বিবিধ

মাদক ও কিশোরগ্যাং মুক্ত শান্তিপূর্ণ নারায়ণগঞ্জ গড়তে জেলা পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে : এসপি হাবিবুর রহমান

মাদক ও কিশোরগ্যাং মুক্ত শান্তিপূর্ণ নারায়ণগঞ্জ গড়তে জেলা পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে : এসপি হাবিবুর রহমান

 

 

নারায়ণগঞ্জকে মাদক ও কিশোর গ্যাং মুক্ত, নিরাপদ ও মানবিক জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে জেলা পুলিশ বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান, পিপিএম-সেবা।

 

তিনি বলেন, বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা অবনতির অন্যতম প্রধান কারণ কিশোর গ্যাং, মাদক, চুরি, ছিনতাই ও ইভটিজিং। এসব অপরাধের মূলে রয়েছে কিশোর অপরাধ ও মাদকাসক্তি। নারায়ণগঞ্জকে সম্পূর্ণ মাদকমুক্ত করতে জেলা পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে।

 

সম্প্রতি কিশোর অপরাধের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলাপকালে পুলিশ সুপার বলেন, আজকের শিশু-কিশোরই আগামী দিনের কর্ণধার। তারা যদি সুষ্ঠু, মানবিক ও মাদকমুক্ত পরিবেশে বেড়ে ওঠে, তাহলে দেশ ও জাতির উন্নয়ন নিশ্চিত হবে।

 

তিনি উল্লেখ করেন, কিশোর বয়স অত্যন্ত সংবেদনশীল ও ঝুঁকিপূর্ণ। এ সময় যথাযথ দিকনির্দেশনার অভাব, পারিবারিক অসচেতনতা, খারাপ সঙ্গ ও সামাজিক বৈষম্যের কারণে অনেকেই অপরাধের অন্ধকারে জড়িয়ে পড়ে।

 

এসপি হাবিবুর রহমান বলেন, দারিদ্র্যের কারণে মৌলিক চাহিদা পূরণ না হওয়া যেমন কিশোরদের অপরাধে ঠেলে দেয়, তেমনি অতিরিক্ত অর্থ ও অভিভাবকীয় নজরদারির অভাবও তাদের মাদকাসক্তি ও অপরাধে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ায়। খারাপ সঙ্গ, নৈতিক শিক্ষার অভাব, প্রযুক্তির অপব্যবহার এবং পারিবারিক তত্ত্বাবধানের ঘাটতি কিশোর অপরাধ বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ।

 

তিনি বলেন, মাদকাসক্ত অবস্থায় কিশোররা ভয়াবহ অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। এভাবে চলতে থাকলে কিশোর সন্ত্রাস একটি বড় সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হতে পারে।

 

কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে পরিবারের ভূমিকাকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে পুলিশ সুপার বলেন, সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মিশছে — এসব বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন থাকতে হবে। পরিবার যদি সন্তানদের নৈতিক শিক্ষা ও সঠিক পরিচর্যা নিশ্চিত করে, তাহলে তারা কখনো অপরাধে জড়াবে না।

 

কিশোরদের সুস্থভাবে গড়ে তুলতে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কার্যক্রম ও পাঠাগারমুখী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। একই সঙ্গে ছিন্নমূল শিশুদের পুনর্বাসন এবং অপরাধে জড়িয়ে পড়া কিশোরদের মূলধারায় ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান।

 

তিনি আরও বলেন, কিশোর অপরাধ দমন শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব নয়; এটি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সম্মিলিত দায়িত্ব। সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।

 

জেলাবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে এসপি বলেন, কোথাও অপরাধ সংঘটনের আশঙ্কা থাকলে তা দ্রুত প্রশাসনকে জানাতে হবে। কিশোর গ্যাং ও মাদক কারবারিদের সম্পর্কে তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।

 

তিনি বলেন, বর্তমান শিশু-কিশোরদের সঠিক পথে পরিচালিত করতে পারলে ভবিষ্যতের নারায়ণগঞ্জ হবে অপরাধমুক্ত, শান্তিপূর্ণ, সুখী ও সমৃদ্ধ একটি জেলা।

Leave a Reply

Back to top button