
স্টাফ রিপোর্টার (Somoysokal) সারা জেলায় আলোচনায় ভয়ঙ্কর অপরাধী বিল্লাল হোসেন রবিন ওরফে ককটেল রবিন। মাত্র ৭ মাস আগে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালীন সময়ের আগ পর্যন্ত গত ১৬ বছর গডফাদার শামীম ওসমান, যুবলীগ ক্যাডার মতিউর রহমান মতির কাঁধে ভর করে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে এই ককটেল রবিন। এতোকিছুর পরও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ছাত্র-জনতার হত্যার ৬ মামলা কাঁধে নিয়েও এখনো প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়িয়ে অরাজকতা তৈরির চেষ্টা করায় আবারো আলোচনায় এই রবিন। আজকের এই ভয়ঙ্কর অপরাধী ককটেল রবিনের উত্থানের গল্পও বেশ চমকপ্রদ। ভোলপাল্টে এখন এই ককটেল রবিন ৬ মামলা ঘাড়ে নিয়েই নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হওয়ায় নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকার সর্বস্তরে নিন্দার ঝড় উঠেছে। ছাত্র-জনতার রক্তের উপর দিয়ে ফ্যাসিস্টকে বিদায়ের পর এমন দোসর কি করে এখনো গ্রেফতারের আওতার বাহিরে থাকে এ নিয়েও নানা সমালোচনা হচ্ছে। রাজনীতিবিদ, সুশীল সমাজ, সাংবাদিক, প্রশাসন থেকে শুরু করে সবজায়গাতেই আলোচনায় ককটেল রবিন।
পুরো নাম বিল্লাল হোসেন রবিন হলেও দুর্ধর্ষ অপরাধী ককটেল রবিন নামেই পরিচিতি সর্বমহলে। নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকার আদমজী সোনামিয়া মার্কেট এলাকার মজিবুর রহমানের ছেলে এই ককটেল রবিন। তবে বাবার চাকুরির সুবাদেই আদমজীতে ককটেল রবিন। রবিনদের বাড়ি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের জেলা নোয়াখালির সোনাইমুড়ি এলাকায়। রবিনের বাবা মজিবুর রহমান প্রাক্তন আদমজী জুট মিলের তাঁত বিভাগে শ্রমিক ছিলেন। পরিবার নিয়ে থাকতেন আদমজীর ডিআইবি লাইন কলোনিতে। ছোটবেলা থেকেই উগ্র আর বখাটে ছিল ককটেল রবিন। ককটেল রবিন ছিল শ্রমিকলীগ নেতা রেহান গ্রুপের সদস্য । তখন শ্রমিক লীগ নেতা রেহান আর জাতীয় পার্টির সভাপতি রুহুল আমিন গ্রুপের সংঘর্ষ ছিল নৈমত্তিক ব্যাপক। ছোটবেলা থেকে বেপরোয়া জীবনযাপনের কারণে সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য আদমজীতে শ্রমিক লীগ নেতা রেহানের ফুড-ফরমায়েশি খাটতো এই রবিন। ওই সময়ের দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী দয়াল মোরশেদ, রগকাটা জাফর, আব্দুর রশিদ (বড়) এই সন্ত্রাসীদের সান্নিধ্য পায় ককটেল রবিন। আদমজী বিহারী পট্টি এলাকায় ককটেল বানানোর প্রশিক্ষণ নেয় রবিন। ককটেল বানাতে পারদর্শী হওয়ায় সন্ত্রাসীদের কাছে দামও ছিল তার। একবার একটি ককটেল চার্জ করতে গিয়ে শরীরের কাছেই ককটেল ফেটে মারাত্মক আহত হয় এর রবিন। দীর্ঘদিন চিকিৎসা নিলেও এখনো ককটেলের সেই ক্ষত মুখে বয়ে বেড়ান ককটেল রবিন। তখনই সন্ত্রাসী ককটেল রবিন হিসেবে কুখ্যাতি পান। শীর্ষ সন্ত্রাসী রগকাটা জাফর-যুবলীগ নেতা মধ্যে সোনামিয়া মার্কেট এলাকায় আধিপত্য নিয়ে বিরোধ বাধে। যুবলীগ সন্ত্রাসী মতির পক্ষে অবস্থান নিয়ে মতির ব্লকে তখন ঢুকে যান ককটেল রবিন। আদমজীর ততকালিন সুমিলপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগ নেতাও ছিল রবিন। ককটেল বানাতে পাড়ায় নজরে আসে গডফাদার শামীম ওসমানের। সরকারি তোলারাম কলেজ ছাত্রলীগ কমিটির বাদল-হেলাল পরিষদেরও ছাত্রলীগ নেতা হিসেবে ঠাঁই পান। ওই সময়ের পত্রপত্রিকাতেও ককটেল রবিনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের খবর ফলাও করে ছাপা হয়। মুলত তখন তোলারাম কলেজ ছাত্রলীগের আদমজী আঞ্চলিক ছাত্রলীগ ইউনিটের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে ছিলেন পোকরা বাবু আর ককটেল রবিন। এটা মূলত রেহান গ্রুপই নিয়ন্ত্রণ করতো। আদমজীর সুমিলপাড়া ইউনিয়নের নজরুল, হাবীবদের সাথেই ককটেল রবিনের উত্থান হয় ১৯৯১-১৯৯৩ সাল পর্যন্ত।
ছোট বেলা থেকেই লোভ আর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের দিকে ঝোঁক ছিল ককটেল রবিনের। যার কারণে কথায় কথায় নিজের বন্ধুবান্ধব এমনকি পরিবারের সদস্যদের সাথেও পল্টি মারতো রবিন। একসময় সহায় সম্বলহীন ককটেল রবিনকে অর্থ থেকে সবকিছু দিয়ে সহযোগিতা করতো টাইগার ফারুক। ফুটবল ভালো খেলতেন বলে টাইগার ফারুক হিসেবে সিদ্ধিরগঞ্জসহ সবজায়গায় পরিচিত পান ফারুক। সাবেক আদমজী জুট মিলের শ্রমিক দলের সহ সভাপতি আবু সাইদের বড় ছেলে এই টাইগার ফারুক। তাঁর আরেক ভাই সক্রিয় মহানগর ছাত্রদল নেতা জুয়েল রানা। আদমজী জুট মিল বন্ধ হয়ে ইপিজেড চালুর পর থেকে টাইগার ফারুক স্বচ্ছভাবে সেখানে ব্যবসা করতেন। ব্যবসার টাকা থেকে বন্ধুত্বের খাতিরে ককটেল রবিনকে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করতেন। এমনকি পুরো পরিবারই বছরের পর বছর লালন পালন করেছেন টাইগার ফারুক। কিন্তু লোভী ককটেল রবিন বন্ধুত্বের সাথেও বিশ^াস ঘাতকতা করেন। ককটেল রবিন তার ছাত্রলীগ পরিচয় ঢেকে সাংবাদিক হয়ে যান। এরপরেই হয়ে যান র্যাবের সোর্স। তখন বিতর্কিত অফিসার আলেপউদ্দিনের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে আরো বেশ কিছু র্যাবের সদস্যদের ঘনিষ্ঠভাজন হয়ে উঠেন। রাতদিন নিজে ও তার কিছু লোকজন নিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় পড়ে থাকা শুরু করে। আর এই সম্পর্কের সুযোগ নিয়েই বিএনপি-জামায়াতসহ নিরীহ হাজারো মানুষকে মামলার হয়রানি শুরু করেন, ধরিয়ে দিয়ে আর্থিক লাভবান হন। সিরাজ মন্ডল কাউন্সিলর পদে হেরে যাওয়ার পর যুবলীগ ক্যাডার মতিউর রহমান মতিকে নিয়ে শুরু করেন ইপিজেড দখল মিশন। প্রথমেই ছুরি চালান নিজের দুঃসময়ের বন্ধু সেই টাইগার ফারুকও তার পরিবারের উপর। চুরি, ছিনতাই, মাদকব্যবসাসহ হাজারো অভিযোগের তকমা দিয়ে সর্বশান্ত করেন টাইগার ফারুক ও তার পরিবারকে, ছিনিয়ে নেন ইপিজেড এর সকল ব্যবসা, এলকাতেও দীর্ঘদিন থাকতে দেননি। এরপর থেকেই ইপিজেডসহ গোটা আদমজীর সর্বমহলে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা ও বাহিনী রেখে নিজেকে সেখানকার ডন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। সূত্র জানিয়েছে, গত ১৬ বছর ধরে শামীম ওসমানের শেল্টারে ককটেল রবিন বিএনপি-জামায়াতসহ শত শত নিরীহ মানুষকে মামলায় ফাঁসিয়ে নাজেহাল করেছে, বেশ কয়েকজনকে প্রশাসন দিয়ে অত্যাচার ও ক্রসফায়ারের মুখোমুখি করেছে এই কুখ্যাত ককটেল রবিন। গণঅভুত্থানে শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর আবারো রেহান গ্রুপের আশ্রয়ে চলে যান এই ককটেল রবিন। সেই বাহিনীর মাধ্যমেই সিসি টিভি ক্যামেরা বসিয়ে গোটা এলাকার নিয়ন্ত্রণ এখনো করেন তিনি। শাহনিজাম, এহসানুল হক নিপু, যুবলীগ নেতা মতিউর রহমান মতির কাছে এখনো ইপিজেডসহ ওই এলাকার সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের টাকার ভাগ পৌছে দেয় তার লোক। আদমজী এলাকায় সরকারি জমিতে মতির বসানো মার্কেটের টাকা এখনো মতির বৌয়ের কাছে পৌঁছে দেন ককটেল রবিন। আদমজী এলাকায় ৫ আগস্টের পরও শোডাউন করেছেন যুবলীগ নেতা মতি। বর্তমানে কয়েকদফা রিমান্ডে থাকার পর কারগারে মতি। তাকে আবারও রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসা করলে ককটেল রবিনের আরো গোপন তথ্য বেরিয়ে আসবে। সূত্র জানিয়েছে, বেশ কয়েকজনকে সমন্বয়ক বানিয়ে মতিকে পাহারা দিয়ে রাখা হয়েছিল, এমনকি সিদ্ধিরগঞ্জ থানাতেও প্রভাব বিস্তারের সুযোগ নিয়েছিল ককটেল রবিন। বিএনপিসহ সব রাজনৈতিক দলের নেতারা স”েষ্ট থাকায় তেমন সুবিধা করতে পারেনি রবিন। এখনো থানায় আদমজীর ৬নং ওয়ার্ড ভিত্তিক সাংবাদিক দাবি করা বেশ কয়েকজন দিনরাত মূলত রবিনের পক্ষেই অবস্থান করেন এবং থানার সকল গোপনীয় তথ্য রবিন এবং আওয়ামী লীগের দোসরদের কাছে পাচারের দায়িত্বে রয়েছেন। মতি বাহিনীর অন্যতম সদস্য ক্যাশিয়ার মানিক মাস্টার, ভাগিনা মামুন, মতির সেকেন্ড ইন কমান্ড তেল চোর সেক্টরের মাফিয়া সোর্স আশরাফ উদ্দিন, নাতিন জামাই কিশোরগ্যাং লিডার ও মাদক ব্যবসায়ী সন্ত্রাসী পানি আক্তারের কাছে বিশেষ পরিচয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা, র্যাব-১১’র কাছ থেকে পাওয়া এসব তথ্য পৌঁছে দেয় ককটেল রবিনের কয়েকজন সোর্স। কেউ থাকেন ওসির সেবায় আবার কেউ বা থানার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে খোশগল্পের উছিলায়। পাঠানটুলি এলাকা থেকে সিদ্ধিরগঞ্জ পুল পর্যন্ত নানা জায়গায় এখনো আওয়ামী সন্ত্রাসীদের লালনপালন করে মাশোয়ারা নিচ্ছেন ককটেল রবিন।
এদিকে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা করা এক নারায়ণগঞ্জের এক প্রথিতজশা সাংবাদিকের অনুসন্ধানে এসেছে, নারায়ণগঞ্জ ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের নাম ব্যবহার করে শামীম ওসমানের পুরোটা সময় ককটেল রবিনের ছত্রছায়ায় নানা পন্থায় শত শত ইটভাটা, বিভিন্ন কলকারখানা, ডাইং, ক্লিনিসহ সবধরণের ব্যবসায়ীকে হয়রানি করে একটি চক্র। এই চক্রের নানাজনকে একটি জাতীয় দৈনিকের পরিচয় দিয়ে এই চাঁদাবাজি করান রবিন। কিন্তু ওই দৈনিকের সম্পাদকসহ স্টাফদের সাথে যোগাযোগ করলে পরিচয় দেয়া ব্যক্তিদের কেউ চেনেননা এবং এইসব নামে কোন প্রতিনিধি নেই বলে জানান। তবে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সেলিমুজ্জামান তখন জানান, ওই পত্রিকার পরিচয় দেয়া ব্যক্তিদের পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন রবিন। তখন ওই অনুসন্ধানী সাংবাদিক রবিনের কাছে এব্যাপারে বক্তব্য নিতে গেলে তিনি ওই প্রতিবেদকের সাথে উচ্চস্বরে আপত্তিকর মন্তব্য করেন। সূত্র জানিয়েছে, রবিনের নেতৃত্বে ওই চক্র এখনো মুড়ি কারখানা, সেমাই কারখানাসহ সর্বত্র চালাচ্ছে ঈদ হান্টিং। প্রশ্ন উঠেছে, গণঅভুত্থানে এতো ছাত্র-জনতার রক্তের উপর দাড়িয়ে ৬ হত্যা মামলার আসামি ককটেল রবিনকে এখনো ক্যাবসহ জেলার বিভিন্ন কমিটিতে রাখা হয়েছে। কারা এখনো ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের দোসর হিসেবে এই দায়িত্ব পালন করছে।
এদিকে ককটেল রবিনকে গ্রেফতারের দাবিতে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ জেলা ও দেশের সকল গোয়েন্দাসংস্থা ও প্রাসঙ্গিক দপ্তরগুলোতে স্মারকলিপি দিয়েছে নারায়ণগঞ্জের সচেতন সাংবাদিক সমাজ। তারা সেখানে উল্লেখ করেন, রবিন শামীম ওসমানের শীষ্যত্ব গ্রহণে করে ছাত্রলীগকে মগজে ধারণ করে এবং আওয়ামী লীগের দোসর হিসেবে সবসময়ই সচল। গত ৫ আগস্ট গডফাদার শামীম ওসমান পালিয়ে গেলেও তার পক্ষালম্বন করে তার কাছে নারায়ণগঞ্জের সকরল তথ্য, চিত্র পাচারকরণ কাজে নিয়োজিতসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর নানা পায়তারায় জড়িত। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের সময় গডফাদার শামীম ওসমানের পিএস মান্না, শ্যালক এহসানুলক হক নিপুর সঙ্গে বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়েরকালে নাম, তথ্য, ঠিকানা দিয়ে এজাহারভুক্ত করতেন। এসব কাজ তিনি রাইফেল ক্লাবে বসেই সম্পাদক করতেন। শুধু তাই নয়, চাষাঢ়ায় অবস্থিত শহীদ জিয়া হলে স্থাপিত শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ম্যুরাল ভাঙার অন্যতম পরিকল্পনাকারী এই রবিন। শুধু তাই নয়, শামীম ওসমানের অন্যতম ক্যাডার একসময়কার ইন্টারপোলের রেড ওয়ারেন্টভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী বর্তমানে হত্যা মামলায় কারাগারে থাকা সাবেক ৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মতিউর রহমান মতির কাছ থেকে সাংবাদিকতা তথা প্রেসক্লাবের নামে প্রতি মাসে ৫ লাখ টাকা গ্রহণ করতেন। এই মর্মে ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপি রবিনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার অভিযোগ দেয়। এরআগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ইব্রাহিম হত্যা মামলায় ২১ (ফতুল্লা মডেল থানার মামলা নং-২১, ২২/৮/২০২৪) এবং সিদ্ধিরগঞ্জের মাছ ব্যবসায়ী মিলন হত্যা মামলার আসামি (সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় মামলা দায়েরকৃত মামলার ৪৪ নং আসামি)। ভয়ানক এই ছাত্রলীগ ক্যাডার সাংবাদিকতার আড়ালে গ্রেফতারের আওতায় বাহিরে থাকায় নানাবিধ অপকর্ম করেই যাচ্ছে। গত ২৯/১০/২০২৪ তারিখে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবে শামীম ওসমানের কিছু দোসরদের বিরুদ্ধে স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকার সাংবাদিকরা স্মারকলিপি প্রদান করতে গেলে সাংবাদিক মাসুদ রানা রনিকে কোপ দিয়া রক্তাক্ত জখম করে এবং ওই সময় এই কুখ্যাত ছাত্রলীগ নেতা বিল্লাল হোসেন রবিন তার হাতে থাকা অবৈধ বৈদেশিক হাইভোল্টের ট্রেজার দিয়া হত্যার উদ্দেশ্যে বৈদ্যুতিক শক দিলে রনি বেহুশ হয়ে পড়ে, এসময় রবিনের সেই হাইভোল্টেজ ট্রেজারে উপস্থিত কয়েকজন সাংবাদিকও মারাত্মক আহত হন। এঘটনায় নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়। (মামলা নং-১২, ২৯/১০/২০২৪)। এরপরেও নানাবিধ সন্ত্রাসী ও উস্কানি কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজ করছে রবিন। তার সেই হাইভোল্টেজ ট্রেজারে আহত সাংবাদিকদের মধ্যে একজন সাংবাদিক সেলিম একদিন পর জানায় (সাংবাদিক আবু বকর সিদ্দিককে) ইলেকট্রিক শক দেয়ার পর তার শরীর দুর্বল হয়ে গেছে এবং এর কিছুদিন পর সাংবাদিক সেলিম মারা যান। সেই ইলেকট্রিক শক দেয়ার পর থেকে স্বনামধন্য নয়াদিগন্তের জেলা মাল্টিমিডিয়া প্রতিনিধি আশিকুর রহমান সাজু মারাত্মকভাবে অসুস্থাবস্থায় শয্যাশায়ী। এই সন্ত্রাসী ছাত্রলীগ নেতা রবিন (ককটেল রবিন) একের পর এক অপকর্ম করে পার পেয়ে যাওয়ায় নারায়ণগঞ্জে আরো অনেক সন্ত্রাসীকে আওয়ামী লীগ এজেন্ডা বাস্তবায়নের নির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছে। অবিলম্বে তারা ককটেল রবিনকে গ্রেফতারের দাবি জানান। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ২০২৪ সালে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালীন সময়ে ১৯ জুলাই গডফাদার শামীম ওসমানসহ তাঁর সশস্র ক্যাডাররা গুলি ছোঁড়েন নারায়ণগঞ্জ শহর ও ফতুল্লা এলাকায়। ঘটনার দিন পুরোটা সময়ে শামীম ওসমানের গাড়িতেই অবস্থান করেছেন ককটেল রবিন। এছাড়া ছাত্রজনতার উপস্থিতিও নানা ফোনকলের মাধ্যমে শামীম ওসমান বাহিনীকে জানিয়ে দেয়ার দায়িত্বে ছিল ককটেল রবিন। ২০২০ সালে করোনা মহামারি চলাকালীন সময়ে শামীম ওসমানকে সাথে নিয়ে নারায়ণগঞ্জের জনপ্রিয় ৫টি অনলাইন বন্ধ করার মূল কারিগর ছিল এই ককটেল রবিন। নিউজ নারায়ণগঞ্জ, যুগের চিন্তা, প্রেস নারায়ণগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ টুডে, সময়ের নারায়ণগঞ্জসহ ৫টি অনলাইন বন্ধ করার মূল কুশিলবের ভূমিকায় ছিল এই ককটেল রবিন।
সর্বশেষ নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি পদ দখল করে ককটেল রবিনের প্রত্যক্ষ মদদে জানুয়ারিতে খুন হওয়া গৃহবধূর ফিজার পরিবারকে মামলা উঠিয়ে নিতে নানা হুমকি ধমকি দিচ্ছে সন্ত্রাসী পুইক্কার ছেলে চুন্নুর সন্ত্রাসীরা। এতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে ভুক্তভোগীর পরিবার। তারা বলছেন, ছাত্রলীগ ক্যাডার ককটেল রবিন শামীম ওসমানের মনোনিত হিসেবে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি হয়েছিলেন। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার পতনের ৭ মাস পরেও তাকে প্রেসক্লাব থেকে অপসারণ করেনি নারায়ণগঞ্জের নাগরিক সমাজ। এখন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে গডফাদার শামীম ওসমানের এই ক্যাডার ছাত্রলীগ নেতা ককটেল রবিন পদ পেয়েই ওসমান দোসর সন্ত্রাসীদের পুনর্বাসন করছে। এতে ব্যাপকভাবে সামনের দিকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। ককটেল রবিন প্রথমেই সন্ত্রাসী শাহনিজামের ডানহাত কুখ্যাত সন্ত্রাসী চুন্নুর পরিবারকে পুনর্বাসন করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এতে লামিয়া হত্যাকাণ্ডের বিচার বাধাগ্রস্ত হবে। সূত্র জানিয়েছে, সন্ত্রাসী চুন্নুর পরিবারকে পুনর্বাসন করতে ককটেল রবিন দফায় দফায় বৈঠক করেছে এবং নানা কূটকৌশল বাস্তবায়নে তার আস্তানায় গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল বেশ কিছুদিন ধরে। ছাত্র-হত্যামামলার আসামি ছাত্রলীগ নেতা ককটেল রবিনের প্রত্যক্ষ মদদে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র হত্যা মামলার আরেক আসামি চুন্নুকে সাথে নিয়ে গৃহবধূ লামিয়া আক্তার ফিজা হত্যা মামলায় আসামিদের বাঁচাতে উঠে পড়ে লেগেছে। কয়েকদিন আগে হত্যা মামলায় জামিন পাওয়া মাদকসম্রাজ্ঞী নুরুননাহার, তার স্বামী তোফাজ্জলকে সাথে নিয়ে ককটেল রবিন আবারো লামপাড়া এলাকায় শাহনিজামের হারানো জৌলুস ফেরানোর মিশনে নেমেছেন। এতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে লামাপাড়া এলাকায়।