ফতুল্লায় অপহরণের ২ দিন পর ২ বছরের শিশু উদ্ধার, গ্রেফতার ২
ফতুল্লায় অপহরণের ২ দিন পর ২ বছরের শিশু উদ্ধার, গ্রেফতার ২

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় অপহরণের শিকার দুই বছরের শিশু তাকরিমকে সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ। অপহরণের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে একই বাড়ির প্রতিবেশী দম্পতি মো. সুজন মিয়া (৩১) ও মাজেদাকে (২৯) গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, কিশোরগঞ্জ জেলার বাসিন্দা মোসাঃ মিম আক্তার ও তাঁর স্বামী তানজিম বিগত ৫/৬ মাস ধরে ফতুল্লা থানাধীন লামাপাড়া এলাকার হাজী ইমান আলীর টিনশেড বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছিলেন। মাত্র এক মাস আগে সুজন ও মাজেদা নামের ওই দম্পতি একই বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে আসেন। প্রতিবেশী হওয়ার সুবাদে তারা প্রায়ই মিম আক্তারের বাসায় যাতায়াত করতেন এবং তাঁর একমাত্র সন্তান তাকরিমকে কোলে নিয়ে আদর করতেন।
গত ১২ জুন, ২০২৬ তারিখ সকাল অনুমান ১১:০০ টার দিকে শিশু তাকরিমকে আদর করার কথা বলে তারা পরিকল্পিতভাবে তাকে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। সন্তানকে খুঁজে না পেয়ে মা মিম আক্তার যখন দিশেহারা, তখন গত ১৪ জুন দিবাগত রাত ০১:৫৩ ঘটিকায় একটি অজ্ঞাত ইমু (imo) আইডি থেকে তাঁর ইমু নম্বরে কল আসে। অপহরণকারীরা ফোনে হুমকি দিয়ে বলে:
”তোর বাচ্চা নিতে পারবি ১ লাখ টাকা লাগবে, নাটক করবি লাশ পেয়ে যাবি।”
সন্তানের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে মা মিম আক্তার (২৩) ফতুল্লা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। বিষয়টি ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জনাব মোহাম্মদ মাহবুব আলম তাৎক্ষণিকভাবে নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার জনাব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী মহোদয়কে অবগত করেন।
পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় এবং ওসির তত্ত্বাবধানে ফতুল্লা মডেল থানার এসআই আশীষ কুমার দাসের নেতৃত্বে একটি চৌকস আভিযানিক দল মাঠে নামে। তারা স্থানীয় সোর্স ও আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় র্যাবের (RAB) সাথে এক যৌথ অভিযান পরিচালনা করে। অবশেষে গত ১৪ জুন, ২০২৬ তারিখ সন্ধ্যা ১৮:০০ ঘটিকায় ফতুল্লা থানাধীন চাষাড়া এলাকা থেকে অপহৃত শিশু তাকরিমকে সম্পূর্ণ সুস্থ ও স্বাভাবিক অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। একই সাথে অপহরণ চক্রের মূল হোতা সুজন মিয়া ও মাজেদাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী-২৪) অনুযায়ী একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামিদের আজ বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।

