আইন-আদালত

যানজট নিরসনের ধারাবাহিকতা রক্ষায় সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব দিয়ে কাজ করছেন টিআই জিয়াউদ্দিন জিয়া

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি : মোঃ রিদয় মল্লিক

 

নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমানের কঠোর নির্দেশনা এবং ট্রাফিক বিভাগের সমন্বিত প্রচেষ্টায় দীর্ঘদিনের ভোগান্তির নাম নারায়ণগঞ্জের যানজট অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। শহরের প্রাণকেন্দ্র চাষাঢ়াসহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখছেন নগরবাসী।

 

এই পরিবর্তনের নেপথ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) সোহেল এর নেতৃত্বে জেলা ট্রাফিক বিভাগের ইনচার্জ (প্রশাসন) মো. জিয়াউদ্দিন জিয়া ও তার টিম। তার সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, দায়িত্ববোধ এবং মাঠে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার কারণেই যানজট নিরসনে গতি ফিরেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

শহরের সবচেয়ে স্পর্শকাতর পয়েন্ট চাষাঢ়া। এটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের সংযোগস্থল। এখানে প্রতিদিন লাখ লাখ মানুষ ও হাজার হাজার যানবাহনের চলাচল। একটু বেখেয়াল হলেই পুরো শহর অচল হয়ে পড়ে। এই বাস্তবতা উপলব্ধি করে পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান ট্রাফিক বিভাগকে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব দিয়ে কাজ করার কঠোর নির্দেশনা দেন।

 

সেই নির্দেশনার আলোকেই ট্রাফিক ইনচার্জ মো. জিয়াউদ্দিন জিয়ার নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা যানজট নিরসনের ধারাবাহিকতা রক্ষায় দিন-রাত রাস্তায় থেকে নিষ্ঠার সাথে কাজ করে যাচ্ছেন। ফলে বর্তমানে নারায়ণগঞ্জের যানজট অনেকটাই নিরসনের পথে।

 

যাত্রীদের অভিমত, আগে যেখানে চাষাঢ়া থেকে ২নং রেলগেট বা সাইনবোর্ড যেতে ঘণ্টা পার হয়ে যেত, এখন সেখানে অনেক কম সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো যাচ্ছে। ট্রাফিক পুলিশকে আগের চেয়ে অনেক বেশি সক্রিয় ও তৎপর দেখা যাচ্ছে। এজন্য নারায়ণগঞ্জ ট্রাফিক বিভাগকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন নিয়মিত যাত্রীরা।

 

একজন নিয়মিত যাত্রী বলেন, ট্রাফিক পুলিশ এখন রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে রাস্তায় দাঁড়িয়ে হাতের ইশারায় গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করছে। বিশেষ করে টিআই জিয়া সাহেবকে মাঠে থেকে সর্বোচ্চ কঠোরতায় কাজ করতে দেখা যাচ্ছে। এতে চালকরাও নিয়ম মানতে বাধ্য হচ্ছে এবং শৃঙ্খলভাবে গাড়ি চালাচ্ছে, যার কারণে যানজট অনেকটাই কমেছে।

 

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা ট্রাফিক বিভাগের ইনচার্জ (প্রশাসন) মো. জিয়াউদ্দিন জিয়া বলেন, পুলিশ সুপার স্যারের কঠোর নির্দেশনা ও দিকনির্দেশনা আমাদের জন্য অনুপ্রেরণা। আমরা সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও দায়িত্ববোধ নিয়ে কাজ করার চেষ্টা করছি। যানজট নিরসনে আমাদের টিম ২৪ ঘণ্টা সতর্ক রয়েছে।

 

তিনি আরও বলেন, তবে কিছু প্রতিবন্ধকতা এখনো রয়ে গেছে। বিশেষ করে রাস্তার ওপরে অবৈধ হকার ও ফুটপাত দখলের কারণে যানজট পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে সমস্যা হচ্ছে। রাস্তা সরু হয়ে যাওয়ায় গাড়ি চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ, সিটি কর্পোরেশন ও জেলা প্রশাসন যদি সমন্বিতভাবে ফুটপাত দখলমুক্ত করে, তাহলে আমাদের জন্য যানজট নিরসনের ধারাবাহিকতা রক্ষা করা আরও অনেক সহজ হবে।

 

তিনি যোগ করেন, আমরা শুধু জরিমানা বা মামলায় বিশ্বাস করি না, আমরা সচেতনতায় বিশ্বাস করি। চালক ও পথচারীদের ট্রাফিক আইন মেনে চলতে উদ্বুদ্ধ করছি। তবে আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। শুধু পুলিশ নয়, নগরবাসীর সহযোগিতা পেলে নারায়ণগঞ্জকে একটি যানজটমুক্ত নগরী হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।

Leave a Reply

Back to top button