সারাদেশ

মাত্র দুই সপ্তাহেই সর্ব মহলে আস্থার প্রতীক: নারায়ণগঞ্জে জনপ্রিয়তার শীর্ষে পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান

মাত্র দুই সপ্তাহেই সর্ব মহলে আস্থার প্রতীক: নারায়ণগঞ্জে জনপ্রিয়তার শীর্ষে পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান

 

 

যোগদানের মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যেই জনবান্ধব পুলিশিং ও অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থানের কারণে নারায়ণগঞ্জে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন নবাগত পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান।সকল প্রকার অপরাধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করে জেলাজুড়ে মাদক, কিশোর গ্যাং ও সংঘবদ্ধ অপরাধের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক সফল অভিযান পরিচালনা করে তিনি সর্বমহলে প্রশংসিত হচ্ছেন।

 

যোগদানের পর থেকেই তিনি নিজে মাঠে থেকে অভিযানের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।এবং জেলা পুলিশের সকল কর্মকর্তাদের কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন অপরাধ দমনে। তার নির্দেশনা পেয়ে জেলার সকল থানার কর্মকর্তারা সফল অভিযান পরিচালনা করে আসছেন। এর মধ্যে শহরের চাষাঢ়ার খাজা সুপার মার্কেটে জুয়ার আসরে অভিযান, বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট স্থাপন এবং যানজট নিরসনে ট্রাফিক বিভাগকে শৃঙ্খলা ফেরানোর কঠোর নির্দেশনা সহ জেলার বিভিন্ন স্থানে বিপুল সংখ্যক মাদক বিক্রেতা সহ মাদক উদ্ধার এবং বিভিন্ন অপরাধে অপরাধী গ্রেফতার উল্লেখযোগ্য।

 

এ বিষয়ে পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান বলেন, আমি কোনো বাহবা চাই না, আমি দায়িত্ব পালন করতে এসেছি। নারায়ণগঞ্জের মানুষ শান্তি চায়। অপরাধী যেই হোক, তার কোনো দল নেই, পরিচয় একটাই- সে অপরাধী। মাদক, কিশোর গ্যাং ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে আমাদের যুদ্ধ চলবে। যানজট নিরসনে পুলিশ একা পারবে না, জেলা প্রশাসন,সিটি করপোরেশন,বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ, পরিবহন মালিক-শ্রমিক ও নাগরিক সমাজকে একসাথে কাজ করতে হবে।আমার লক্ষ্য নারায়ণগঞ্জ কে একটি অপরাধ মুক্ত শান্তিপূর্ণ জেলা হিসেবে বাস্তবায়ন করা। শান্তিপূর্ণ জেলা তৈরি করতে আমি আমার সর্বোচ্চ দায়িত্ববোধ ও পেশাদারিত্ব দিয়ে কাজ করে যাচ্ছি।নারায়ণগঞ্জকে সম্পূর্ণ অপরাধ মুক্ত করতে আপনাদের সবার সহযোগিতা কামনা করছি।

 

তার কার্যক্রমে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

 

নারায়ণগঞ্জ জার্নালিস্ট ইউনিটির সভাপতি মোঃ শফিকুল ইসলাম আরজু বলেন, দীর্ঘদিন পর একজন এসপিকে আমরা রাস্তায় দেখছি, অভিযানে নেতৃত্ব দিতে দেখছি। এতে পুলিশের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়ছে।অবশ্যই তার কার্যক্রম গুলি প্রশংসনীয়। আমরা চাই অপরাধীদের বিরুদ্ধে তার হাতে নেওয়া বিভিন্ন কার্যক্রম গুলি ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত থাকুক।

 

নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের এক নেতা বলেন, আগে সন্ধ্যার পর ব্যবসায়ীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতেন। গত দুই সপ্তাহে পুলিশি টহল ও চেকপোস্ট বাড়ায় পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। আমরা এমন পুলিশ সুপারই চেয়েছিলাম।

 

একজন জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক বলেন, কিশোর গ্যাং নারায়ণগঞ্জের জন্য অভিশাপ ছিল। নতুন এসপি এই বিষয়ে কঠোর হওয়ায় অভিভাবক হিসেবে আমরা স্বস্তি পাচ্ছি।

 

একজন চিকিৎসক বলেন, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে পুলিশের এই ভূমিকা জনস্বাস্থ্যের জন্য জরুরি।

 

বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা বলেন, আমরা চাই পুলিশ নিরপেক্ষভাবে কাজ করুক। বর্তমান পুলিশ সুপার দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে অপরাধ দমনে কাজ করছেন, এটি প্রশংসনীয়। নারায়ণগঞ্জকে শান্তিপূর্ণ জেলা হিসেবে গড়তে আমরা পুলিশকে সহযোগিতা করব।

 

স্থানীয়দের মতে, অল্প সময়ে যে আস্থার জায়গা তিনি তৈরি করেছেন, তা ধরে রাখতে পারলে নারায়ণগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে একটি ইতিবাচক ইতিহাস তৈরি হবে।তারা আরো বলেন, বিভিন্ন অপরাধ দমনে যেই ধরনের ধারাবাহিক অব্যাহত অভিযান পরিচালনা করে আসছেন তা যেন ভবিষ্যতেও পুলিশ সুপার তা অব্যাহত রাখেন তার আহ্বান জানান।

Leave a Reply

Back to top button