অপরাধ

ককটেল রবিনের ছায়াতলে গৃহবধূ ফিজা হত্যা মামলার আসামি চুন্নু ও তার সন্ত্রাসীরা

ককটেল রবিনের ছায়াতলে গৃহবধূ ফিজা হত্যা মামলার আসামি চুন্নু ও তার সন্ত্রাসীরা

স্টাফ রিপোর্টার (Somoysokal) বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ৬টি হত্যা ও হত্যাচেষ্টা মামলার আসামি গডফাদার শামীম ওসমানের ক্যাডার ছাত্রলীগ নেতা বিল্লাল হোসেন রবিন ওরফে ‘ককটেল রবিন’ গ্রেফতার না হওয়ায় একের পর এক অপকর্ম করেই চলেছে। গ্রেফতার না হওয়ার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে শামীম ওসমানের আরেক সন্ত্রাসী শাহ নিজামের ক্যাডার বৈষম্যবিরোধী ছাত্রহামলার পলাতক আসামি ফতুল্লার লামাপাড়া দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী মোফাজ্জল হক চুন্নুকে সাথে নিয়ে চলতি বছরের জানুয়ারিতে গৃহবধূ  লামিয়া আক্তার ফিজা (২১) হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে ভিন্নখাতে নেয়ার চেষ্টা চলছে। সন্ত্রাসী শাহ নিজামের নাম ভাঙিয়ে সন্ত্রাসী চুন্নু, তার ভাই তোফাজ্জল, মোজাফফরসহ গোটা পরিবার সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাতো। মোফাজ্জল হোসেন চুন্নু নামটি শুনলেই এখনো ভয়ে আতকে উঠে ফতুল্লার লামাপাড়া-নয়ামাটি এলাকার  বাসিন্দারা। চাঁদাবাজি, ভূমিদস্যুতা, মাদক ব্যবসা, অস্ত্র ব্যবসা সহ এমন কোন অপকর্ম নেই যা এই চুন্নু করেনি বিগত  ফ্যাসিস্ট সরকারের শাসনামলে। শামীম ওসমানের প্রধান ক্যাডার শাহ নিজামের নাম ভাঙিয়ে স্থানীয়ভাবে দাবড়ে বেড়াতো এই সন্ত্রাসী। এখন ছাত্র-হত্যামামলার আসামি ছাত্রলীগ নেতা ককটেল রবিনের প্রত্যক্ষ মদদে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র হত্যা মামলার আরেক আসামি চুন্নুকে সাথে নিয়ে গৃহবধূ  লামিয়া আক্তার ফিজা হত্যা মামলায় আসামিদের বাঁচাতে উঠে পড়ে লেগেছে। কয়েকদিন আগে হত্যা মামলায় জামিন পাওয়া মাদকসম্রাজ্ঞী নুরুননাহার,  তার স্বামী তোফাজ্জলকে সাথে নিয়ে ককটেল রবিন আবারো লামপাড়া এলাকায় শাহনিজামের হারানো জৌলুস ফেরানোর মিশনে নেমেছেন। এতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে লামাপাড়া এলাকায়। ইতিমধ্যে একেরপর এক অপকর্ম করে পার পেয়ে যাওয়ায় বিল্লাল হোসেন রবিন ওরফে ককটেল রবিনকে গ্রেফতাদের জন্য নারায়ণগঞ্জে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরবার স্মারকলিপি দিয়েছে সচেনতন সাংবাদিক সমাজ। এছাড়াও  জেলা ও দেশের সকল গোয়েন্দাসংস্থার কাছেও ককটেল রবিনের কুকর্ম তুলে ধরে তাকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান সচেতন সাংবাদিক সমাজ। এখন গৃহবধূ লামিয়া আক্তার ফিজা হত্যা মামলাকে ভিন্নখাতে নেয়ার চেষ্টা করায় ককটেল রবিনকে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছে নিহত গৃহবধূ ফিজার পরিবারও। গত মঙ্গলবার (১৮ মার্চ) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে ফতুল্লায় গৃহবধূ লামিয়া আক্তার ফিজা (২১) হত্যার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন নিহতের স্বজনরা। তারা মানববন্ধন করে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা। এই হত্যা মামলার আসামিরা হলো, আসাদুজ্জামান ওরফে মুন্না (৩১), পিতা মনির হোসেন মনু ২. আকলিমা বেগম (৫২), স্বামী মনির হোসেন মনু, ৩. তোফাজ্জাল হোসেন (৪৮), পিতা-পুইক্কা, ৪. চুন্নু (৫০), পিতা-পুইক্কা, ৫. মুন্নী,স্বামী মুরাদ ৬.মনির হোসেন ওরফে মনু (৫৮) ৭. আব্দুর রশিদ ওরফে মিঠুন (৫০, পিতা আম্বর আলী, ৮.নূর নাহার (৪৪), স্বামী তোফাজ্জল হোসেন, ৯. রাজ্জাক (৪৫), পিতা আমিরউদ্দিন, ১০. রানা (৪০), পিতা তালেব হোসেন, ১১. রিপন (৪৪), পিতা মৃত আম্বর আলী, ১২. গোলাম রহমান জিসান (২৪), পিতা উজ্জল। ককটেল রবিনের প্রত্যক্ষ মদদে এই আসামিদের অনেকে জামিনে বেরিয়ে এসে নিহত গৃহবধূর ফিজার পরিবারকে মামলা উঠিয়ে নিতে নানা হুমকি ধমকি দিচ্ছে। এতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে ভুক্তভোগীর পরিবার। তারা বলছেন, ছাত্রলীগ ক্যাডার ককটেল রবিন শামীম ওসমানের মনোনিত হিসেবে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি হয়েছিলেন। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার পতনের ৭ মাস পরেও তাকে প্রেসক্লাব থেকে অপসারণ করেনি নারায়ণগঞ্জের নাগরিক সমাজ। এখন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে গডফাদার শামীম ওসমানের এই ক্যাডার ছাত্রলীগ নেতা ককটেল রবিন পদ পেয়েই ওসমান দোসর সন্ত্রাসীদের পুনর্বাসন করছে। এতে ব্যাপকভাবে সামনের দিকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। ককটেল রবিন প্রথমেই সন্ত্রাসী শাহনিজামের ডানহাত কুখ্যাত সন্ত্রাসী চুন্নুর পরিবারকে পুনর্বাসন করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এতে লামিয়া হত্যাকাণ্ডের বিচার বাধাগ্রস্ত হবে। সূত্র জানিয়েছে, সন্ত্রাসী চুন্নুর পরিবারকে পুনর্বাসন করতে ককটেল রবিন দফায় দফায় বৈঠক করেছে এবং নানা কূটকৌশল বাস্তবায়নে তার আস্তানায় গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল বেশ কিছুদিন ধরে।

 

প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনে লামিয়ার বড় ভাই আরাফাত আল ফাহিম বলেন, গত ২ জানুয়ারি লামিয়াকে তার স্বামী আসাদুজ্জামান মুন্না ও তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন নির্মমভাবে হত্যা করে। এটিকে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার জন্য তারা লাশ ঘরের জানালার গ্রিলের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখে। কিন্তু ময়নাতদন্ত রিপোর্টে শ্বাসরোধে হত্যার সত্যতা পাওয়ায় থানায় মামলা করা হয়। এ ঘটনার পর আসামিরা সবাই পালিয়ে যায়। পুলিশ তাদের কাউকে ধরতে পারছে না। অবিলম্বে তাদের গ্রেফতার করে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানাই।’

 

লামিয়ার মা ফাহিমা বেগম বলেন, ‘আমার মেয়ে হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী মুন্না, তার মা-বাবা ও বোনসহ স্বজনরা এখনও প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। অথচ পুলিশ প্রশাসন হাত গুটিয়ে বসে আছে। এটা কেমন আইন। মেয়ে হত্যার বিচার পেলাম না। আমি খুনিদের ফাঁসি চাই।’

 

লামিয়ার বাবা ও মামলার বাদী মীর মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘আমার মেয়ে হত্যার পর ফতুল্লা থানায় আরও তিনটি হত্যার ঘটনা ঘটেছে। সেসব ঘটনার কয়েকদিনের মধ্যে মূল আসামিদের গ্রেফতার করেছে পুুলিশ। অথচ আমার মেয়ে হত্যার আসামিদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে প্রত্যেক দফতরে দফতরে গিয়ে কান্না করতে হচ্ছে। আমার কাছে মনে হচ্ছে, এই আসামিদের ছায়া দিয়ে রেয়েছে পুলিশ।’  মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন লামিয়ার খালা সুরাইয়া আক্তার মুন্নি, মামা জাহাঙ্গীর আলম, এলাকাবাসী আলাল মাদবরসহ আরও অনেকে।

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. হাসিনুজ্জামান বলেন, ‘পারিবারিক কলহের জেরে লামিয়াকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে মূল আসামি অর্থাৎ নিহতের স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়ি ও ননদ পলাতক। তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। আসামিরা অনেক ধুরন্ধর প্রকৃতির। তারা এ ঘটনার পর থেকে মোবাইল ফোন ব্যবহার করছে না। কোনও আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতেও অবস্থান করছে না। যার কারণে তাদের অবস্থান শনাক্ত করতে কষ্ট হচ্ছে।’

 

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ‘গত ২ জানুয়ারি রাতে ফতুল্লার লামাপাড়া নয়ামাটি এলাকায় শ্বশুরবাড়ির জানালার গ্রিল থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় লামিয়ার লাশ উদ্ধার করা হয়। ওই সময় তার স্বামী আসাদুজ্জামান মুন্নাসহ শ্বশুরবাড়ির সবাই আত্মগোপনে ছিলেন।

 

নিহতের স্বজনরা অভিযোগ করেন, ‘স্বামীর বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক জেনে প্রতিবাদ করায় লামিয়াকে হত্যা করা হয়। ৬ জানুয়ারি ময়নাতদন্ত রিপোর্টে শ্বাসরোধে হত্যার বিষয়টি উঠে আসে। ৭ জানুয়ারি লামিয়ার বাবা মোহাম্মদ আলী বাদী হয়ে ১২ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন।

Leave a Reply

Back to top button