দুর্গাপূজা সফল সমাপ্তিতে সাখাওয়াতের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি : মোঃ রিদয় মল্লিক

শারদীয় দুর্গোৎসব সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় নারায়ণগঞ্জবাসী, পুলিশ প্রশাসন, জেলা প্রশাসন, বিএনপি, ফায়ার সার্ভিস, পূজা উদযাপন পরিষদসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান।
তিনি বলেন, সবার সহযোগিতা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এবার শারদীয় দুর্গোৎসব সফলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের স্বার্থে ভবিষ্যতেও এই ঐক্য ও সম্প্রীতি ধরে রাখতে হবে।
বুধবার (২১ অক্টোবর) দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন ও জেলা প্রশাসনের আয়োজনে শহরের ৫নং ঘাটে সর্বশেষ প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে এ বছরের শারদীয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে। এ সময় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরলস প্রচেষ্টায় দুর্গোৎসব সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। আনসার, বিজিবি, ফায়ার সার্ভিস, কোস্টগার্ড, মেডিকেল টিম, রেড ক্রিসেন্টসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এ উৎসব নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে সহযোগিতা করেছে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় উৎসবের সফল সমাপ্তি সম্ভব হয়েছে। এ জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তিনি আরও বলেন, নারায়ণগঞ্জের মানুষ হিসেবে তখনই আমরা সার্থক হব, যখন এ শহরকে একটি অসাম্প্রদায়িক ও সম্প্রীতির নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে পারব। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টানসহ সব ধর্মের মানুষ যেন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব পালন করতে পারেন, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্লোগান উল্লেখ করে তিনি বলেন, “ধর্ম যার যার, বাংলাদেশ সবার।” একই সঙ্গে তিনি বলেন, ধর্ম যার যার, আইনি সহযোগিতা পাওয়ার অধিকার সবার। নারায়ণগঞ্জের পুলিশ প্রশাসনসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা প্রতিটি পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে দুর্গোৎসব সফল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
গত বছরের দুর্গাপূজার প্রসঙ্গ টেনে সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, গত বছর অনেক শিল্পপতি পূজামণ্ডপে এসেছিলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছিলেন এবং বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছিলেন। কিন্তু এবার তাঁদের অনেককেই দেখা যায়নি, এমনকি সহযোগিতা করতেও এগিয়ে আসেননি। কেন এবার তাঁদের দেখা গেল না, সেই প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, “আসলে তাঁরা এসেছিলেন আপনাদের ভোটের জন্য।”
তিনি নারায়ণগঞ্জের সব ধর্মের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সম্প্রীতি ও ঐক্য বজায় রেখে ভবিষ্যতেও সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
এদিকে, বিজয়া দশমীর প্রতিমা বিসর্জন নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে বুধবার সন্ধ্যা থেকে রাত সাড়ে ৩টা পর্যন্ত শহরের ৫ নম্বর ঘাটে উপস্থিত ছিলেন সাখাওয়াত হোসেন খান। কখনো মঞ্চে, কখনো বিসর্জনস্থলে অবস্থান করে তিনি পুলিশ প্রশাসন, সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে সমন্বয় করেন। তাঁর উপস্থিতিতে শেষ প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে উৎসবের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে।
দীর্ঘ সময় ধরে নিজে উপস্থিত থেকে পুরো আয়োজন তদারকি করায় নগরবাসীর মধ্যে তাঁর এই উদ্যোগ নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা তৈরি হয়েছে। সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে উৎসবের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দায়িত্ব পালনকে অনেকে প্রশংসনীয় উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন।
এসময়ে প্রতিমা বিসর্জন ঘাটে উপস্থিত ছিলেন, নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব এড. আবু আল ইউসুফ খান টিপু, এমপি এড. আবুল কালামের রাজনৈতিক সচিব আবুল কাউসার আশা, মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম সজল, নারায়ণগঞ্জ জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সাংবাদিক শংকর কুমার দে, সাধারণ সম্পাদক শিখণ সরকার শিপন, সহ- সভাপতি তিলোত্তমা দাস, মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বিষ্ণুপদ সাহা, সাধারণ সম্পাদক সুশীল দাস, সহ- সভাপতি সাংবাদিক উত্তম কুমার সাহা, জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি প্রদীপ কুমার দাশ, মহানগরের সভাপতি লিটন চন্দ্র পাল, জেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সভাপতি কার্তিক ঘোষসহ বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ এবং প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

