চাইলে কুতুবপুর ইউনিয়ন যুবদলের সিনিয়র  সহ-সভাপতি ইসমাইল হোসেন বলেন কুতুবপুর ইউনিয়ন যুবদল কি তৃণমূলের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারছে, নাকি সাংগঠনিক দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার জন্য আরও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন?কোন্দলের পেছনে পদ-পদবি নিয়ে প্রতিযোগিতা, ব্যক্তিগত বিরোধ, মতপার্থক্য নিরসনে কার্যকর উদ্যোগের অভাব এবং সমন্বয়হীনতা কাজ করতে পারে। এর প্রভাবে ঐক্য নষ্ট হয়, কর্মসূচি দুর্বল হয়ে পড়ে এবং সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

সাংগঠনিক দুর্বলতার কারণ হিসেবে নিয়মিত সভা ও কর্মসূচির অভাব, তৃণমূলের মতামত উপেক্ষা, দায়িত্ব বণ্টনে অস্পষ্টতা এবং জবাবদিহির ঘাটতি উল্লেখযোগ্য। এর ফলে কর্মীদের সক্রিয়তা কমে, নতুন নেতৃত্ব গড়ে ওঠে না এবং জনসম্পৃক্ততা ধীরে ধীরে হ্রাস পায়।

 

একই বিষয়ে জানতে চাইলে, কুতুবপুর ইউনিয়ন যুবদলের সহ-সভাপতি নুরুল ইসলাম তেলা বলেন, নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি ও বর্তমানে ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম টিটু ভাইয়ের সময়ে যুবদলের সাংগঠনিক কার্যক্রম বেশ সক্রিয় ছিল। কিন্তু সেই সময়ের কমিটিই এখনো বহাল রয়েছে। নতুন নেতৃত্ব তৈরি না হওয়ায় এবং তৃণমূল পর্যায়ে নতুন নেতৃত্ব বিকাশের সুযোগ না থাকায় কুতুবপুর ইউনিয়ন যুবদল একপর্যায়ে ঝিমিয়ে পড়েছে।

 

তিনি আরও বলেন, শহিদুল ইসলাম টিটু ভাইয়ের প্রতি আমাদের আহ্বান থাকবে, তিনি যেন তৃণমূলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন করেন এবং তাদের মধ্য থেকে নতুন নেতৃত্ব তৈরি করার উদ্যোগ নেন। তিনি দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন নেতা। কে দলের দুঃসময়ে ত্যাগ স্বীকার করেছেন আর কে ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েছেন, তা তিনি ভালোভাবেই জানেন। তাই তৃণমূলের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের সামনে এগিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে কুতুবপুর ইউনিয়ন যুবদলকে আবারও সক্রিয় ও গতিশীল করার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

 

নতুন নেতৃত্ব ও কমিটির বিষয়ে জানতে চাইলে কুতুবপুর ইউনিয়ন যুবদলের সহ-সভাপতি আনোয়ার হোসেন আনু বলেন, কালের বিবর্তনে নতুন নেতৃত্ব তৈরি হবে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু দীর্ঘদিনেও যদি নতুন নেতৃত্ব তৈরি না হয়, তাহলে নেতাকর্মীদের মধ্যে স্থবিরতা দেখা দেওয়াটাই স্বাভাবিক। একটি সংগঠনকে গতিশীল রাখতে হলে সময়ের সঙ্গে নেতৃত্বের পরিবর্তন ও নতুনদের নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ তৈরি করতে হবে। তিনি আরও বলেন, আমি মনে করি, দলের নীতিনির্ধারকদের উচিত সম্মেলন ও নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব তৈরি করা। এতে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হবে, সাংগঠনিক কার্যক্রমে গতি ফিরবে এবং আগামী দিনের আন্দোলন-সংগ্রামে তারা আরও সক্রিয় ও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন। তৃণমূলের কর্মীদের মূল্যায়ন করে যোগ্য ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের নেতৃত্বে আনা হলে কুতুবপুর ইউনিয়ন যুবদল আবারও সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী হয়ে উঠবে বলে আমি আশাবাদী।

 

তৃণমূলে অবস্থা নিয়ে জানতে চাইলে কুতুবপুর ইউনিয়ন ২নং ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি বাদল মাহমুদ বলেন, অভিভাবক থাকা সত্ত্বেও আমরা অভিভাবকহীন। নেতারা আমাদের কোনো খোঁজখবর নেন না। তৃণমূলের কর্মী হয়েও দলীয় কোনো কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের জন্য দাওয়াত কিংবা ফোন পাই না। এতে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মন ভেঙে যায় এবং ধীরে ধীরে দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন তারা। এভাবে চলতে থাকলে দলের দুঃসময়ে ত্যাগ স্বীকার করা কর্মীরা একসময় হারিয়ে যাবেন। অথচ দলের দুর্দিনে এসব তৃণমূল কর্মীরাই রাজপথে থেকে আন্দোলন-সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তাই তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করা, তাদের খোঁজখবর নেওয়া এবং দলীয় কর্মসূচিতে সম্পৃক্ত করা এখন সময়ের দাবি।

 

Leave a Reply

Back to top button